আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘গ্যাস ও কাঁচামালের সংকট: ৭ সার কারখানার ছয়টিই বন্ধ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, তীব্র গ্যাস সংকট, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং কাঁচামাল সংকটে চট্টগ্রামের তিনটিসহ দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি সার কারখানাই বন্ধ রয়েছে। শুধু একটি কারখানা উৎপাদনে রয়েছে। এতে সামনের আমন মৌসুমে সারের সরবরাহ নিয়ে কৃষকসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে সেখান থেকে সার আমদানি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে কৃষি মন্ত্রণালয় দাবি করছে, দেশে সারের সংকট নেই। যথেষ্ট মজুত রয়েছে। এ ছাড়া চলতি মাসেই আমদানি করা সার দেশে আসবে।
সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীনে দেশে সাতটি সার কারখানা রয়েছে। বন্ধ কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল), যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (জেএফসিএল), আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি (এএফসিএল), ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি), ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) এবং শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি (এসএফসিএল)। শুধু ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসি (জিপি) সার কারখানা উৎপাদনে আছে।
এ বিষয়ে বিসিআইসির পরিচালক (বাণিজ্য) মো. মনিরুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে জানান, বিসিআইসির সাত সার কারখানার মধ্যে ছয়টি বন্ধ রয়েছে। তবে ২/১ দিনের মধ্যে সিলেট শাহজালাল ফার্টিলাইজার সার কারখানাটি আবার উৎপাদনে যাবে। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কারখানাটি ‘শাটডাউন’ করা হয়নি। আগামী আমন উৎপাদনে সারের কোনো ঘাটতি হবে না। কাতার ও সৌদি আরব থেকে হরমুজ এড়িয়ে বিকল্প পথে সার আমদানি করা হচ্ছে। রাশিয়া ও ব্রুনেই থেকেও সার আমদানির আলোচনা চলছে।
বিসিআইসির সাতটি কারখানার দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার ১০০ টন। দৈনিক ১১০০ থেকে ১২০০ টন ইউরিয়া উৎপাদনে সক্ষম সিইউএফএল গ্যাস সংকটের কারণে গত ফেব্রুয়ারি থেকেই বন্ধ। আগামী মাসের প্রথম থেকে সিইউএফএল চালু হতে পারে বলে জানান কারখানাটির জেনারেল ম্যানেজার (বাণিজ্য) আবদুল্লাহ আল মামুন। জেএফসিএলের উৎপাদনও গ্যাসের অভাবে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বন্ধ রয়েছে। এর আগে তিন মাস চালু থেকে এক বছর বন্ধ ছিল কারখানাটি। জেএফসিএল-এ দৈনিক ১২০০ থেকে ১৩০০ টন ইউরিয়া উৎপাদিত হয় বলে জানান ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (বাণিজ্য) মো. জাকির হোসেন। কাঁচামালের সংকটে গত বছরের নভেম্বর থেকে টিএসপি কারখানা এখন পর্যন্ত বন্ধ। এর জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন) রোকন উদ্দিন সামস বলেন, ‘কখন চালু হবে তা বলা যাচ্ছে না। এই কারখানায় দৈনিক ২০০ থেকে ৩০০ টন টিএসপি সার উৎপাদন হয়।’
গ্যাসের অভাবে গত বছরের ১ মার্চ থেকে আশুগঞ্জ সার কারখানা বন্ধ রয়েছে। এই কারখানায় দৈনিক ১১০০ টন সার উৎপাদিত হয়। এ বিষয়ে কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (উৎপাদন) এবি মাহমুদ হোসেন বলেন, উৎপাদন বন্ধ থাকায় মাসে ক্ষতি হচ্ছে ১৩৫ কোটি টাকা। একই কারণে এসএফসিএলের উৎপাদন সাময়িক বন্ধ রয়েছে। তবে দৈনিক ১৩০০ টন ক্ষমতার কারখানাটি শিগগিরই আবার উৎপাদনে আসতে পারে বলে আশা দিয়েছেন ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (বাণিজ্য) আহাম্মেদুর রহমান।
কাঁচামাল ফসফরিক অ্যাসিডের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গত ২৮ জুন থেকে ডিএপিএফসিএল কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির জিএম আলমগীর জলিল জানান, এই কারখানায় গ্যাসের প্রয়োজন নেই। তবে কাঁচামালের অভাবে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
