ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ নাটালিকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

অস্বস্তিতে মেলানিয়া

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ নাটালিকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

ফন্ট সাইজ:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও অনুগত সহকারী নাটালি হার্পকে ঘিরে ওয়াশিংটনে আলোচনার ঝড় বইছে। এর মধ্যে বিভিন্ন প্রতিবেদনের খবরে জল্পনা আরও বেড়েছে।
মার্কিন বিভিন্ন মিডিয়ার খবরে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প একসময় তার কর্মীদের বলেছিলেন- তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প ও সন্তানদের মতোই তাকে ভালোবাসেন এমন একমাত্র ব্যক্তি হলেন নাটালি হার্প।
৩৫ বছর বয়সী হার্পকে নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত ১৬ আগস্ট। সেদিন এক সমাবেশে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ট্রাম্প “তার বলরুম বানাতে চান এবং কাতারের আমিরের উপহার হিসেবে পাওয়া কথিত অরক্ষিত উড়ন্ত প্রাসাদে নাটালির সঙ্গে ভ্রমণ করতে চান।”
অসফের মন্তব্যের পর রিপাবলিকানরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান এবং হার্পের পক্ষ নেন। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র অসফকে ব্যঙ্গ করে “জন জ্যাকঅফ” বলেও আক্রমণ করেন।

ট্রাম্প ও হার্পের সম্পর্ক নিয়ে আগ্রহ আরও বেড়ে যায়, যখন হোয়াইট হাউসের এক্স অ্যাকাউন্ট সিএনএনের এক সাংবাদিককে ট্রাম্পকে অসফের মন্তব্য সম্পর্কে প্রশ্ন করার জন্য “লজ্জাজনক ও অপমানজনক” বলে আখ্যা দেয় এবং তার প্রশ্নকে “সস্তা আক্রমণ” হিসেবে অভিহিত করে।
এরই মধ্যে হার্পের লেখা ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে একাধিক প্রশংসাসূচক চিঠির কথাও আবার সামনে এসেছে। এসব চিঠির একটিতে হার্প লিখেছিলেন, “আমার কাছে আপনিই সবকিছু।”
চিঠিগুলোর কথা প্রথম প্রকাশ্যে আসে রেজিম চেইঞ্জ বইয়ে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের রাজনৈতিক সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ান রচিত বইটি গত জুনে প্রকাশিত হয় এবং এতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।

বইটিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাঁর কর্মীদের নাকি বলেছিলেন, মেলানিয়ার মতো তাকে ভালোবাসেন এমন একমাত্র ব্যক্তি হার্প। ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে বইটিতে বলা হয়, তোমরা সবাই চলে গিয়ে অর্থ উপার্জন করবে। কিন্তু সে কখনো আমাকে ছেড়ে যাবে না।
২০২২ সালে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারে যোগ দেন হার্প । এর আগে তিনি ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম ওয়ান আমেরিকা নেটওয়ার্কে উপস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন এবং সেখানে প্রকাশ্যে ট্রাম্পের পক্ষে অবস্থান নিতেন।
তবে ট্রাম্পের সঙ্গে তার পরিচয় আরও পুরোনো। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তাদের পরিচয় হয়। হার্প দাবি করেছিলেন, ২০১৮ সালে ট্রাম্প স্বাক্ষরিত একটি আইন তাকে হাড়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় পরীক্ষামূলক চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল।

নির্বাচনী প্রচারের সময় হার্পের কোনো আনুষ্ঠানিক পদবি ছিল না বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে তিনি সবসময় একটি বহনযোগ্য প্রিন্টার সঙ্গে রাখতেন। ট্রাম্প সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রিন্ট করে সরাসরি তার হাতে তুলে দিতেন। এ কারণেই তিনি ‘দ্য হিউম্যান প্রিন্টার’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
২০২৫ সালে ট্রাম্প আবার হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর হার্প নির্বাহী সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পান। এখন তিনি ট্রাম্পের কাছে বিভিন্ন ব্যক্তির পৌঁছানোর অন্যতম মাধ্যম হিসেবেও কাজ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওভাল অফিসে তাকে নিয়মিত দেখা যায়।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাতে জেগে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট তৈরির কাজও করেন।
রেজিম চেইঞ্জ বইয়ে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প যখন হোয়াইট হাউসের জাঁকজমকপূর্ণ সংস্কার নিয়ে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতেন, তখন তার “অত্যন্ত অনুগত সহকারী হার্প উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়তেন।
হার্পকে ঘিরে বিতর্কের আরেকটি বিষয় হলো তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র। এমএস নাওয়ের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হার্প এক বছরেরও বেশি সময় হোয়াইট হাউসে কাজ করলেও ওয়েস্ট উইংয়ের কর্মীদের জন্য সাধারণত যে নিরাপত্তা যাচাই করা হয়, তা তিনি করেননি। অজ্ঞাত কারণে তিনি একাধিকবার ওই যাচাই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

ট্রাম্প ও হার্পের ঘনিষ্ঠতার বিভিন্ন প্রতিবেদন নাকি ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকেও অস্বস্তিতে ফেলেছে। হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র মঙ্গলবার সেমাফোর’কে বলেন, ফার্স্ট লেডি এ ধরনের বিষয় পছন্দ করেন না।
এদিকে সিএনএনের সঙ্গে কথা বলার সময় হার্পের ভাই প্রেস্টন হার্প তার বোনের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ককে “একটি অস্বাস্থ্যকর আসক্তি” বলে মন্তব্য করেছেন।
প্রেস্টনের দাবি, তার বোনের সঙ্গে বর্তমানে তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন। তিনি আরও বলেন, হার্প এর আগেও অন্য প্রেসিডেন্টদের কাছে চিঠি লিখেছিলেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের ঘনিষ্ঠতা এবং বর্তমানে হোয়াইট হাউসে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রেস্টন বলেন, অবশেষে তার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।