মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রভাবকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তবে তাদের ক্ষমতারও একটা নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইউনিভার্সিটি অব জর্ডানের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক হাসান বারারি। আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
বারারি জানান, বৈশ্বিক বড় অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য মার্কিন বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে দুর্বল অবস্থানে থাকে।
তিনি বলেন, চীন এবং ভারত উভয়ের অর্থনীতির জন্যই আমেরিকার বাজার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতা না করলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, আর ইরান তাদের এই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারবে না। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটনের নৌ অবরোধ ইরানি অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি সাধন করলেও মার্কিন আধিপত্যের একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
ইরান এই সংঘাতকে নিজেদের অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে তুলে ধরে সফলভাবে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। তার মতে, ইরানি জনগণ কোনো নির্দিষ্ট রেজিম (শাসনব্যবস্থা) পক্ষে নয়, বরং তারা নিজেদের দেশের পতাকা ও রাষ্ট্রের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে একত্রিত হয়েছে। যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কিংবা যুদ্ধপন্থীরা বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন। ইরানের এই একতাবদ্ধতা মার্কিন চাপ মোকাবিলায় সহায় হচ্ছে। অধ্যাপক বারারি আরও বলেন, ইরানি সাধারণ মানুষের ওপর মার্কিন পদক্ষেপের প্রভাব ও ঝুঁকি যেমন অস্বীকার করা যায় না, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ কৌশলগত অবস্থানে পৌঁছানোর জন্য ইরানিদের আকাক্সক্ষাকেও খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তবে একই সাথে তেহরানের টিকে থাকার সক্ষমতাও সীমাহীন নয় বলে সতর্ক করেন তিনি। তেমনি মার্কিন নৌ অবরোধও চিরতরে বজায় রাখা সম্ভব না।
