ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে প্রাথমিকভাবে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার মা শিরিন আক্তার ও বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।
রায়ের বিষয়ে আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তারা। আজ সোমবার হাইকোর্টের রায়ে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৪ জনের যাবজ্জীবন ও ১০ জনকে খালাস দেয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন নুসরাতের ভাই।
মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আদালতের রায়ের প্রতি আস্থা রাখছি। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা কী নেয়া হবে, তা আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’ অপরাধীদের চূড়ান্ত শাস্তি দ্রুত কার্যকর হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস অপরাধ করার সাহস কেউ পাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে উচ্চ আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তারও। রায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি পাওয়ার কথা জানিয়ে নিজের পরিবার ও ছেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শিরীন আক্তার বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমরা রায়ে সন্তুষ্ট। অনেকে বলেছিল, আমরা নাটক করছি, রাফি আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু আদালতের রায়ে প্রমাণ হয়েছে, রাফির মৃত্যু একটি হত্যাকাণ্ড। এই হত্যার রায় হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত আমাদের নানাভাবে হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে। আমি আমার পরিবার ও ছেলেদের নিয়ে শঙ্কিত। সরকারের কাছে আমি আমার ছেলেদের নিরাপত্তা চাই।’
অন্যদিকে রায়কে ঘিরে সোনাগাজী পৌর শহরে নুসরাতের বাড়িতে বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল হাশিম জানান, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নুসরাতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে। নুসরাত পরিবারের নিরাপত্তায় পুলিশ মামলার বাদীসহ নুসরাতের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার পাশাপাশি বাড়ি ও আশপাশে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কাজ করছে।
রোববার সন্ধ্যা থেকেই নুসরাতের বাড়িতে অবস্থান নেয় পুলিশ সদস্যরা। ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে। এরপর ৩ এপ্রিল কারাগারে থাকা সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে পরামর্শ করে তার অনুগতরা নুসরাতকে হত্যার চক্রান্ত করে। ৪ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে নুসরাতকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল এবং সবশেষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০এপ্রিল নুসরাত মৃত্যুবরণ করেন।
