বাণিজ্য যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে অন্যতম ঘনিষ্ঠ দুই প্রতিবেশী দেশ। বিশ্বে সবচেয়ে দীর্ঘ স্থল সীমান্ত রয়েছে এই দু'দেশের মাঝে। দেশদুটি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র। তাদের মধ্যকার দারুণ প্রতিবেশীয় সম্পর্কে চির ধরেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ এবং কানাডার ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পণ্য ও সেবা ব্যাপকভাবে বর্জন করতে শুরু করেছেন কানাডীয়রা। প্রযুক্তি পণ্য থেকে শুরু করে হুইস্কি, মুদি সদাই এবং বিমান ভ্রমণ সব ক্ষেত্রেই মার্কিনিদের এড়িয়ে চলছেন তারা।
সম্প্রতি কানাডার ২ হাজার কোটি ডলারের পণ্যের ওপর ৫০ ভাগ শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও সমপরিমাণ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মাঝেই লেক ওন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। এসব ঘটনার জেরে কানাডাজুড়ে মার্কিনবিরোধী ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। এ খবর দিয়েছে গার্ডিয়ান। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আগ্রাসনের প্রতিবাদে ৩ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি কানাডীয় দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, তারা কীভাবে নিজেদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনেছেন। অনেকেই এখন কেবল কানাডীয় মুদি পণ্য কিনছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ পুরোপুরি বর্জন করেছেন।
নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম, অ্যাপল টিভি, ডিজনি প্লাসের মতো স্ট্রিমিং সেবা থেকে শুরু করে টেসলার মতো গাড়ি এবং মার্কিন ব্র্যান্ডের মদ কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন তারা। এছাড়া এক্স, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও এড়িয়ে চলছেন অনেকে। গত জুলাইয়ে অ্যাঙ্গাস রিড-এর এক জরিপে দেখা যায়, কানাডার ৪০ ভাগ ক্রেতা পণ্য কেনার আগে তা কোথায় তৈরি হয়েছে তা যাচাই করছেন। ‘এবিইউএস’ (এনিথিং বাট ইউএস) বা যুক্তরাষ্ট্রের সবকিছু বর্জনের এই আন্দোলন কানাডায় এখন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।
ক্যালগারির বাসিন্দা কার্ট জানান, তারা মার্কিন হুইস্কি কেনা পুরোপুরি বন্ধ করে দেশীয় পণ্যের দিকে ঝুঁকেছেন। হ্যালিফ্যাক্সের বাসিন্দা জেমস বুকান তার সব অ্যাপল পণ্য বিক্রি করে দিয়েছেন এবং মার্কিন প্রযুক্তি সেবা ব্যবহার বন্ধ করে ইউরোপীয় সেবার দিকে ঝুঁকেছেন। অনেক কানাডীয় মনে করেন, প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের আস্থার সম্পর্ক চিরতরে নষ্ট হয়ে গেছে। তারপরও তারা এই বর্জন কর্মসূচিকে কানাডার অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন। সাধারণ কানাডীয়দের মতে, এই সংকটময় পরিস্থিতি তাদের নিজেদের মধ্যে জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় করেছে।