একমাত্র সচল ঘোড়াশাল পলাশ সার কারখানার (জিপি) ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (বাণিজ্য) নুরে আলম বলেন, একমাত্র জিপি সার কারখানার উৎপাদন চালু আছে। এখানে ২৮০০ টনের বেশি সার উৎপাদিত হয়।
চাহিদা অনুপাতে মজুত কম
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি, এমওপির মজুত রবি মৌসুমের চাহিদা অনুপাতে কম রয়েছে। বর্তমানে দেশে ইউরিয়া সারের মজুত রয়েছে পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার টন, তবে আসছে রবি মৌসুমের চাহিদা রয়েছে ১৩ লাখ ২৬ হাজার মেট্রিক টন। ডিএপির মজুত আছে তিন লাখ ৫২ হাজার টন, চাহিদা ৯ লাখ ৮৮ হাজার টন। টিএসপির মজুত রয়েছে তিন লাখ ৬৮ হাজার টন, চাহিদা রয়েছে চার লাখ ৪৯ হাজার টন। এ ক্ষেত্রেও ঘাটতি ৮১ হাজার টন। এমওপির মজুত রয়েছে এক লাখ ৮১ হাজার টন, চাহিদা রয়েছে পাঁচ লাখ ৯৮ হাজার টন। ভালো ফলনের জন্য এই চার ধরনের সারই কৃষকদের জন্য অতি প্রয়োজনীয়। কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, চলতি মাসেই তিনটি দেশ থেকে আমদানি করা সার দেশে আসবে। ফলে মৌসুমের চাহিদার তুলনায় দেশে বাড়তি সার মজুত থাকবে।
এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিম জানান, চলতি মৌসুমে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ লাখ হেক্টর। আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ হেক্টরসহ মোট ৫৯ লাখ হেক্টরে চাষাবাদ হবে। আসছে রবি মৌসুমে সারের চাহিদা বেশি থাকবে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে সারের মোট চাহিদা ৬৭ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ টন। এর মধ্যে ইউরিয়ার চাহিদা ২৬ লাখ ২২ হাজার টন। টিএসপি ৭ লাখ ৫০ হাজার টন, ডিএপি ১৪ লাখ ৮৫ হাজার টন এবং এমওপি ৯ লাখ ৫০ হাজার টন সারের প্রয়োজন।
দেশে কোনো সারের সংকট নেই বলে দাবি করেছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান। গতকাল বুধবার রাতে তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বর্তমানে দেশে কোনো সারের সংকট নেই। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় সারের মজুত যথেষ্ট ভালো আছে। কানাডা, রাশিয়া, মরক্কো থেকে এ মাসের মধ্যে আরও সার আসছে। মৌসুমের আগেই চাহিদার তুলনায় বেশি সার আমাদের মজুত থাকবে। সার ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণের জন্য দেশের ৬৪ জেলায় ৬৪ ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে।’
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিসিআইসির কারখানাগুলো সচল করে নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এখন বৈশ্বিক পরিস্থিতি আমদানির অনুকূলে নয়। তাই বিসিআইসির কারখানাগুলো সচল করে নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। আমাদের কারখানা বন্ধ রাখা মানে নিজস্ব উৎপাদন বন্ধ রাখা। অথচ সার আমদানি নিরুৎসাহিত করতেই বিসিআইসি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। প্রথম দিকে প্রতিষ্ঠানটি চাহিদার ৮০ শতাংশ ইউরিয়া উৎপাদন করতে পারতো। এখন মাত্র ২০ শতাংশ সার উৎপাদন করতে পারে।’
কৃষকের উদ্বেগ
আজকের পত্রিকার রংপুর প্রতিনিধি জানান, পোদ্দারপাড়া গ্রামের কৃষক লাল মিয়া আমন চাষের সার নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমন ধান দ্যাওয়ার (বৃষ্টির) পানি দিয়া চাষ হয়। কিন্তু ১৫ দিন আগোত ধান নাগাছি শ্যালোর পানি দিয়া। এখন দ্যাওয়ার পানি নাই। জমি শুকি ফাকরা নাগছে। জমিত সার দিবার সময় আলছে। বাজার ফির সারও নাই। এমওপি দিলে ইউরিয়া নাই, ইউরিয়া দিলে টিএসপি নাই। মহা যন্ত্রণায় আছি।’
হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের কৃষক সাগর মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘ভাই ডাঙ্গীরহাট বাজারে দুই দিন সার আনবার যায়া ঘুরি আসছি। ডিলারের কাছে গেলে কয় সার নাই, শেষ হয় গেইছে। খুচরা দোকানে গেলে দাম বেশি চায়।’
প্রথম আলো
