দেবাশীষের মুসলিম স্ত্রীর দাফন না সৎকার, কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে পরিবার?

কলকাতা ট্রাজেডি

দেবাশীষের মুসলিম স্ত্রীর দাফন না সৎকার, কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে পরিবার?

ফন্ট সাইজ:

কলকাতার হোটেলের অগ্নিকাণ্ডে মারা গেছেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার স্ত্রী আফসানা শারমিন, শিশু পুত্র স্বর্ণশীষ দত্ত ও শ্বশুর আকরাম আলী। তবে দেশের বাড়িতে দাদা-দাদির কাছে রেখে যাওয়ায় সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছে সাত বছরের শিশু কন্যা মহিমা দত্ত। দেবাশীষের পরিবার সূত্র জানিয়েছে, গতকাল বুধবার দেবাশীষসহ নিহত পরিবারের সদস্যদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকাল নাগাদ তাদের মরদেহ দেশে আসার কথা রয়েছে। সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে, দেবাশীষ দত্ত সনাতন ধর্মাবলম্বী হলেও তার স্ত্রী আফসানা শারমিন ছিলেন মুসলিম। এখন প্রশ্ন হলো-দেবাশীষের মুসলিম স্ত্রীর সৎকার হবে কোন ধর্মের রীতিতে।

নিহত আফসানা শারমিনকে কি স্বামীর ধর্ম অনুসারে চিতায় দাহ করা হবে, নাকি মুসলিম রীতিতে কবরে সমাহিত করা হবে। এ নিয়ে দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নানা বিতর্ক চলছে। তবে দেবাশীষের পিতা দিলীপ কুমার দত্ত মানবজমিনকে জানিয়েছেন, পুত্রবধূ আফসানা শারমিন জীবিত অবস্থায় তার মাকে জানিয়েছিলেন, যখন তার মৃত্যু হবে, তখন মুসলিম ধর্ম অনুযায়ী তার মরদেহ যেন কবরে সমাহিত করা হয়। যেহেতু শারমিনের মা দাবি করেছেন, তার মেয়েকে কবরস্থ করবেন। আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম আলীর মরদেহের সঙ্গে পুত্রবধূ শারমিনের মরদেহ তার পরিবারকে দিয়ে দেবো। পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মেয়ের মরদেহ দাফন করা হবে। দেবাশীষের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আফসানা শারমিনের গৃহশিক্ষক ছিলেন দেবাশীষ। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক গভীর হয়ে যায়। গত নয় বছর আগে ঘর বাধার সিদ্ধান্ত নেন তারা। তবে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ধর্ম। কারণ দেবাশীষ ছিলেন হিন্দু ধর্মালম্বী আর শারমিন মুসলিম। তাদের বিয়েতে মত ছিল না দুই পরিবারের সদস্যদেরও। বাবা-মার মতামত উপেক্ষা করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা। ভালোবাসায় গড়া সেই সংসারে আসে দুই সন্তান। সাত বছরের কন্যা মহিমা দত্ত ও তিন বছরের পুত্র স্বর্ণশীষ দত্ত। একপর্যায়ে নাতি-নাতনিদের দিকে তাকিয়ে মেনে নেন দুই পরিবারের অভিভাবকরা। এরপর শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে উঠে দেবাশীষের।

গত ৩ আগস্ট স্ত্রী, পুত্র ও শ্বশুরের চিকিৎসার জন্য ভারতের বেঙ্গালুরুর যান দেবাশীষ। দেশে বাবা-মায়ের কাছে রেখে যান সাত বছরের কন্যা মহিমাকে। বেঙ্গালুরুর পৌঁছে নারায়ণা হাসপাতালে সবার চিকিৎসা করান। দীর্ঘ ১৬ দিন বেঙ্গালুরুরে চিকিৎসা শেষে গত ১৮ই আগস্ট মঙ্গলবার কলকাতায় ফেরেন। উঠেন কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে। কিন্তু মঙ্গলবারই দেবাশীষের দেশে ফেরার কথা ছিল। দেশে রেখে যাওয়া একমাত্র কন্যার জন্য কেনাকাটা করতে একদিন বেশি থাকেন। এটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় দেবাশীষের।

প্রাণ হারান দেবাশীষের পরিবারের চার সদস্যসহ ৯ জন। নিহত দেবাশীষ দত্ত আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। এর আগে তিনি এশিয়ান টেলিভিশন, নাগরিক টিভিসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। কুষ্টিয়া শহরে সৎ ও মেধাবী সাংবাদিক পরিচিতি ছিল দেবাশীষের। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে এ খবর কুষ্টিয়ায় পৌঁছালে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।