পুরনো নাসা মহাকাশ টেলিস্কোপকে উদ্ধারের অভিযান ব্যর্থ

পুরনো নাসা মহাকাশ টেলিস্কোপকে উদ্ধারের অভিযান ব্যর্থ

ফন্ট সাইজ:

মহাকাশে থাকা পুরনো নাসা সুইফট অবজারভেটরিকে উদ্ধারের অভিযান বুধবার বাতিল করা হয়েছে। টেলিস্কোপটিকে উচ্চতর কক্ষপথে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠানো মহাকাশযানটি মহাকাশে গুরুতর প্রযুক্তিগত সমস্যায় পড়ার পর আর তা ঠিক করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে উদ্ধারযানটির মালিক প্রতিষ্ঠান ক্যাটালিস্ট স্পেস। লিংক (এলআইএনকে) নামের ক্যাটালিস্টের মহাকাশযানটি জুলাইয়ের শুরুতে উৎক্ষেপণ করা হয়। এর লক্ষ্য ছিল পৃথিবী থেকে প্রায় ২১৬ মাইল বা ৩৪৭ কিলোমিটার উচ্চতায় থাকা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রটির কাছে পৌঁছানো, সেটির সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া এবং পরে সেটিকে প্রায় ৩৭৩ মাইল বা ৬০০ কিলোমিটার উচ্চতার কক্ষপথে নিয়ে যাওয়া।

এর ফলে সুইফটের কার্যকাল আরও কয়েক বছর বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু মহাকাশে পৌঁছানোর পরপরই লিংক মহাকাশযানটি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ঘুরতে শুরু করে। ক্যাটালিস্টের প্রকৌশলীরা কয়েক সপ্তাহ ধরে মহাকাশযানটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন। গত সপ্তাহে তারা নতুন অবস্থান নিয়ন্ত্রণ সফটওয়্যারও মহাকাশযানটিতে পাঠান। এতে অনিয়ন্ত্রিত ঘূর্ণনের গতি কিছুটা কমলেও সেটিকে পুরোপুরি থামানো সম্ভব হয়নি। বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে ক্যাটালিস্ট স্পেস ও নাসা জানিয়েছে, লিংক মহাকাশযানটির ওপর ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের পর তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, চলমান অবস্থান নিয়ন্ত্রণ সমস্যার কারণে এই অভিযানে নাসার নিল গেহরেলস সুইফট অবজারভেটরিকে আটক করে উচ্চতর কক্ষপথে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।

অভিযানটি ব্যর্থ হওয়ায় নাসার প্রায় ৫০ কোটি ডলার মূল্যের নিল গেহরেলস সুইফট অবজারভেটরি সম্ভবত চলতি বছরের শেষ দিকে স্বাভাবিকভাবেই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে এবং পুড়ে ধ্বংস হয়ে যাবে। ২০০৪ সাল থেকে এই মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রটি গামা-রে বিস্ফোরণ এবং মহাবিশ্বের অন্যান্য বিভিন্ন মহাজাগতিক ঘটনা নিয়ে গবেষণা করে আসছে। সুইফটের কক্ষপথ আরও ওপরে তুলে এর কার্যকাল কয়েক বছর বাড়ানোর পরিকল্পনাটি ছিল উচ্চাভিলাষী একটি উদ্যোগ। এটি ছিল এ ধরনের প্রথম মার্কিন অভিযান।

অ্যারিজোনাভিত্তিক স্টার্টআপ ক্যাটালিস্ট স্পেস নাসার ৩ কোটি ডলারের চুক্তির আওতায় মাত্র নয় মাসের নজিরবিহীন সময়ের মধ্যে লিংক উদ্ধারযান তৈরি ও পরীক্ষা করেছিল বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ক্যাটালিস্ট স্পেসের প্রধান নির্বাহী ঘনহি লি এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা উচ্চ ঝুঁকি ও উচ্চ সম্ভাবনার এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলাম এবং পথ চলতে আমরা যে মাইলফলকগুলো অর্জন করেছি, তা নিয়ে আমরা গর্বিত। তিনি আরও বলেন, ২০১৯ সালে স্বয়ংক্রিয় রোবটিক মহাকাশযানের বহর তৈরির লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিটি এই অভিযান থেকে অসাধারণ পরিমাণে শিক্ষা পেয়েছে এবং ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানে সেই অভিজ্ঞতাগুলো কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।