সেপ্টেম্বরে তফসিল ঘোষণা করে নভেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনান এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশন। প্রতিনিধিদলে ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। পরে বিকালে নির্বাচন ভবনে ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের কাছে ইউপি ভোট নিয়ে এমন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন সিইসি।
কবে নির্বাচনের তফসিল দেবেন জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন বলেন, আমরা আগামী মাসে সেপ্টেম্বরে তফসিল দিতে চাই। কারণ, সেখানে আইনি কিছু বাধ্যবাধতা রযেছে (মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে)। নভেম্বরে পরীক্ষা শেষ করার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলতে হবে। বছরের শেষে ইলেকশন করতে হলে আমাকে শিডিউল টা দিতে হবে আগামী মাসে। অন অ্যান এভারেজ মাস দু’য়েক সময় সময় রেখে শিডিউল দিতে হয়। ভোটের কাজের পাশাপাশি এনআইডি সেবার সহজতর করতে নানা পদক্ষেপের কথা জানান সিইসি। পাশপাশি এনআইডি জালিয়াতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কমিশন চেষ্টা করছে, পাশাপাশি অ্যাকশনও নিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, এটা নিশ্চিত যে, এ বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে হবে। আশা করছি, হয়তো আমরা সেপ্টম্বরে শিডিউল টা ঘোষণা করতে পারবো। ফেব্রুয়ারিতে রমজান এসে যাবে, তখন ইলেকশন করতে পারবো না। তাহলে আমাদের যে টাইম সøট যেখানে ইলেকশনকে একুমোডেট করতে হবে, ইজ ভেরি শর্ট।
সিইসি জানান, রজমানের পরে ঈদুল আজহা ও বর্ষাকাল রয়েছে। এ ধরনের নানাবিধ জটিলতা। পরীক্ষা, বর্ষকাল, ঈদ-পূজা বিবেচনা না করলে নানা ধরনের সমালোচনার মধ্যে পড়তে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরীক্ষা দ্রুত শেষ করারও অনুরোধ করবে ইসি। যদি সম্ভব হয় আমরা অ্যান্ড অব নভেম্বরে শুরু করতে পারি। যদি পরীক্ষাটা এগিয়ে আসে। ইউনিয়ন পরিষদের সিংহভাগই এ বছরে মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এসব নির্বাচন এ বছরের মধ্যে করতে হবে।
সিইসি বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে ভোটার সভারেন্টি স্টাবলিশ করতে চাই। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোট হবে। আমাদের কমিটমেন্টের ঘাটতি নেই। প্রেসিডেন্টকে বলেছিÑ জাতীয় নির্বাচন যেভাবে করেছি, যে স্টান্ডার্ডে করেছি তার চেয়ে ভালো বৈ কিছু হবে না। আমরা স্বাধীন, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য কাজ করতে প্রেসিডেন্টের সহযোগিতা চেয়েছি। তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলেছেন।
সিইসি আরও জানান, নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণে এমন অনেক বিষয় থাকে যা ইসি’র নিয়ন্ত্রণে থাকে না। যেমন বন্যা হলে কি করার থাকে সমস্যা হয়, দুর্গাপূজার আগে পরে বন্ধ থাকে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যস্ত থাকে; এর জন্য গ্যাপ রাখতে হয়। তারপর পরীক্ষা-ইলেকশন টাইমের জন্য সিজনটা ফেভারেবল কিন্তু পরীক্ষা এসে যায়। স্কুলগুলোকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়, শিক্ষকদের প্রিজাইডিং অফিসার করা হয়। পরীক্ষা থাকলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে এডজাস্ট করতে হয়।
ইউনিয়ন পরিষদের ভোটের প্রসঙ্গ টেনে সবশেষ নির্বাচন সাত ধাপে হয়েছে উল্লেখ করে সিইসি জানান, ২০২১ সালে প্রথম ধাপে ইউপি ভোট হয়েছে জুন মাসে ৩৭১টি; এটাই ইসি’র প্রথম টার্গেট থাকবে। প্রথম ধাপে এসব ইউপি বিবেচনায় নিতে হবে। কোনোভাবেই খারাপ মৌসুমে করা যাবে না, শুষ্ক মৌসুমে করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। পার্বত্য এলাকায় ভোটও শুষ্ক মৌসুমে করার চিন্তা করতে হবে। সব কিছু মিলিয়েই করতে হবে। শীতকালে নির্বাচন করার উপযোগী, নির্বাচনের মৌসুম।
ইতিমধ্যে আচরণবিধি, আইন সংশোধন ও নির্বাচন পরিচালনা বিধি সংশোধনের উদ্যোগ রয়েছে। আইন সংশোধনের খসড়া স্থানীয় সরকারে পাঠানোর পর মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেলে তা সংসদে পাস হতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটারের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চান বলে উল্লেখ করেন সিইসি।
