মালয়েশিয়ার তেরেঙ্গানু রাজ্যের খেমামান জেলায় একজন স্থানীয় শারীরিক প্রতিবন্ধী (ওকেইউ) নারীর ওপর মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীর আক্রমণের ঘটনার জেরে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিবাদে এবং এলাকায় অননুমোদিত অভিবাসীদের (পিএতিআই) উপস্থিতি দমনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল (উম্নো), পাস এবং ২০টিরও বেশি এনজিও একত্রিত হয়ে একটি বিশাল শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেছে। দেশটির সিনার হারিয়ান গত শুক্রবার তেরেঙ্গানুর চুকাই শহরের দাতারান আস্তাকায় ‘খেমামান বেবাস পাতি’ (অবৈধ অভিবাসীমুক্ত খেমামান) শীর্ষক এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে মার্শাল আর্ট (সিলাত) সংগঠন, স্থানীয় প্রতিবেশী সংস্থা (কেআরটি) এবং গ্রামপ্রধান সহ প্রায় ৫০০ জন স্থানীয় মালয় অংশ নেন।
সমাবেশের সমন্বয়কারী মোহামদ তাকিয়ুদ্দিন মোহামদ শাফি হারিয়ানা মেট্রোকে জানিয়েছেন, সম্প্রতি প্রতিবন্ধী নারীর ওপর ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত অপরাধমূলক ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড় তুলেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ না করে আইনের সঠিক পথ অনুসরণ করে জনগণের ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়া রয়েল পুলিশ (পিডিআরএম) ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (কেডিএন) দৃষ্টি আকর্ষণ করে সমাবেশে পেশ করা ৬ দফা মূল দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে;
বিশেষ পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন: পুলিশের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা, যা স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিদেশিদের আবাসন ও ভাড়ার বৈধ কাগজপত্র পরীক্ষা করার সুযোগ দেবে।
নিয়মিত তল্লাশি ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ: ইমিগ্রেশন বিভাগ এবং পুলিশের যৌথ উদ্যোগে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে বৈধ কাগজপত্র ও পারমিটহীন ব্যক্তিদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করা। এছাড়া, রোহিঙ্গা ও অন্যান্য অননুমোদিত অভিবাসীদের বসতি এবং সার্বিক অবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা।
আইন প্রয়োগে কোনো শিথিলতা না রাখা: অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসী বা শরণার্থীদের বিরুদ্ধে দেশের বলবৎ আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। অবৈধ অভিবাসীদের কাজ, বাসস্থান বা আশ্রয়দানকারী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ। এবং সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে উপস্থাপন: বিষয়টি তেরেঙ্গানু রাজ্য এক্সকো ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার রুলার্স কাউন্সিলের এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করা বলে জানিয়েছে সিনার হারিয়ান। আয়োজকরা পুলিশ ও প্রশাসনিক নির্দেশিকা মেনে এই দাবিগুলো জমা দিয়েছেন এবং স্থানীয় নাগরিকদের অনলাইন পিটিশনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এ সমাবেশ থেকে।
