কলকাতায় গিয়েছিলেন ব্যবসার জন্য মালামাল আনতে। একটু স্বচ্ছলতার আশায়, ব্যবসার মালামাল কিনে নতুন করে একটু ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়েই ভারতে গিয়েছিলেন সাভারের আমিন বাজারের আহমেদ বাবু। দীর্ঘ দুই বছর পর ভিসা পেয়ে গত সোমবার রাতে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর মাত্র দু’দিনের মাথায় কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড কেড়ে নিল বাবুর প্রাণ। দেশে ফিরলেন ঠিকই, তবে জীবিত নয় কফিনবন্দি অবস্থায়।
রোববার ভোরে আহমেদ বাবুর মরদেহ আমিনবাজারের বেগুনবাড়ী শিকদারপাড়ার বাড়িতে পৌঁছালে মুহূর্তের মধ্যে ভারী হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ। স্বজনদের কান্না, সন্তানদের আহাজারি আর শোকে পুরো এলাকায় যেন নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা। শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখতে সকাল থেকেই বাড়িতে ভিড় করেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
এরপর সকাল ১০টার দিকে বেগুনবাড়ী বড় মাঠে আহমেদ বাবুর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে আমিনবাজারের বড়দেশী কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
পারিবারিক সূত্র জানায়, আমিনবাজার ইউনিয়নের বেগুনবাড়ী শিকদারপাড়া এলাকার মৃত আদম আলীর চার ছেলের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন আহমেদ বাবু (৩৭)। এলাকায় শান্ত স্বভাব ও পরিশ্রমী হিসেবে তার পরিচিতি ছিল। আমিনবাজারের এম এ হোসেন টাওয়ারের মার্কেটে ‘কিউট কসমেটিক্স’ নামে একটি দোকান পরিচালনা করতেন তিনি।
গত সোমবার রাতে কলকাতায় যান বাবু। সেখানে পার্ক স্ট্রিটের কাছাকাছি ‘শিখা ইন’ নামের একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। ওই হোটেলেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে নিহত ৭ বাংলাদেশির মধ্যে ছিলেন আহমেদ বাবু।
বুধবার দুপুরে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে মোবাইল ফোনে তার পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। পরে আহমেদ বাবুর ছবি পাঠানো হলে স্বজনরা তা দেখে তার পরিচয় নিশ্চিত করেন। এরপর থেকেই প্রিয় মানুষটির মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন পরিবারের সদস্যরা।
আহমেদ বাবুর মৃত্যুর খবরে বেগুনবাড়ীসহ পুরো আমিনবাজার এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। স্ত্রী, নয় বছরের এক মেয়ে ও সাড়ে তিন বছরের এক শিশুসন্তান রেখে গেছেন তিনি। বাবার কফিনের পাশে সন্তানদের কান্না দেখে উপস্থিত এলাকাবাসীও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
