গত কয়েকদিন ধরে নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন। মূল্যবৃদ্ধির যাঁতাকলে পিষ্ট নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। এক মাসে প্রতি কেজি পোলাও চালের দাম বেড়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। মাছ-মাংস কেনা অনেকের কাছেই এখন বিলাসিতার মতো। পোলাও চালের দাম বাড়ায় বিরিয়ানির মতো খাবার পরিণত হয়েছে উচ্চবিলাসিতায়। এদিকে বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমলেও অস্থিরতা বেড়েছে নিত্যপণ্যের দামে। বিশেষ করে, চিনি, আটা, ময়দা, ডিমসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহে চিনির দাম কেজি প্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে ।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে ব্র্যান্ডভেদে প্যাকেটজাত পোলাও চাল কেজিপ্রতি সর্বনিম্ন ২১০ থেকে সর্বোচ্চ ২৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খোলা পোলাও চালের দামও বেড়েছে। বাজারভেদে তা বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি।
পোলাও চালের পাশাপাশি বাড়ছে মুদি পণ্যের দামও। বর্তমানে প্যাকেটজাত ময়দা প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ১৫ থেকে ২০ দিন আগেও একই ময়দা ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। চিনির বাজারেও দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। রাজধানীর খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। প্যাকেটজাত চিনির গায়েও সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২০ টাকা করা হয়েছে।
বাজারের মালিক ওমর ফারুক রাহিম বলেন, এক মাস আগেও আমরা যেসব প্যাকেট পোলাওয়ের চাল ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করতাম এখন সেই প্যাকেটের দাম ২২০ থেকে ২৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে হচ্ছে। খোলা পোলাও চাল ১৯০-২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, এক মাস আগেও এটার দাম ছিল সর্বোচ্চ ১১০ টাকা পর্যন্ত। তিনি আরও বলেন, পাইকারি বাজারে শোনা যাচ্ছে রপ্তানির কারণে পর্যাপ্ত চাল পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু মিল মালিক চাল মজুত করে রেখেছে এবং দাম বাড়িয়ে পরিস্থিতির সুযোগ নেয়ার চেষ্টায় রয়েছে। এখনো চাহিদা অনুযায়ী চাল পাওয়া যাচ্ছে না।
সবজিতে কিছুটা স্বস্তি: মুদি পণ্যের বিপরীতে বাজারে কিছুটা কমেছে সবজির দাম। কয়েক সপ্তাহ আগে সরবরাহ সংকটের কারণে অনেক সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
বর্তমানে কয়েকটি সবজির দাম কমলেও বেশির ভাগ সবজিই এখনো সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে। রাজধানীর খুচরা বাজারে বেগুন, করলা, বরবটি, ঢেঁড়স, পটোল ও কাঁকরোলসহ অধিকাংশ সাধারণ সবজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শসা তুলনামূলক কম দামে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি পাওয়া যাচ্ছে। তবে দেশি শসার দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা। বর্ষা মৌসুমে বাজারে আসা শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে-প্রতি কেজি ৩০ টাকা।
বাজারে লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলা ৮০ টাকা কেজি। লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচামরিচের দাম অবশ্য কিছুটা কমেছে। ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির সুযোগ দেয়ার পর সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীর বাজারে এখন প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পিয়াজের দাম মানভেদে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি। আলুর দামও দীর্ঘদিন ধরে প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে-প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা।
সবজি ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদ বলেন, ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির সুযোগ দেয়ার পর বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। এ কারণে কাঁচামরিচের দামও অনেকটা কমেছে। অতিবৃষ্টির কারণে সবজির দাম বাড়ছে। উৎপাদন বাড়লে সবজির দাম কম থাকে।
আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে মুরগির দাম। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের দামও আগের উচ্চমূল্যেই রয়েছে- প্রতি ডজন ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও নেই স্বস্তি। অধিকাংশ মাছই বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙ্গাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাবদা প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মিগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের কই পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৩০০ টাকা কেজি। পোয়া ৩৬০ টাকা এবং শইল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে কেজিপ্রতি গুনতে হচ্ছে ১ হাজার টাকার বেশি। মাছের আকার, জীবিত না মৃত- এসবের ওপর দামের পার্থক্য হচ্ছে। বাজারভেদে একই মাছের দামে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমবেশি রয়েছে।
