নজিরবিহীন শাস্তির পর ক্ষুব্ধ পারদেস

নজিরবিহীন শাস্তির পর ক্ষুব্ধ পারদেস

ফন্ট সাইজ:

স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ হাতছাড়ার বেদনা তো ছিলই। এরপর ফিফার কঠোর নিষেধাজ্ঞার খাঁড়ায় পড়ে আরও বিপাকে পড়েছে আর্জেন্টিনা। ফাইনালের শেষ মুহূর্তে ঘটে যাওয়া অনভিপ্রেত মারমারি ও হাতাহাতির ঘটনায় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারদেসকে এক লাফে ১০ ম্যাচের জন্য নির্বাসিত করে ফিফা ডিসিপ্লিনারি কমিটি। এই বিশাল শাস্তিকে স্রেফ ‘অতিরিক্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষুব্ধ পারদেস। সমপ্রতি বোকা জুনিয়র্সের হয়ে এক ম্যাচ খেলে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পারদেস নিজের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ফিফার এই সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি অবিচার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি বড্ড বাড়াবাড়ি।

সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, গাভি আমাকে সোজাসুজি বুকে ঘুষি মারলো, অথচ সে পেলো মাত্র এক ম্যাচের শাস্তি! তবে যা হওয়ার হয়েছে। এখন আইনজীবীরা বিষয়টি নিয়ে আপিল করবেন এবং দেখা যাক শাস্তি কমানো যায় কি না। আমার কাছে এই রায় একেবারেই মাত্রাতিরিক্ত মনে হচ্ছে।’ ফাইনালের ওই বিশৃঙ্খল ঘটনায় কেবল পারেদেসই কেবল নন, খড়গ নেমে এসেছে পুরো আলবিসেলেস্তে শিবিরের ওপর। ফাইনালে রদ্রিকে অপ্রীতিকরভাবে আক্রমণ করায় ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলনাকে ৭ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। অন্যদিকে, স্প্যানিশ শিবিরে একমাত্র শাস্তি পেয়েছেন বার্সেলোনার তরুণ মিডফিল্ডার গাভি। সতীর্থ এরিক গার্সিয়াকে পারদেসের ধাক্কা থেকে বাঁচাতে গিয়ে তিনি হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। ফলে তাকে ১ ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দুদলের শাস্তির এই আকাশ-পাতাল ব্যবধানে আর্জেন্টিনা শিবিরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেকেই ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

মাঠের পারফরম্যান্সের বাইরেও নানা বিতর্কে জড়িয়ে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার মুখে পড়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। ফিফার শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে এএফএকে মোট ২ লাখ ৭৫ হাজার ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার বেশি) জরিমানা করা হয়েছে। এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের পর মাঠের উদযাপন। ওই ম্যাচে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব দাবি করে একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন আলবিস্তেলেস্তে খেলোয়াড়রা, যা ফিফার কঠোর নিয়মের পরিপন্থী। এদিকে, ফিফার এই শাস্তিকে একপেশে ও কঠোর বলে দাবি করেছে এএফএ। এর বিরুদ্ধে খেলাধুলার দুনিয়ার সর্বোচ্চ স্বাধীন আন্তর্জাতিক আদালত কোর্ট অব অ্যাট্রিবিউশন ফর স্পোর্টস (কাস) অথবা ফিফার উচ্চতর কমিটিতে আপিল করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি।