চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ড্রয়ের আগের রাতে মোনাকোয় যখন ইউরোপিয়ান ফুটবলের শীর্ষ কর্তারা এক বারবিকিউ ডিনারে ব্যস্ত, তখন পর্দার আড়ালে তৈরি হচ্ছিল এক রাজনৈতিক ও আইনি নাটক। ইএসপিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে দুই ভিন্ন বিচারব্যবস্থায় দুটি বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে উয়েফা। সুইজারল্যান্ডে অপরাধমূলক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এবং ফ্লোরিডার আদালতে ডিজিটাল প্রমাণ জব্দের আবেদন- সব মিলিয়ে ফিফা প্রধানকে কোণঠাসা করার বড় চাল চেলেছে ইউরোপের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
এর আগে ফিফার একটি ব্যক্তিগত ইক্যুইটি প্রস্তাবের প্রতিবাদে বয়কটের ডাক দিলেও, অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে সেই বয়কট তুলে নেয় উয়েফা। তাদের দাবি ছিল, ফিফার কাছ থেকে এমন ‘আইনি নিশ্চয়তা’ পাওয়া গেছে যে ভবিষ্যতের কোনো বাণিজ্যিক স্বার্থ বিক্রি বা প্রাইভেট ইক্যুইটির মতো বিতর্কিত পরিকল্পনা আর কখনো বিবেচনা করা হবে না। তবে মোনাকোর সেই শান্ত পরিবেশের আড়ালেই তৈরি হচ্ছিল এই আইনি প্রক্রিয়া।
সুইজারল্যান্ডের ফৌজদারি কোডের ১৫৮ ধারায় দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ফিফার বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ২০ শতাংশ জশুয়া কুশনারের থ্রাইভ ক্যাপিটালের কাছে বিক্রি করার গোপনীয় প্রক্রিয়ায় ফিফা কাউন্সিলকে পাশ কাটিয়ে আইনগত দায়িত্ব লঙ্ঘন করেছেন ইনফান্তিনো। বিশেষ করে, যে সময়ে ফিফার রাজস্ব ছিল ১৫ বিলিয়ন ডলার, সেখানে মাত্র ২০ বিলিয়নে এই চুক্তি করার পেছনে কোনো দরপত্র বা উন্মুক্ত আহ্বান না জানানোটাই বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলেছে। সুইজারল্যান্ডের এই মামলার পাশাপাশি ফ্লোরিডার আদালতে সেকশন ১৭৮২-এর অধীনে আবেদন করা হয়েছে, যাতে ইনফান্তিনোর ফোন রেকর্ড, ইমেল এবং অন্যান্য গোপন দলিলপত্র জব্দের আইনি আদেশ পাওয়া যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব আইনি লড়াইয়ের মূল লক্ষ্য হয়তো সরাসরি আদালত নয়, বরং ইনফান্তিনোর আসন্ন মার্চ মাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ভন্ডুল করা। আগামী মার্চে ফিফা নির্বাচনে নামার আগে এসব আইনি মারপ্যাঁচ সামলাতে গিয়ে ইনফান্তিনোর বিশ্বব্যাপী নির্বাচনী প্রচার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। এ ক্ষেত্রে এশিয়ান কনফেডারেশন (এএফসি) এবং উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (কনকাক্যাফ) একটি বড় অংশেরও সমর্থন রয়েছে উয়েফার পেছনে।
উয়েফা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইনফান্তিনো যদি পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে উয়েফা অন্যান্য কনফেডারেশনের সঙ্গে মিলে একজন সৎ ও স্বচ্ছ বিকল্প প্রার্থী খুঁজবে। আর যদি পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে, তবে ডিসেম্বরের ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ কিংবা ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপ বয়কটের ‘পারমাণবিক বোতাম’ টেপতেও পিছপা হবে না তারা।
