রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের গোলাগুলিতে শিশু নিহত, মা ও ছেলেসহ আহত ৭

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের গোলাগুলিতে শিশু নিহত, মা ও ছেলেসহ আহত ৭

ফন্ট সাইজ:

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ফের গোলাগুলির ঘটনায় মোজাহেদ নামে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা তাহেরা বেগমসহ আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন নারী রয়েছেন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত কুতুপালং ক্যাম্প-৮ ইস্টের বি-৪০ ও বি-৪১ ব্লক এলাকায় এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ সময় ধরে গুলির শব্দে পুরো ক্যাম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অনেক রোহিঙ্গা ঘরের ভেতরে অবস্থান নেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোলাগুলির সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয় পাঁচ বছর বয়সী মোজাহেদ। সে ক্যাম্পের বাসিন্দা নুর আলমের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আহতদের মধ্যে শিশুটির মা তাহেরা বেগমও রয়েছেন। প্রথমে আহতদের কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে কয়েকজনের অবস্থার অবনতি হলে তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তিন নারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ক্যাম্পের বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বি-৪০ ও বি-৪১ ব্লক এলাকায় গোলাগুলি শুরু হয়। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত দফায় দফায় গুলির শব্দ শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শতাধিক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ ১২০ থেকে ২০০ রাউন্ড পর্যন্ত গুলি ছোড়ার কথা জানিয়েছেন। তবে গুলির প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উখিয়ায় দায়িত্বে থাকা ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) উপ-অধিনায়ক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ক্যাম্প-৮ ইস্টের বি-৪০ ও বি-৪১ ব্লক এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন শিশু নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ) ও রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) সদস্যদের মধ্যে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তবে গোলাগুলির কারণ এবং কারা এতে জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে ক্যাম্পে একের পর এক গোলাগুলির ঘটনায় সাধারণ রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি ক্যাম্প সংলগ্ন স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষের প্রভাব ক্যাম্পের বাইরেও পড়েছে। ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান ও নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।