ইরানকে সমর্থন করলেই অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে

ট্রাম্পের হুমকি

ইরানকে সমর্থন করলেই অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে

ফন্ট সাইজ:

ইরানকে ‘যেকোনো ধরনের সহায়তার লাইফলাইন’ দেয়া যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় ছয় মাস আগে ইসরাইলের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্র যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, সেটি অবসানের লক্ষ্যে এখন সমাধানের পথ খুঁজছে ওয়াশিংটন। যুদ্ধে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। দ্রুত উপসাগরীয় বিভিন্ন অঞ্চলকে জড়িয়ে ফেলেছে এই যুদ্ধ। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কারণ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা ইরান প্রদর্শন করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের বাণিজ্যিকভাবে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যেত। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

যুদ্ধ অবসানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলকে যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এপ্রিলে এবং জুনে দু’বার যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা দেয়। কিন্তু উভয় চুক্তিই দ্রুত ভেঙে পড়ে। এরই মধ্যে ইসরাইল যুদ্ধ থেকে অনেকটাই সরে এসেছে। বুধবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় ট্রাম্প ‘অভূতপূর্ব মাত্রায় অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতার’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রায় ৫০ বছর ধরে একের পর এক কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে ইরান।

ট্রাম্প লিখেছেন, যে কোনো দেশ তার আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর অথবা সরকারি সংস্থাকে ইরানকে যেকোনো ধরনের সহায়তার লাইফলাইন দেয়ার সুযোগ দেয়, তবে সেই দেশকেই ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হবে। তবে ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া হুমকি ও ঘোষণাগুলো সব সময় বিস্তারিত নীতিতে রূপ নেয় না কিংবা ঘোষণায় যেভাবে বলা হয়, সেভাবে বাস্তবায়িতও হয় না। এবারও তিনি কোনো দেশের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলেননি।

তার ঘোষিত হুমকির আওতায় এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোও পড়তে পারে, যারা ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা মধ্যস্থতায় সহায়তা করেছে। তবে ট্রাম্প কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় সামরিক ঘাঁটির দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা করেছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তারা ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইরান থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার কথা জানানোর পর এ ঘোষণা আসে। মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সমুদ্রে গিয়ে পড়েছে। তবে ইরান এ দাবি ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান কেপলার-এর ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে সমুদ্রপথে রপ্তানি হওয়া তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কিনে থাকে চীন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যদি চীনের বিরুদ্ধে আরও অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে পাল্টা প্রতিশোধের ঝুঁকি রয়েছে। কারণ চীন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় রপ্তানিকারক এবং গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজসহ নানা পণ্য সরবরাহ করে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের মঙ্গলবার আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্সকে বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের জন্য এখনও প্রস্তুত। তবে আলোচনা ও আত্মসমর্পণকে ইরান এক বিষয় হিসেবে দেখে না। তিনি বলেন, সামরিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা ইরানের সংকল্প ভাঙতে পারবে না।
মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না। এর এক দিন আগে ট্রাম্পের জামাই ও বিশেষ দূত জারেড কুশনার অবশ্য ভিন্ন সুরে কথা বলেন। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এখনও চলছে এবং আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় তা সম্ভবত আরও জোরালো পর্যায়ে রয়েছে।

ইরানের মজুত থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক জ্বালানি ও গবেষণা কর্মসূচির ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে একটি নতুন চুক্তি করতে চান তিনি। ২০১৮ সালে ট্রাম্প একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে যে চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন, নতুন চুক্তিটি সেটির পরিবর্তে করার লক্ষ্য রয়েছে। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) স্বাক্ষরকারী দেশ। দেশটি কয়েক দশক ধরে বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং এর উদ্দেশ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি নয়।