সাবেক সতীর্থ ও অধিনায়ক ইমরান খানের কারাবাস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ব্যাটার জাভেদ মিয়াঁদাদ। ইমরান কোনো দুর্নীতিতে জড়িত নন দাবি করে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
২০২৩ সাল থেকে দুর্নীতি মামলায় কারাগারে বন্দি আছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সম্প্রতি ইসলামাবাদের একটি মেডিকেল পরীক্ষা শেষে তাকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে ফিরিয়ে নেয়া হয়। এরপর মিয়াঁদাদের এই আবেগঘন মন্তব্য সামনে আসে। ইমরানের চরিত্র ও সততার পক্ষে জোরালো সাফাই গেয়ে ‘ন্যারেটিভ’ ইউটিউব চ্যানেলে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, ‘সে একজন সৎ মানুষ। সে কখনো দুর্নীতি করতে পারে না, তা না হলে সে আরও অনেক কিছু করতে পারত। তাকে বাইরে ছেড়ে দিলে এমন কী এমন ক্ষতি হয়ে যাবে? সে কি কাউকে আঘাত করবে? সেও তো কারও না কারও সন্তান। সে একা কারাগারে কী করছে, তা ভেবে আমার বুক ফেটে যায়।’
এদিকে, আদালতের নির্দেশের পরও পছন্দমতো চিকিৎসক না পাওয়ায় ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তার দল ও পরিবারের সদস্যরা। লর্ডস টেস্ট চলাকালীন সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার মাইকেল আথারটনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইমরানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম জানান, তাদের বাবাকে দিনে প্রায় ২৩ ঘণ্টা একা রাখা হচ্ছে এবং তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে।
১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে পাকিস্তানের ক্রিকেটকে বিশ্বমঞ্চে শক্তিশালী দল হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধান ভূমিকা রাখেন মিয়াঁদাদ ও ইমরান। বিশেষ করে ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুর ধাক্কা সামলে তাদের ১৩৪ রানের ঐতিহাসিক জুটিই পাকিস্তানকে প্রথমবারের মতো শিরোপা এনে দেয়।
এদিকে লর্ডসে বৃটিশ গণমাধ্যমে দেয়া ইমরানের ছেলেদের ওই সাক্ষাৎকার ঘিরে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কাসিম খান সরাসরি অভিযোগ করে বলেছেন, ‘তারা খুব স্পষ্টভাবে যা করছে, তা হলো জেলের ভেতরে তাকে তিলে তিলে হত্যার চেষ্টা। তারা যত দ্রুত সম্ভব তাকে আটকে রেখে চিরতরে চুপ করিয়ে দিতে চায়।’
