টেস্ট ম্যাচ দ্রুত শেষ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করলেন আথারটন

টেস্ট ম্যাচ দ্রুত শেষ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করলেন আথারটন

ফন্ট সাইজ:

ঐতিহ্যগতভাবে টেস্ট মানেই পাঁচদিনের ক্লান্তিহীন লড়াই। তবে আধুনিক ক্রিকেটের গতিপ্রকৃতির পরিবর্তনে টেস্ট ম্যাচ এখন আর পাঁচ দিন পর্যন্ত গড়াচ্ছে না বললেই চলে। সমপ্রতি অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার ম্যাকাই টেস্ট মাত্র দুই দিনে শেষ হওয়ার পর বিশ্ব ক্রিকেটে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইক আথারটন পরিষ্কার ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছেন, কেন সংকুচিত হয়ে আসছে টেস্টের আয়ুষ্কাল।
ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা বৃষ্টিতে পণ্ড হওয়ার সময় স্কাই স্পোর্টসে কথা বলতে গিয়ে আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত রূপ নেয়ার পেছনের কারণগুলো তুলে ধরেন আথারটন। তার মতে, বর্তমান দশকে টেস্ট ম্যাচগুলো দ্রুত শেষ হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন।

আথারটনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এর পেছনে রয়েছে মূলত চারটি প্রধান কারণ- টি-টোয়েন্টির প্রভাবে ব্যাটারদের অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাটিং, বর্তমানে ক্রিকেট বিশ্বে এক দুর্দান্ত পেস বোলিং আক্রমণ, আম্পায়ারদের আউটের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ডিআরএস-এর প্রভাব এবং টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের যুগে পিচের চরিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন। এ বিষয়ে আথারটন বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের কারণে ব্যাটিংয়ে এখন ঝুঁকি নেয়ার প্রবণতা অনেক বেশি। আর আপনি যত বেশি ঝুঁকি নেবেন, আউট হওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়বে। বর্তমানে বিশ্ব ক্রিকেটে একঝাঁক দুর্দান্ত পেস বোলার রয়েছে। পাশাপাশি ডিআরএস বড় ভূমিকা রাখছে। এখন আম্পায়াররা আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন।’ আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) চালুর পর ঘরের মাঠের সুবিধা নিতে দলগুলো এখন অনেক বেশি পেস বা স্পিন সহায়ক পিচ তৈরি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতের ঘূর্ণি উইকেট কিংবা ইংল্যান্ডের সিমিং পিচ- সব জায়গাতেই বোলাররা এখন বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। পরিসংখ্যানও বলছে এই নাটকীয় পরিবর্তনের কথা। স্কাই স্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭০-এর দশকে যেখানে ৭৬.৬৫ শতাংশ টেস্ট পাঁচ দিন পর্যন্ত গড়াত, সেখানে ২০২০-এর দশকে এসে তা মাত্র ৪১.৪৩ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, দুই বা তিন দিনে টেস্ট শেষ হওয়ার হার ১৯৭০-এর দশকে ছিল মোটে ২.৭৯ শতাংশ, যা বর্তমান দশকে এসে দাঁড়িয়েছে ২৩ শতাংশে। এছাড়া ১৯৪৬ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে যেখানে একটিও দুই দিনের টেস্ট দেখা যায়নি, সেখানে ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত নয়টি টেস্ট মাত্র দুইদিনেই নিষ্পত্তি হয়েছে।