কাঁদছে নেপাল। লাশের পর লাশ। অসংখ্য নিখোঁজ। বাড়িঘর, লোকালয় কাদামাটির নিচে। গাড়ি, সহায় সম্পদ কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। আপনজনের কোনো খোঁজ নেই। হতবিহ্বল নেপালিরা অভিশপ্ত ভোতেকোশে নদী, লেন্দে নদীর নিষ্ঠুরতায় ভাষাহারা। তারা চিৎকার করে কান্নার শক্তিও যেন হারিয়ে ফেলেছেন। হলিউডের সিনেমার চেয়েও ভয়াবহ, প্রলয়ঙ্করী হিমবাহ, বন্যা, ভূমিধস চোখের নিমিষে কেড়ে নিয়েছে সব। কিচ্ছু নেই তাদের অবশেষ। গ্রাস করেছে বাড়িঘর, হাটবাজার, পাকা দালান। কোনো কিছুই রেহাই পায়নি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই এই প্রলয় ভাসিয়ে নিয়েছে হাজারের উপরেরও বেশি মানুষ। নিহত ও আহত মিলে কমপক্ষে ১৫০০ হবে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম খবর দিচ্ছে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৩৫৯ মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে নেপাল পুলিশ। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এই সংখ্যা। অসংখ্য মানুষকে কাদামাটি, পানির তোড় ভাসিয়ে নিয়েছে। এর নিচে চাপা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে নিহতের সংখ্যা কোথায় গিয়ে শেষ হয় তা কেউ বলতে পারছেন না। এ ঘটনায় শোক ও সহানুভূতি জানিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশ। নিহত, নিখোঁজ ও আহতদের বেশির ভাগই বিদেশি পর্যটক। বুধবারের এই আকস্মিক বন্যার বিষয়ে নেপালে আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিস ফেডারেশনের প্রতিনিধিদলের প্রধান ডেভিড ফিশার বলেছেন, বন্যায় আক্রান্ত অঞ্চলগুলোতে ‘চরম পরিস্থিতি’ বিরাজ করছে। বৃটেন, ভারত, চীন সহ বিভিন্ন দেশ সহায়তা দেয়ার কথা বলেছে। বুধবার স্থানীয় সময় সকালে বরফ ও পাথরের একটি বিশাল ধস থেকে কাদা, পানি ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত তৈরি হয়ে ত্রিশূলী নদীর তীর উপচে পড়ে। চীন ও নেপালের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত এই নদীটি ভোতেকোশি নামেও পরিচিত। ভয়াবহ ওই স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ভেসে যায়।
নেপালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিখোঁজ রয়েছেন এক হাজারের বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। তিব্বতে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, সেখানে বেশ কিছু মানুষ নিহত এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন। কাঠমান্ডুভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (আইসিমোড)-এর বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মাত্র আধা ঘণ্টায় ত্রিশূলী নদীর পানির উচ্চতা ৯ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যায়। ভোতেকোশির উপনদী লেন্দে খোলা নদীটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলবায়ু গবেষণা সংস্থার দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিশেষজ্ঞ শাশ্বত সান্যাল বলেন, গত ১৪ মাসে লেন্দে খোলা নদীতে এটি দ্বিতীয়বারের মতো ভয়াবহ বন্যা। এবার একটি হিমবাহ থেকে বরফ ও পাথরের ধস নেমে নদীটি আটকে দেয়। পরে সেই বাধা ভেঙে গিয়ে হঠাৎ বিপুল পানির স্রোত নিচের দিকে ধেয়ে যায়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এ সময় মানুষ প্রাণভয়ে দৌড়াচ্ছে উঁচু কোনো স্থানের দিকে। কিন্তু এত দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই ভূমিধস, পানির তোড় তেড়ে আসে যে, বহু মানুষ দৌড়ে সরে যেতেও পারেনি। তাদেরকে চাপা দিয়ে চলে যায় ভয়াবহ এই প্রলয়। এমন ভয়াবহতার মধ্যে নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ডিজাস্টার স্টাডিজের পরিচালক বসন্ত রাজ অধিকারী বলেছেন, বৃহস্পতিবার অথবা শুক্রবার বন্যার ‘দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঢেউ’ আঘাত হানার ঝুঁকি রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন চীনের এমন সহকর্মীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত নেই। কিন্তু ভূমিধস ঘটতে পারে। ওদিকে বন্যা, ভূমিধসের পর আক্রান্ত অঞ্চল কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। সেখানে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