‘সংকট সামলাতেই তিন মাস, সমাধানের চেষ্টায় ধীরগতি’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, সরকারের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে তিন মাস পার হয়েছে জ্বালানিসংকট মোকাবিলায়। সরকার গঠনের মাত্র ১০ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় মার্চ-এপ্রিল দুই মাস কেটেছে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে। আর এখন প্রায় এক মাস ধরে চলছে গ্যাস–সংকট। সঙ্গে যোগ হয়েছে তীব্র লোডশেডিং। পরিস্থিতি সামলাতে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নের গতি ধীর।
জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এটা ঠিক, জ্বালানিসংকটের দায় বর্তমান সরকারের নয়। দেড় দশক ধরে সংকট বেড়েই চলেছে। আর দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সরকারকে বেকায়দায় ফেলেছে। এর সঙ্গে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে এলএনজি টার্মিনাল দুর্ঘটনা। তবে সংকট মোকাবিলায় সরকারের ব্যবস্থাপনায়ও ঘাটতি দেখা গেছে। দ্রুত উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
গত মার্চে জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। মার্চের প্রথম চার দিনে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ হারে তেল বিক্রি হয়। এটি নিয়ন্ত্রণে সরকার রেশনিং চালু করলে আরও আতঙ্কিত হয় মানুষ। ফিলিং স্টেশনে ভিড় বাড়তে থাকে। কিছুদিন পর রেশনিং প্রত্যাহার করা হলেও সরবরাহ বাড়ানো হয়নি। সরকারের একটার পর একটা সিদ্ধান্ত উল্টো ফল দিতে থাকে। টানা প্রায় দুই মাস দিন-রাত ভিড় ছিল ফিলিং স্টেশনে। এপ্রিলের শেষ দিকে রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি, ফুয়েল পাস চালু ও বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর পর ভিড় কমে আসে।
এ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত বাড়ানোর কথা বলা হলেও তা হয়নি। এখনো নিয়মিত আমদানির ওপর ভরসা করেই চলছে জ্বালানি তেল খাত। এর মধ্যে দরপত্র ছাড়া সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে একের পর এক তেল কেনার কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও প্রথম দফায় তারা কেউ তেল সরবরাহ করেনি। এখন দ্বিতীয় দফায় আবার কয়েকটি কোম্পানিকে একই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অথচ কোনো কারণে আমদানি ব্যাহত হলেই দেখা দেবে সংকট।
দেশে জ্বালানি তেলের একমাত্র সরকারি পরিশোধনাগারটি স্বাধীনতার আগের। গত আওয়ামী লীগ সরকার ৩০ লাখ টনের শোধনাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ২০১২ সালে। কিন্তু প্রকল্পটির কাজ শুরু করেনি। শেষ দিকে এটি এস আলম গ্রুপকে দেওয়া হয়েছিল। গত অন্তর্বর্তী সরকার সেটি বাতিল করে সরকারি খরচে বাস্তবায়নের প্রকল্প নেয়, যা গত ফেব্রুয়ারিতে অনুমোদন করে উপদেষ্টা পরিষদ। বর্তমান সরকার এটি অব্যাহত রাখলেও প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেয়নি। ফলে কোনো কাজ এগোয়নি।
গত আওয়ামী লীগ সরকার দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন করেছিল ২০১০ সালে। এটি দায়মুক্তি আইন নামে পরিচিতি পায়। এ আইনের অধীনে একের পর এক চুক্তি করা হয়েছিল দরপত্র ছাড়া। বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে জ্বালানি নিশ্চিত না করেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছিল। এসব কেন্দ্রের গড়ে প্রায় ৪৫ শতাংশ সক্ষমতা অলস বসিয়ে রেখে কেন্দ্রভাড়া (ক্যাপাসিটি চার্জ) দিতে হচ্ছে। প্রতিবছর বিদ্যুৎ খাতে সরকারের লোকসান বাড়ছে।
বিপুল দায় রেখে যায় আওয়ামী লীগ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বকেয়ার বিপুল দায় রেখে গেছে আওয়ামী লীগ সরকার। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় তারা গ্যাস খাতে ৭৫ কোটি ডলার (প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা) ও জ্বালানি তেল খাতে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের (প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা) বকেয়া রেখে যায়। অন্তর্বর্তী সরকার ধাপে ধাপে এসব বকেয়া শোধ করে দেয়। বর্তমান সরকার বকেয়া বাড়ায়নি। তবে দুই খাতেই ভর্তুকি বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে লোকসানে বিপিসি। জ্বালানি তেলের দাম দেশে এখন সর্বোচ্চ। তবু লোকসান সামলাতে এক যুগ পর সরকারের কাছে ভর্তুকি চেয়েছে সংস্থাটি। এত দিন মুনাফায় ছিল তারা।
