মালয়েশিয়ায় থাকা ৫ হাজার মিয়ানমার নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার প্রথম পর্যায় শুরু হচ্ছে চলতি বছরের আগামী ২৯শে সেপ্টেম্বর থেকে। প্রথম ধাপে ১ হাজার ৪৭৬ জন মিয়ানমার নাগরিককে (যাদের বড় একটি অংশ রোহিঙ্গা) সমুদ্রপথে দুটি যুদ্ধজাহাজ এবং একটি হাসপাতাল জাহাজে করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে।
দেশটির ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে, দি ষ্টারসহ প্রায় সব ক'টি গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, দেশটির স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এনএসসি) সমন্বিতভাবে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে। লজিস্টিক ও সব ধরনের নিরাপত্তা ও সমন্বয় ব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, গত ১৩ই আগস্ট মিয়ানমার সরকারের পাঠানো একটি কূটনৈতিক বার্তার মাধ্যমে এই ১ হাজার ৪৭৬ জন নাগরিকের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে ১০ হাজার ৩৮৮ জন মিয়ানমার নাগরিক আটক রয়েছে। তবে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, আটক এই বিপুল সংখ্যার সবাই শরণার্থী নয়, এটি কেবল আটক মিয়ানমার নাগরিকদের সামগ্রিক পরিসংখ্যান।
মালয় মেইল তাদের এক সংবাদে জানিয়েছে, একই সাথে মালয়েশিয়া সরকার চলতি বছর ৪ হাজার ৮ জন মিয়ানমার নাগরিককে 'রিফিউজি রেজিস্ট্রেশন ডকুমেন্ট' (ডিপিপি) নামক বিশেষ নিবন্ধনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ (চতুর্থ ত্রৈমাসিক) তাদের নিবন্ধন সম্পন্ন হবে। পরবর্তীতে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া অন্যান্য নথিপত্রহীন অভিবাসী, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (আনছার) এর কার্ডধারী এবং নিজেদের শরণার্থী দাবি করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও কার্যকর করা হবে।
ডিটেনশন কার্ড বা ‘ডিপিপি’ পাওয়া ব্যক্তিরা মালয়েশিয়া সরকারের কড়া নজরদারি এবং নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে সাময়িকভাবে বসবাসের অনুমতি পাবেন। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে জানিয়েছে, এই নিবন্ধনের অর্থ এই নয় যে মালয়েশিয়া ১৯৫১ সালের জাতিসংঘ শরণার্থী কনভেনশনে অনুস্বাক্ষর করেছে বা এটিকে স্বীকৃতি দিচ্ছে বলে জানিয়েছে ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসের শেষের দিকে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দীন নাসুশন ইসমাইল জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ৫ হাজার মিয়ানমার নাগরিককে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে যাচাই-বাছাই ও স্ক্রিনিংয়ের কাজ শুরু করেছিল মালয়েশিয়া প্রশাসন। সেই পরিকল্পনারই বাস্তবায়নে এবার প্রথম ধাপে সেপ্টেম্বর থেকে প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে।