তাছাড়া উদ্ধারকর্মীরা কাদা, পানি অতিক্রম করে তার ভেতরে সন্ধান করছেন জীবিতদের। বিপুল সংখ্যক পর্যটককে দেখা গেছে কিছু পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থান করছেন। তাদেরকে উদ্ধারের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছিল। মানস সরোবরে তীর্থযাত্রায় সমবেত হয়েছিলেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। এ কারণে নিহত, নিখোঁজের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
ওদিকে, মায়ের খোঁজ পাচ্ছেন না ভারতের অনীক। তিনি বলেছেন, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় বিধ্বস্ত নেপালে সফররত পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া ৩২ জনের পর্যটকের একটা দল রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছেÑ মোট ২৮৮ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের পর্যটকদের মধ্যে হুগলির চন্দন নগরের শিপ্রা রায় রয়েছেন। তার ছেলে অনীক বলেছেন, শেষবার বুধবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ মায়ের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। তারপর থেকে আর কিছুতেই খোঁজ পাচ্ছি না। মা একাই গেছেন। কী অবস্থায় আছেন কে জানে! তিনি জানিয়েছেন ২১শে আগস্ট বাসে চেপে রওনা দেন ষাট বছরের শিপ্রা রায়। কৈলাস মানস সরোবরে যাওয়ার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল তার মায়ের। একই উদ্দেশ্যে ওই বাসেই সফর করছিলেন কলকাতার বাসিন্দা রিনা ব্যানার্জী। তার বোনের ছেলে দ্বৈপায়ন মুখার্জী বলেন, রোববার রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ শেষবার কথা হয়েছিল। তখনো জানতাম না এমন হবে! এই পর্যটক দলের মধ্যে দুর্গাপুর, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দারা রয়েছেন। এই দলের সঙ্গেই যাওয়ার কথা ছিল হুগলির কোন্নগরের বাসিন্দা তপতী সিংহ’র। তবে ভিসার কারণে তার যাওয়া হয়নি। অন্যদিকে, নেপালের এই দুর্যোগের পর পশ্চিমবঙ্গ থেকে সে দেশে পর্যটনের উদ্দেশ্যে যাওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে বেশ চিন্তায় রয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। তাদেরই একজন আরামবাগের সৌভাগ্য দত্ত। তার মা অন্য এক দলের সঙ্গে নেপালে গিয়েছেন গত ২৪শে আগস্ট। তিনি বলেন, বুধবার দুপুরে এই খবর পাওয়ার পর খুব টেনশনে পড়ে গিয়েছি। কিছুতেই বুঝতে পারছি না কী করবো। মাকে ফোনে পাচ্ছি না।
‘চোখের পলকে ভেসে গেল স্ত্রী-সন্তান’, নেপালি ব্যবসায়ীর লোমহর্ষক বর্ণনা: নেপাল-তিব্বত সীমান্তে কোনো আগাম পূর্বাভাস ছাড়াই ধেয়ে আসে প্রলয়ঙ্করী বন্যা। এতে নিজের চোখের সামনে পরিবার হারানোর লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন বেঁচে ফেরা এক অভাগা পিতা ও স্বামী। তিনি বলেন, প্রশাসনের লোকজন জানালো, তিব্বত সীমান্তে নদীর বাঁধ ভেঙে গেছে। আমাদের দ্রুত উঁচু স্থানে যেতে হবে। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধেয়ে আসা জলের তোড়ে চোখের পলকে ভেসে গেল আমার স্ত্রী ও ছেলে। নুয়াকোটের ত্রিশূলী বাজারের এই কাপড় ব্যবসায়ী জানান, সেদিন কোনো বৃষ্টিপাত ছিল না। সবাই যার যার দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ঠিক তখনই প্রশাসনের সতর্কবার্তা আসে। কিন্তু সেই বার্তা পেয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাননি তারা। সতর্কবার্তা পৌঁছানোর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই কাদা ও পানির বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ে। বাঁচার জন্য অনেকে দৌড় দিলেও জলোচ্ছ্বাসের প্রবল স্রোতে মুহূর্তের মধ্যে ভেসে যান ওই ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও তরুণ ছেলে। তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মূলত ভোতে কোশি নদীর উপনদীতে হিমবাহ ধসে পানি আটকে যাওয়ার ফলেই এই ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। রাসুয়া জেলার প্রধান শুল্ক কর্মকর্তা রাজেন্দ্র ধুঙ্গানা জানান, প্রায় ১০০ মিটার উঁচু ঢেউয়ের মতো পানি ধেয়ে আসতে দেখেছেন তিনি, যা মুহূর্তের মধ্যে আস্ত একটি বাজার ভাসিয়ে নিয়ে যায়। রাসুয়া, নুয়াকোট এবং ধাদিং নেপালের এই তিন জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন কয়েক মিটার গভীর কাদা ও পলির নিচে চাপা পড়ে আছে। চোখের সামনে শত শত ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও হাজারো মানুষের স্বপ্ন বিলীন হয়ে গেছে। প্রিয়জন হারানোর শোকে পাথর হয়ে যাওয়া ওই ব্যবসায়ীর মতো শত শত মানুষ এখন কেবল কাদার স্তূপের দিকে তাকিয়ে নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