সব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চুক্তি অনুসারে বিদ্যুৎ কিনে নেয় পিডিবি। নিয়মিত বিল শোধ না করায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া বাড়তে থাকে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে আওয়ামী লীগ বকেয়া রেখে গেছে ৪৭ হাজার কোটি টাকা। অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুর দিকে বকেয়া বাড়তে থাকে। এরপর ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত আগের বকেয়াসহ নিয়মিত বিল দিয়ে গেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে বকেয়া কমলেও গত বছরের আগস্ট থেকে বকেয়া আবার বাড়তে থাকে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় বকেয়া ছিল ৪৬ হাজার কোটি টাকা। এখন বকেয়া প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘গ্যাস সংকটে দিশেহারা মানুষ: সরাসরি তদারকির দায়িত্বে প্রধানমন্ত্রী, হচ্ছে তদন্তও’। প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্যাস সংকটে দিশেহারা মানুষ। গ্যাস নেই গাড়িতে ও বাড়িতে। শিল্পে উৎপাদন তলানিতে। দীর্ঘ প্রায় এক মাস ধরে চলা গ্যাস সংকটে রপ্তানি বাণিজ্য তথা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ধস নামার উপক্রম হয়েছে। হঠাৎ পরিস্থিতির অবনতিতে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি গ্যাস সংকটের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুনের ঘটনা এবং সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় এলএনজি কার্গো ক্রয় এবং সময়মতো সরবরাহ না দেওয়ার বিষয়টিতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারার ব্যর্থতার দায় এসে পড়েছে জ্বালানি বিভাগের ওপর। এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদকে এলএনজি ক্রয়সহ জ্বালানি বিভাগের কার্যক্রম নিয়মিত জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। উপদেষ্টা রেহান আসিফ বুধবার যুগান্তরকে বলেন, পুরো বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।
এদিকে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে ২১ জুলাই আগুন লাগার কারণ উদ্ঘাটনে সরকারি তদন্ত দলকে সহযোগিতা না করার বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আগুন লাগার পর টার্মিনালটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় গ্যাস সরবরাহ করতে না পারায় সংকটের যাত্রা শুরু হয়। জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব ফজলুল হকের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটিকে কোনো সহযোগিতাই করেনি এক্সিলারেট। কমিটির সদস্যরা মাতারবাড়ি পৌঁছার পরও তাদের টার্মিনালে উঠতে পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীও ওই টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে ব্যর্থ হন। প্রতিমন্ত্রীকে সেখানে যাওয়ার অনুমতিই দেওয়া হয়নি। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এদিকে, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এলএনজি কার্গোর অভাবে বুধবার বেলা ৩টায় এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ হয়ে গেছে। এখন শুধু সামিটের টার্মিনাল থেকে দিনে ৫৬ থেকে ৫৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
