বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা। চট্টগ্রাম নগর বিএনপি’র কার্যালয় কাজীর দেউড়ি নাসিমন ভবনের সামনে আসছে একের পর এক মিছিল। চলছে মুহুর্মুহু স্লোগান। উপস্থিত প্রায় সবাই চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী। মহানগর যুবদলের বিলুপ্ত কমিটি পুনর্বহাল করায় কেন্দ্রীয় বিএনপিকে কৃতজ্ঞতা জানাতে জড়ো হয়েছেন তারা। এরপর ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে করেছেন আনন্দ মিছিল। সেই মিছিলে প্রকম্পিত হয়েছে কাজীর দেউড়িসহ আশপাশের এলাকা। প্রায় ২৩ মাস পর চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের বিলুপ্ত কমিটি পুনর্বহাল করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। একইসঙ্গে মহানগরের ১৫টি থানা ও ১৭টি ওয়ার্ডের বিলুপ্ত কমিটিও পুনর্বহাল করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর কমিটি ফিরে পাওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন নেতাকর্মীরা। এর আগে, ২০২৪ সালের ২১শে সেপ্টেম্বর মেয়াদোত্তীর্ণের কারণ দেখিয়ে মহানগর যুবদল এবং এর অধীন সব থানা ও ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল।
সূত্র মতে, নতুন নেতৃত্বের উদ্যোগ হিসেবে ২০২৫ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি পদপ্রত্যাশী ৩২ নেতার সাক্ষাৎকারও নেয় কেন্দ্রীয় যুবদল। তবে প্রায় দুই বছরেও নতুন কমিটি ঘোষণা না হওয়ায় নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে সংগঠনটি। তৈরি হয় তৃণমূলের হতাশা। এই অবস্থায় হঠাৎ মোশাররফ হোসেন দীপ্তি ও মোহাম্মদ শাহেদের নেতৃত্বাধীন বিলুপ্ত কমিটি পুনর্বহাল করে কেন্দ্রীয় সংগঠন। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি পুনর্বহালের কথা জানানো হয়। কমিটি পুনর্বহালের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পুনর্বহাল হওয়া কমিটির নেতারা। তাদের দাবি, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত নেতাদের ওপর আস্থার প্রতিফলন এই সিদ্ধান্ত। পুনর্বহাল কমিটির দপ্তর সম্পাদক সাগির মাহমুদ মানবজমিনকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কমিটি ছিল না। যে কারণে নেতাকর্মীরা অনেকটা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। এরপরও আমরা তাদের মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা করেছি।
এখন আগের কমিটি ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ্ আমরা সবাইকে নিয়ে আবার কাজ করতে পারবো। চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সহ-সভাপতি শাহেদ আকবর বলেন, আমরা চিন্তা করেছিলাম একটি নতুন নেতৃত্ব আসবে। কিন্তু নতুন নেতৃত্ব আসার মধ্যদিয়ে দেখতে পেলাম ‘কোটা’ প্রথার চিন্তাধারা চলে এসেছে। কিছু কিছু নেতা তাদের ঘরের কর্মচারীদেরও এই যুবদলে আনার জন্য আমাদের প্রকৃত যুবদলকে বাদ দিতে চেয়েছিল। এখন প্রধানমন্ত্রীর আস্থা আমরা যারা দীর্ঘ সময় রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি তাদের প্রতি। এদিকে, বিলুপ্ত কমিটি পুনর্বহালের কারণে নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশায় থাকা নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তাদের দাবি, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দীর্ঘ সময় পর পুনর্বহাল করায় নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ বাধাগ্রস্ত হবে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়বে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের সাবেক এক নেতা বলেন, আমরা আশা করেছিলাম নতুন একটা নেতৃত্ব আসবে। ত্যাগী ও মেধাবী সাবেক ছাত্রদল নেতাদের সেই সম্ভাব্য কমিটিতে রাখার কথা ছিল।
এখন বিতর্কিত আগের সেই বিলুপ্ত কমিটিকেই পুনর্বহাল করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা হতাশ। আরেক পদপ্রত্যাশী সাবেক ছাত্রদল নেতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রামে ছিলাম। ভেবেছি এবার যুবদলের কমিটিতে সম্মানজনক পদ পাবো। কিন্তু সেই পুরাতন কমিটিকেই ২৩ মাস পর আবার নাজিল করা হয়েছে। এ রকম হলে দলে নতুন নেতৃত্ব কীভাবে আসবে। এদিকে, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের পুনর্বহাল কমিটির সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি পুরনো নেতাকর্মী ও তৃণমূলের তরুণ নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছিল। কমিটি পুনর্বহালের মাধ্যমে যুবদলের রাজনীতিতে আবার প্রাণ ফিরে এসেছে। মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বলেন, দুই বছর আগে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের কমিটি বাতিল করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল কিংবা আমাদের কোনো নেতাকর্মীর ওই ঘটনার জন্য দায় নেই বলে প্রতিবেদন দেয়া হয়। তিনি বলেন, একটি সংগঠনে দুই বছর সাংগঠনিক কাঠামো না থাকার পরও ঐক্যবদ্ধ থাকা অনেক বড় ব্যাপার। এজন্য সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আজ দল আমাদের প্রতি আস্থা রেখেছে। এ আস্থার প্রতিদান দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। শতভাগ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আমরা দলের দায়িত্ব পালন করবো।
