চিকিৎসা শেষে সমুদ্রে ফিরলো ১২২ কেজির বিপন্ন কচ্ছপ

আবেগে আপ্লুত শত শত মানুষ

চিকিৎসা শেষে সমুদ্রে ফিরলো ১২২ কেজির বিপন্ন কচ্ছপ

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কি ওয়েস্টের একটি সৈকতে গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) শত শত মানুষ জড়ো হয়েছিল একটি বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী হতে। কয়েক সপ্তাহের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন শেষে সেদিন ২৭০ পাউন্ড (প্রায় ১২২ কেজি) ওজনের লগারহেড সামুদ্রিক কচ্ছপ ‘টিমি’কে আবার আটলান্টিক মহাসাগরে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়, টিমিকে সৈকতে নিয়ে আসেন ‘টার্টল হাসপাতাল’-এর কর্মীরা। ফোর্ট জাকারি টেলর হিস্টোরিক স্টেট পার্কের সৈকতে তাকে দেখতে আগে থেকেই ভিড় করেছিলেন শত শত মানুষ। অনেকেই মোবাইল ফোন হাতে পুরো ঘটনাটি ধারণ করেন। সৈকতে নামিয়ে দেয়ার পর টিমি ধীরে ধীরে পানির দিকে এগিয়ে যায়। একসময় ঢেউয়ের কাছে পৌঁছে সে সাগরে মিলিয়ে যায়।

সুস্থ হয়ে টিমির আবার সমুদ্রে ফিরে যাওয়া ছিল পরিচর্যাকারীদের জন্য বড় ধরনের সাফল্য। একই সঙ্গে বিপন্ন এই প্রজাতির সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও ঘটনাটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।

‘টার্টল হাসপাতাল’-এর জেনারেল ম্যানেজার বেটি জিরকেলবাখ বলেন, টিমির মতো একটি কচ্ছপ, যে বহু দশক ধরে মহাসাগরে টিকে আছে, তাকে আবার তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে দিতে পারা অত্যন্ত আনন্দের ও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে টিমি একটি প্রজননক্ষম স্ত্রী কচ্ছপ হওয়ায় তার নিরাপদে সমুদ্রে ফিরে যাওয়া পুরো প্রজাতির ভবিষ্যৎ টিকে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পুনর্বাসনের সময়ই হাসপাতালের কর্মীদের কাছে টিমি বেশ প্রিয় হয়ে উঠেছিল। শুক্রবার তাকে সমুদ্রে ফিরিয়ে দেয়ার মুহূর্তে সেই ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ে উপস্থিত শত শত মানুষের মধ্যেও।

জিরকেলবাখ বলেন, আজ টিমিকে ছেড়ে দেয়ার সময় শত শত মানুষকে এখানে আসতে দেখে আমার হৃদয় উষ্ণ হয়ে উঠেছে। আমি জানি, এই সহমর্মিতাও ছড়িয়ে পড়বে।

তার মতে, মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে আবেগের সম্পর্ক তৈরি করা সংরক্ষণ প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, সামুদ্রিক কচ্ছপকে রক্ষার জন্য আমরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটি করতে পারি, তা হলো তাদের ভালোবাসতে শেখা। তাই এত মানুষকে এখানে এসে টিমির প্রতি স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভালোবাসা তৈরি করতে দেখে মনে হচ্ছে, তারা এখন সামুদ্রিক কচ্ছপ ও আমাদের মহাসাগরকে রক্ষা করতে চাইবে।
টিমিকে সমুদ্রে ফেরানোর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফ্লোরিডার প্রতিনিধি জিম মুনি। তিনি বলেন, ফ্লোরিডা কিজের (দ্বীপপুঞ্জ) পরিবেশ রক্ষায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এ অঞ্চলের পরিবেশের গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষিত করে তোলা জরুরি।

মুনি বলেন, শিক্ষার মাধ্যমে আমাদের বোঝাতে হবে, শুধু আমাদের জন্য নয়, আজ এখানে ঘুরে বেড়ানো ছোট ছোট শিশুদের ভবিষ্যতের জন্যও আমাদের পরিবেশ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আসল বিষয়টি এটাই।
তার মতে, পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে ফ্লোরিডা কিজের অর্থনীতিরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। কারণ এ অঞ্চলের পর্যটন অনেকাংশেই সমুদ্রের পানি ও বন্যপ্রাণীর ওপর নির্ভরশীল।

মুনি বলেন, সারা জীবন কিজের সন্তান হিসেবে বড় হয়েছি এবং এখনও নিজেকে কিজেরই সন্তান মনে করি। আমার লক্ষ্য হলো পরিবেশ রক্ষা করা, কারণ আমি জানি, আমাদের পর্যটনের জন্য পরিবেশের গুরুত্ব কতটা।

তবে টিমির জন্য শুক্রবারের বার্তাটি ছিল একেবারেই সরল। চারপাশে শত শত মানুষের উচ্ছ্বাস আর করতালির মধ্যেই ধীরে ধীরে বালুর ওপর দিয়ে সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যায় সে।
একসময় ঢেউয়ের কাছে পৌঁছে মিলিয়ে যায় নীল পানিতে, ফিরে যায় তার চিরচেনা প্রাকৃতিক আবাসস্থলে। এভাবেই মানুষের ভালোবাসা আর শুভকামনা সঙ্গে নিয়ে ২৭০ পাউন্ড ওজনের বিপন্ন লগারহেড কচ্ছপ টিমি ফিরে পায় তার সমুদ্রের ঠিকানা।

তবে টিমির জন্য শুক্রবারের বার্তাটি ছিল আরও সহজ। চারপাশে মানুষের উচ্ছ্বাস আর করতালির মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে বালুর ওপর দিয়ে এগিয়ে যায় সে। শেষ পর্যন্ত ঢেউয়ে পৌঁছে নিজের প্রাকৃতিক আবাস- সমুদ্রের দিকে ফিরে যায় ২৭০ পাউন্ডের এই বিপন্ন লগারহেড কচ্ছপ।