ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে রাজশাহী রামেকে চিকিৎসাধীন ৪৮ রোগী

ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে রাজশাহী রামেকে চিকিৎসাধীন ৪৮ রোগী

ফন্ট সাইজ:

ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে রাজশাহী। প্রতিদিনই হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ৪৮ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ২১ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ কীটতাত্ত্বিক জরিপে এডিস মশার প্রজনন ঘনত্বেও ব্রেটো সূচক পাওয়া গেছে ৬১ দশমিক ৩৩। রাজশাহীতে মে মাসে একই সূচক ছিল ৩০ দশমিক ৬৬। অর্থাৎ স্বল্প সময়ের ব্যবধানে নগরীতে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার ঘনত্ব প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্রেটো সূচক ২০-এর বেশি হলে কোনো এলাকা ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে বিবেচিত হয়। সেই হিসাবে রাজশাহীর বর্তমান সূচক উচ্চ ঝুঁকির সীমার তিন গুণেরও বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে চলতি আগস্ট মাসে নগরীর কাজিহাটা, চণ্ডীপুর, উপরভদ্রা, নামোভদ্রা ও হাজরাপুকুর এলাকায় কীটতাত্ত্বিক জরিপ চালানো হয়।

জরিপে ৭৫টি বাড়ি পরিদর্শন করে ২৪টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এতে বাড়ির সূচক দাঁড়িয়েছে ৩২ শতাংশ। একই সময়ে ৬৮টি পানি ধারণকারী পাত্র পরীক্ষা করে ৪৬টিতে মশার লার্ভা পাওয়া যায়। পাত্রের সূচক দাঁড়িয়েছে ৬৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। বিভিন্ন প্রজননস্থল থেকে সংগ্রহ করা ৬৮৫টি মশার লার্ভার মধ্যে ৫০৫টি ছিল এডিস অ্যালবোপিকটাস, ৮৬টি এডিস ইজিপ্টি এবং ৯৪টি অন্যান্য প্রজাতির মশার লার্ভা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এডিস মশার প্রজননস্থল হিসেবে ব্যবহৃত এসব স্থানে সামান্য পানি জমে থাকলেও সেখানে লার্ভা তৈরি হতে পারে। ফলে শুধু বড় জলাশয় বা নোংরা স্থানে অভিযান চালিয়ে এডিস নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; বাড়ি ও আশপাশের ছোট ছোট পানি জমার স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, রাজশাহীতে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। রাজশাহীর সর্বশেষ ব্রেটো সূচক ৬১ দশমিক ৩৩, যা উচ্চ ঝুঁকির নির্ধারিত সীমার তিন গুণের বেশি। এডিসের বিস্তারের পাশাপাশি রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ই জুন একজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। ৩০শে জুলাই সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ জনে। গতকাল চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৪৮ জন। রাজশাহী জেলা কীটতত্ত্ববিদ উম্মে হাবিবা বলেন, বছরের পর বছর ধরে নগরীতে মশার লার্ভা ও পূর্ণাঙ্গ মশার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পানি জমে থাকতে পারে এমন বিভিন্ন সাধারণ গৃহস্থালি সামগ্রীতেও এডিসের লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে। জনসচেতনতা ছাড়া এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালের প্রস্তুতি রয়েছে। এখন বৃষ্টির সময়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলার বলেন, সিটি করপোরেশনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ডেঙ্গু পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়, তবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে।