সুনামগঞ্জ সদরে জাকিয়া আক্তার নিহা নামে সাত বছরের এক শিশুকে ‘হত্যা’ করে নদীতে ভাসিয়ে দিল সৎমা। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকালে শিশুর সৎমা আম্বিয়া বেগমকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। নিহত শিশুর পিতার নাম তাজ উদ্দিন। এ নৃশংস ঘটনাটি সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের গোদারগাঁও গ্রামে ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, সদর উপজেলার গোদারগাঁও গ্রামের রাজমিস্ত্রি তাজ উদ্দিনের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি আম্বিয়া বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রথম পক্ষের সন্তানদের নির্যাতন করতো। গত ১৭ আগস্ট সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে শিশু নিহা বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। এর আগে সৎমা আম্বিয়া বেগম জোর করে শিশুটিকে সুরমা নদীতে গোসল করাতে নিয়ে যান। পরে নিহা বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। এ ঘটনায় ১৮ আগস্ট সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন শিশুটির পিতা। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সুরমা নদীতে তল্লাশি শুরু করে। পরদিন ১৯ আগস্ট সকাল ৬টার দিকে সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের কাছে সুরমা নদীতে ভাসমান অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর নিহার মরদেহের ডান উরুর ওপর ও নিচে দুটি গুরুতর কাটা জখমের চিহ্ন দেখা যায়। পরে পুলিশের কাছে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আম্বিয়া বেগম শিশুটিকে হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করে।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রতন শেখ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আম্বিয়া বেগম তার সৎ মেয়ে জাকিয়া আক্তার নিহাকে হত্যার পর বাড়ির পাশের সুরমা নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। হত্যার প্রকৃত কারণ কী, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না এবং শিশুটির মৃত্যুর পুরো ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পারিবারিক কলহের জের ধরে ঘুমন্ত অবস্থায় হাওরে ফেলে পিতার হাতে দুই শিশু হত্যার ঘটনা ঘটে। পরপর এমন দুটি ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা ও পারিবারিক সহিংসতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সুনামগঞ্জে শিশুকে ‘হত্যা’ করে নদীতে ভাসিয়ে দিল সৎমা
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
অনলাইন
২ ঘন্টা আগে
২১ আগস্ট (শুক্রবার), ২০২৬, ১০ঃ৪৪ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
