বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০২৭-২০৩২ মেয়াদে মহাপরিচালক পদে ড. হানান হাসান বালখির নাম মনোনয়ন দিয়েছে সৌদি আরব। সোমবার (২৪ আগস্ট) সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড. হানান বালখির জনস্বাস্থ্য, সংক্রামক রোগ, সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিষয়ে দীর্ঘ বৈজ্ঞানিক ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
ডব্লিউএইচওর তিন স্তর দেশ, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি বিশেষভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। পাশাপাশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ বিষয়ে ডব্লিউএইচওর প্রথম সহকারী মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
কর্মজীবনে ড. বালখি বিভিন্ন স্বাস্থ্য উদ্যোগ ও নীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেয়া এবং বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো।
সৌদি আরব জানিয়েছে, ড. বালখিকে মনোনয়নের মাধ্যমে ডব্লিউএইচওর কার্যক্রমের ধারাবাহিক উন্নয়নে অবদান রাখার পাশাপাশি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রয়োজন মেটাতে সংস্থাটির সক্ষমতা আরও জোরদার করার প্রত্যাশা করছে তারা। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে সমতা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতার নীতি সমুন্নত রাখা এবং বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য ও কল্যাণ এগিয়ে নিতে কার্যকর আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যও রয়েছে।
সৌদি আরবের মতে, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও দক্ষ, টেকসই ও সংকট মোকাবিলায় সক্ষম স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশগুলোর সহায়তায় ডব্লিউএইচওর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মনোনয়নটি বহুপক্ষীয় স্বাস্থ্য সহযোগিতার প্রতি সৌদি আরবের দৃঢ় অঙ্গীকারেরও প্রতিফলন। জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রয়েছে এমন জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে দেশটি।
এসব উদ্যোগ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে অবদান রাখবে বলেও সৌদি আরব আশা প্রকাশ করেছে।
