কলকাতার আমেরিকান সেন্টারে হামলায় দোষী সাব্যস্ত আফতাব আনসারির সেল থেকে আইফোন,ওয়াইফাই রাউটারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যোগাযোগ সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। কলকাতা প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে আনসারি যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন।
পুলিশ শনিবার জানিয়েছে, কলকাতার প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের ভেতরে ২০০২ সালের আমেরিকান সেন্টার হামলা এবং এবং খাদিম কর্তা অপহণের মূল পরিকল্পনাকারী আফতাব আনসারির সেলে পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে গত ২৩ আগস্ট আকস্মিক তল্লাশি চালিয়েছে। শুক্রবার এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
২০০২ সালের ২২ জানুয়ারি মোটরসাইকেলে আসা দুই আততায়ী আমেরিকান সেন্টারের নিরাপত্তা কর্মীদের ওপর গুলি চালালে চার পুলিশ কনস্টেবলসহ পাঁচজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আনসারির সেল থেকে উদ্ধার করা সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে তিনটি স্মার্টফোন (যার মধ্যে একটি আইফোন), তিনটি সিম কার্ড, দুটি রাউটার, একটি ওয়াই-ফাই হটস্পট, দুটি কার্ড রিডার, একটি পেন ড্রাইভ, তারবিহীন ইয়ারবাড, ওটিজি, অ্যাডাপ্টার ও ক্যাবল এবং ৩১ হাজার রুপি।
এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বন্দি আফতাব আনসারির সেল থেকে মোবাইল ফোন উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।
উল্লেখ্য,আফতাবকে প্রথম থেকেই ‘হাই সিকিউরিটি ইনমেট’ হিসাবে গণ্য করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। সেই অনুযায়ী কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয় তাকে। কারা দফতরের নথি অনুযায়ী, ২০১৩ সাল থেকে (তখন আলিপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে ছিলেন) আফতাবকে আলাদা সেলে রাখার পাশাপাশি সেই কুঠুরির বিভিন্ন দিকে ৬টি ক্যামেরাও বসানো হয়েছে ২৪ ঘণ্টা নজরদারির জন্য। সেই সঙ্গে আফতাবের সেলের পাহারার জন্য একজন আলাদা কারারক্ষী (ওয়ার্ডার) মোতায়েন করা হয়েছে।
কারাগারের ভেতরে বন্দিদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের সুপারিনটেনডেন্ট ও কন্ট্রোলারকে বরখাস্ত করার কয়েক মাস পরেই এই ঘটনাটি সামনে এসেছে।
পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারী গত মে মাসে বলেছিলেন যে, প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের ভেতরে স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন মোবাইল ফোনের ব্যাপক ব্যবহার চলছে এবং এর সঙ্গে কারাগারের কিছু কর্মকর্তা জড়িত। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু ১৪ মে প্রেসিডেন্সি কারাগারে কলকাতা পুলিশের তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছিল ২৩টি মোবাইল ফোন। তবে সেই তল্লাশিতে কোন কোন বন্দির কাছ থেকে মোবাইল উদ্ধার হয়েছিল তা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগে জানায়নি কারা কর্তৃপক্ষ।
প্রশ্ন উঠেছে, কড়া নিরাপত্তা সত্বেও আফতাবের কাছে এত মোবাইল ফোন ও যোগাযোগের সরঞ্জাম পৌঁছালো কী করে? কাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতো আফতাব?
কারাগারে বন্দিদের হাতে কীভাবে মোবাইল পৌঁছোচ্ছে, সেখান থেকে বন্দিরা কাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এ নিয়ে সিআইডি তদন্ত করছে। অথচ তারাও আফতাবের নেটওয়ার্কের খবর জানতো না। গোয়েন্দাদের চিন্তায় ফেলেছে আফতাবের কাছে থাকা নগদ অর্থ।
