২ হাজার রোহিঙ্গার নামে ভুয়া জন্মনিবন্ধন

পলাশবাড়ীতে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি

ফন্ট সাইজ:

পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নে অসংখ্য রোহিঙ্গা নাগরিকের নামে ভুয়া জন্মনিবন্ধনের অভিযোগ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের এক বছর অতিবাহিত হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ইউনিয়নে প্রায় ২ হাজার ব্যক্তির নামে জন্মনিবন্ধন হলেও অধিকাংশের ব্যক্তির পরিচয় ও বাস্তব অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

এরপর পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল-ইয়াসা রহমান তাপাদারকে কমিটির আহ্বায়ক করে অপর দু’জন সদস্য হলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার। সম্প্রতি তদন্ত কমিটি ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ড ঘুরে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধনকারীদের সন্ধান করেন।

এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে স্থানীয়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে দেখা যায় নিবন্ধনকারীদের কেউই ওই এলাকায় পরিচিত নয়। তাদের নাম ও অভিভাবকদের নাম দেখে এলাকাবাসী ধারণা করছেন তারা রোহিঙ্গা নাগরিক। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানান তারা। তবে বিপুলসংখ্যক ভুয়া নিবন্ধনের জন্য কেউ দায়িত্ব নিতে নারাজ। বেতকাপা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তা ভুয়া নিবন্ধন সংক্রান্ত বিষয়ে বলেন, আমি কোনো ভুয়া নিবন্ধনে স্বাক্ষর করিনি।

তবে এসব ভুয়া নিবন্ধন কীভাবে অনলাইনে এন্ট্রি হলো তাও তো জানি না। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল-ইয়াসার রহমান তাপাদার জানান, সরজমিন গিয়ে আমি সাতটি জন্মনিবন্ধনের তথ্য যাচাই করেছি। কিন্তু এদের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানান, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।