ভূমিকম্প নয়, জানা গেল নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হঠাৎ বন্যার মূল কারণ: নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার কারণ ভূমিকম্প নয়। পাহাড় থেকে বিশাল বরফখণ্ড ধসে সৃষ্ট এক প্রলয়ঙ্করী ভূমিধসের ফলেই এই বিপর্যয় হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এবং নেপালের আবহাওয়া ও জলবিজ্ঞান বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৫৯ জন এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও হাজারের বেশি পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা। প্রাথমিকভাবে নেপাল কর্তৃপক্ষ ভেবেছিল কোনো ভূমিকম্পের ফলে এই বন্যা সৃষ্টি হয়েছে। তবে ইউএসজিএস দীর্ঘমেয়াদি সিসমিক তরঙ্গ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করেছে যে, রেকর্ড করা ভূকম্পন মূলত হিমবাহের বিশাল পাথর ও বরফখণ্ড ভেঙে নিচে পড়ার কারণেই তৈরি হয়। নেপালের আবহাওয়া ও জলবিজ্ঞান বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাহাড়ের ওপর থেকে বরফের বিশাল একটি স্তর ভেঙে পড়ার সময় আশপাশের বিপুল পরিমাণ পাথর ও মাটি নিচে টেনে নিয়ে যায়। এর ফলে নদীর গতিপথ বাধাগ্রস্ত হয়ে কাদা ও ধ্বংসস্তূপের এক বিধ্বংসী স্রোত তৈরি হয়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ঘটনার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমবাহ গলে যাওয়া, কোনো হিমবাহ হ্রদের হঠাৎ পানি উপচে পড়া কিংবা অতিবৃষ্টির প্রভাব রয়েছে কিনা, তা আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের শোক, সহায়তার প্রস্তাব
কূটনৈতিক রিপোর্টার জানান, নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালকে প্রয়োজনীয় যেকোনো ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ঢাকা। প্রয়োজনে উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসা সহায়তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও মেডিকেল টিম পাঠানোর প্রস্তুতি নিতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন।
বুধবার নেপালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এবং দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে শোকবার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, নেপালে ভয়াবহ বন্যায় বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত ও ব্যথিত। প্রিয়জন হারানো পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, এই কঠিন বিপর্যয়ের সময়ে বাংলাদেশের চিন্তা ও প্রার্থনা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও তাদের পরিবারের সঙ্গে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দুর্যোগের এই সংকটময় মুহূর্তে নেপালের প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ সরকার প্রস্তুত রয়েছে। তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এ সময় তিনি নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। ফোনালাপে খলিলুর রহমান নেপালের সাম্প্রতিক ঘটনাকে ভয়াবহ ‘ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নেপালের প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো ধরনের সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বন্ধুপ্রতিম দেশ নেপালের এই দুর্যোগে সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় উদ্ধারকাজ এবং মেডিকেল টিম পাঠানোর প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। ফোনালাপে নেপালে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক হতাহত হয়েছেন কিনা, সে বিষয়েও জানতে চান খলিলুর রহমান। কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের হতাহত হওয়ার অনাকাক্সিক্ষত তথ্য পাওয়া গেলে তা বাংলাদেশকে অবহিত করতে নেপাল সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সংহতি ও সহযোগিতার প্রস্তাবের জন্য নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, নেপালের কর্তৃপক্ষ এখনো দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছে। পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের পর নির্দিষ্ট কোনো সহায়তার প্রয়োজন হলে বাংলাদেশকে জানানো হবে।
অন্যদিকে, নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শোক প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। দুর্যোগে নিহতদের স্মরণে সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। নীরবতা পালন শেষে নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।