দেশের দুটি এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন লাগে ২১ জুলাই। আংশিকভাবে সেটি ৬ আগস্ট ঠিক হলেও এখনো সারা দেশে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। এজন্য জ্বালানি বিভাগের দায়িত্বে অবহেলা এবং অদূরদর্শিতাকে দায়ী করা হচ্ছে। অগ্নিদুর্ঘটনার পর থেকে এক্সিলারেটের জন্য এখনো এলএনজি কার্গো সংগ্রহ করতে পারেনি জ্বালানি বিভাগ। ২৩ আগস্ট বিপি সিঙ্গাপুর থেকে একটি কার্গো আসার কথা। যদি আসে তখন গ্যাস সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হবে। তবে সামগ্রিকভাবে বিব্রত সরকার। গ্যাসের কারণে শত শত কারখানা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বেকার হয়ে পড়ছেন হাজারো শ্রমিক-কর্মচারী। এমন অবস্থায় পুরো বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নিজে তদারকির দায়িত্ব নিয়েছেন। তদন্তের মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারীদের শাস্তির আওতায় আনার উদ্যোগও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এক্সিলারেটের অসহযোগিতার অভিযোগ : এক্সিলারেটের টার্মিনালের বয়লারে আগুন লাগার পর সারা দেশে ভয়াবহ গ্যাস সংকট শুরু হয়। বিষয়টি তদন্তে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব ফজলুল হকের নেতৃত্বে কমিটি করা হয়। কমিটি জুলাই মাসের শেষে মাতারবাড়ি যায়। সেখানে এক্সিলারেটের অগ্নিদুর্ঘটনা তদন্তের চেষ্টা করে কমিটি। কিন্তু এক্সিলারেট কমিটির সদস্যদের টার্মিনালে উঠতেই দেয়নি। কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেছেন-‘কমিটির সদস্যরা অনেকক্ষণ মাতারবাড়িতে অপেক্ষা করেছেন। কিন্তু টার্মিনালে (ভাসমান জাহাজ) ৪০ জন কর্মরত আছেন। তাই নতুন করে কাউকে সেখানে উঠতে দেওয়া যাবে না বলে তারা জানিয়ে দেয়। এছাড়া সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীও ওই টার্মিনালে গিয়ে পরিদর্শন করতে চেয়েছিলেন। তাকে সেখানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ওই প্রতিমন্ত্রীকে মাতারবাড়ির পরিবর্তে চট্টগ্রামের বোড ক্লাবে বৈঠক করতে বলা হয়েছে। পরে প্রতিমন্ত্রী না গিয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে সেখানে পাঠান। এরপর সৌদি কোম্পানি আরামকোর মস টাইপ কার্গো থেকে এলএনজি খালাসে অপারগতা প্রকাশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ ব্যাপারে বারবার চেষ্টা করেও এক্সিলারেট এনার্জির কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এক্সিলারেটের ওই টার্মিনালের জন্য দিনে পেট্রোবাংলা ২ লাখ ৩০ হাজার ডলারের বেশি ভাড়া দেয়।
সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় কেনা কার্গো আসেনি : সামিটের টার্মিনালের জন্য এক সপ্তাহ আগে সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় একটি কার্গো আসার কথা ছিল। কিন্তু সেটি আসেনি। কয়েকদিন পর সেখানে স্পট থেকে বিটল এশিয়া থেকে কিনে আগেভাগে সামিটের টার্মিনালে আনা হয় অন্য এক কার্গো। এই কারণেও কিছুদিন গ্যাসের সংকট হয়। অন্যদিকে, গত এক সপ্তাহ ধরে এক্সিলারেট টার্মিনাল পুরোদমে এলএনজি সরবরাহ করতে প্রস্তুত। কিন্তু সেখানে সংযুক্ত করার মতো কোনো কার্গো নেই। ২৩ আগস্ট বিপির একটি কার্গো আসলে এই টার্মিনাল চালু হবে। বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা থেকে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে সিএনজি সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। জ্বালানি বিভাগের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেছেন, সামগ্রিক বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে প্রধানমন্ত্রীকে। দিনে দু-একবার করে প্রধানমন্ত্রী বা তার টিমকে আপডেট জানাতে হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেছেন, দীর্ঘায়িত গ্যাস সংকটের জন্য জ্বালানি বিভাগ অনেকটা দায়ী। সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় কেনা কার্গোগুলো আসবে না জেনে ৬ আগস্টের মন্ত্রিসভা কমিটিতে স্পট থেকে কেনা দুটি কার্গো ক্রয়ের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল ক্রয় কমিটিতে সেটি অনুমোদন করতে দেয়নি। যার খেসারত এখন দিচ্ছে পুরো দেশ।
প্রায় ২৫ বছর পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে একজন পূর্ণমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছে বর্তমান সরকার। ২০০১ সালের পর এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। জ্বালানি বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় এলএনজি কেনার ব্যাপারে সাবধান করে দিয়েছেন জ্বালানি বিভাগকে। অবশ্য সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় ৭টি কোম্পানির ১৪টি কার্গো কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে বুধবারের অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে।
