সরকার সারা দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসার করতে চাচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী রুফটপ সোলার সমপ্রসারণ, স্থানীয় পর্যায়ে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং একটি কার্যকর সোলার সেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এমন তথ্য দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ।
সরকার রুফটপ সোলারে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রণোদনা, কর ও শুল্ক সুবিধা, সহজ ও স্বল্পসুদে অর্থায়ন এবং নতুন ও উদ্ভাবনী উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্টআপ অর্থায়নের সুযোগ সমপ্রসারণের বিষয়েও কাজ করছে। মন্ত্রণালয় জানায়, এই উদ্যোগের আওতায় জেলা ও ভৌগোলিক এলাকাভিত্তিক যোগ্য সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্ত করা হবে, যারা স্থানীয় পর্যায়ে রুফটপ সোলারসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি স্থাপনে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক প্যাকেজ, গ্রাহকসেবা এবং পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা প্রদান করবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাসমূহ আজ সারা দেশে একযোগে সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্তির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এই নতুন কাঠামোর মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, তরুণ, নারী উদ্যোক্তা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
একই সঙ্গে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয় পর্যায়ের অভিজ্ঞ কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নিজেদের প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা উন্নয়ন করতে পারবে বলে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তারা বলেন, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সার্ভিস প্রোভাইডার নির্বাচন করা হবে। এ ছাড়া, সরকার রুফটপ সোলারে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রণোদনা, কর ও শুল্ক সুবিধা, সহজ ও স্বল্প সুদে অর্থায়ন এবং নতুন ও উদ্ভাবনী উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্টআপ অর্থায়নের সুযোগ সমপ্রসারণের বিষয়েও কাজ করছে।
বিশেষভাবে গ্রামীণ ও অপেক্ষাকৃত দূরবর্তী এলাকার গ্রাহক ও উদ্যোক্তাদের এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে রুফটপ সোলার থেকে ৫,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
