ভারতে সোনিয়া গান্ধীর আসন্ন স্মৃতিকথা নিয়ে জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, পান্ডুলিপি পর্যায়ে তিনটি নির্দিষ্ট অংশ নিয়ে কংগ্রেস নেত্রী ও পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়ার মধ্যে মতপার্থক্য তীব্র হয়েছিল। এরপরই প্রকাশক সংস্থাটি ভারতে বইটি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কংগ্রেসের সূত্র জানিয়েছে, যে বিষয়গুলো নিয়ে প্রকাশক সংশোধন চেয়েছিল সেগুলো হলো, ভারতের সীমান্তে চীনের অনুপ্রবেশ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্ব ও কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি এবং ভারতের সামাজিক ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) এর ভূমিকা। সূত্রগুলোর মতে, বইটিতে ভারতীয় ভূখণ্ডে চীনের অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে সোনিয়া গান্ধী এবং তার পুত্র তথা লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস দল সংসদ ও সংসদের বাইরে বারবার উত্থাপন করেছে। সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে যে, সোনিয়া গান্ধী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্ব ও কাজের ধরন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এছাড়া জাতীয় বিষয়াবলি ও ভারতের সামাজিক কাঠামোর ওপর ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির আদর্শগত অভিভাবক রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এর প্রভাব সম্পর্কে সোনিয়া গান্ধীর নিজস্ব মতামত এই স্মৃতিকথায় তুলে ধরা হয়েছে।
সোনিয়া গান্ধীর এক সহযোগী জানিয়েছেন, বইটিতে মোদির সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠকের কথা এবং মোদির করা বিভিন্ন মন্তব্যের উল্লেখ রয়েছে। জানা গেছে, এর মধ্যে ২০০৪ সালে গুজরাটে আয়োজিত এক জনসভায় মোদির সোনিয়াকে ‘জার্সি গাভী’ বলে অভিহিত করার বিষয়টিও রয়েছে। তিনি নিশ্চিতভাবেই প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে তার নিজস্ব ধারণা এবং তাদের সাক্ষাতের সময়কার বিস্তারিত ঘটনা এতে তুলে ধরেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন রাজনীতিতে তার দীর্ঘ কর্মজীবন বইটিতে বিস্তৃতভাবে জায়গা পেয়েছে।
প্রকাশক এই অংশগুলি পরিবর্তন বা বাদ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছিল বলে ভারতের মিডিয়ায় জোর আলোচনা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, ৭৯ বছর বয়সী সোনিয়া গান্ধী অনড় ছিলেন যে এটি তার নিজের জীবনের গল্প। তাই নিজের জীবনের এই বয়ানে কোনো ধরনের বিকৃতি ঘটতে দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ‘বিলংগিং: আ জার্নি অফ লাভ’ বইটিতে সোনিয়া গান্ধীর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়- যুদ্ধপরবর্তী ইতালিতে তার শৈশব, ভারতে আগমন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সঙ্গে বিবাহের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বইটিতে তার জীবনের অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও আলোচিত ঘটনাগুলো, যেমন, সঞ্জয় গান্ধী, ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর মৃত্যু নিয়েও আলোচনা থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া এতে তার জনজীবনে প্রবেশ এবং ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের কেন্দ্রবিন্দুতে কাটানো সময়গুলোর কথাও উঠে আসবে।
২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (ইউপিএ) ক্ষমতায় আসার পরেও প্রধানমন্ত্রী না হওয়ার যে সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন, বইটিতে সেই প্রসঙ্গটিও উঠে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক প্রকাশক আলফ্রেড এ. নফ বইটিকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নারী নেত্রীর লেখা একটি অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক স্মৃতিকথা হিসেবে অভিহিত করেছে, যা প্রেম, পরিবার এবং এক অশেষ আকর্ষণীয় দেশ ভারতের এক অত্যন্ত উপভোগ্য কাহিনি তুলে ধরেছে।
শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে দেয়া এক বিবৃতিতে পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এমন কোনো ধারণা বা দাবি সঠিক নয় যে, লেখক সম্পাদনা সংক্রান্ত পরিবর্তন মেনে নিতে রাজি হননি বলেই ‘বিলংগিং’ বইটি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া। জানানো হয়েছে, প্রকাশক হিসেবে তথ্য যাচাই করা এবং বইয়ের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় লেখকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া উভয়ই আমাদের অধিকার ও দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। এটি প্রকাশনা প্রক্রিয়ারই একটি স্বাভাবিক অংশ। পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়ার অবস্থান ছিল যে, আমরা বইটি প্রকাশ করতে আগ্রহী ও ইচ্ছুক ছিলাম। লেখকের সাথে হওয়া গোপনীয় আলোচনা নিয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করব না।
তবে বিশ্বখ্যাত আমেরিকান প্রকাশক ‘আলফ্রেড এ. নফ’ সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে বইটি ১০ নভেম্বর প্রকাশ হবে। ভারতে বইটি শেষ পর্যন্ত কারা প্রকাশ করবে তার নিয়ে প্রবল কৌতুহল তৈরি হয়েছে। পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া সরে দাঁড়ানোর পর এখন বেশ কয়েকটি ভারতীয় প্রকাশনা সংস্থা এই দৌড়ে শামিল হয়েছে। ভারতে বইটির প্রকাশ ও বিতরণের বিষয়ে হার্পারকলিন্স একটি চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সোনিয়া গান্ধীর স্মৃতিকথা নিয়ে বিতর্ক কেন?
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা
ভারত
২ ঘন্টা আগে
২৯ আগস্ট (শনিবার), ২০২৬, ৯ঃ৩৬ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