এদিকে এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হওয়ায় বুধবার বিকালে সারা দেশে গ্যাসের সরবরাহ কমেছে। বুধবার সন্ধ্যায় সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়েছে ২২০ কোটি ঘনফুটের কম। বুধবার বিকাল ৫টায় সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৫০৪ মেগাওয়াট। আর সরবরাহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট।
কালের কণ্ঠ
‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ, কাল শপথ’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আজ বৃহস্পতিবার ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে। সংসদ ভবনের অধিবেশনকক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
এ নির্বাচনের ভোটার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য। এ লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সংসদ সচিবালয়। ভোটে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। যদিও সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিজয় সুনিশ্চিত।
ভোট গণনা শেষে অধিবেশনকক্ষেই ফল ঘোষণা করা হবে। গতকাল বুধবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে এ নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, “সংসদীয় ব্যবস্থায় ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রথম ভোটগ্রহণের ৩৫ বছর পর এবার এ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে—সব মিলিয়ে এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ‘ঐতিহাসিক’। এ নির্বাচনের দিকে পুরো জাতি ও বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে।
ইনশাআল্লাহ আমরা একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারব। গণ-অভ্যুত্থানের পর একজন রাষ্ট্রপতি মেয়াদ শেষের আগে পদত্যাগ করেছেন। এখন কে রাষ্ট্রপতি হবেন, তা নিয়ে সবার একটা আগ্রহ আছে। নির্বাচনে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতা ভোট দেবেন। তাঁদের ভোট দেওয়ার সময় সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভোটগ্রহণ চলাকালে সম্প্রচার বন্ধ থাকার পর বিকেল ৫টায় ভোট গণনা শুরু হলে আবার সরাসরি সম্প্রচার শুরু হবে। কোন সংসদ সদস্য কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন তা দেখতে পাবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘এটা ওপেন। প্রার্থীর নামের পাশে ব্যালটে ভোটারের নাম থাকবে। আমি যখন ব্যালট পাব, গণনা করব, দেখব কে কাকে ভোট দিয়েছেন। অন্য নির্বাচনে কে কাকে ভোট দিল দেখা যায় না।’
তিনি বলেন ‘কতটি ব্যালট ছাপানো হয়েছে, কতটি ব্যবহার হয়েছে, কতটি অব্যবহৃত রয়েছে, কতটি বাতিল হয়েছে এবং প্রার্থীরা কে কত ভোট পেয়েছেন—এসব বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে।’
দীর্ঘদিন পর এ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতার কিছুটা ঘাটতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন নির্বাচনী কর্তা। তিনি বলেন, ‘ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি এখানে একটু শর্ট আছে। কারণ আমাদের লোকজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণে অভ্যস্ত নন। সংসদ সচিবালয়ও এই প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত নয়। এর পরও যত রকমের সম্ভব এক্সারসাইজ সম্ভব এবং দরকার, সেটা আমরা করেছি।’
সংসদের অধিবেশনকক্ষের বাইরে ভোটের প্রচারে বাধা নেই জানিয়ে নির্বাচনী কর্তা বলেন, “ভোটের দিন ওখানে হাউসের (অধিবেশনকক্ষে) মধ্যে কোনো প্রচার-প্রচারণা চলবে না। নির্বাচন আয়োজনের সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যাঁরা স্টেকহোল্ডার আছেন, সবার সহযোগিতা পাচ্ছি। কোনো অসুবিধা হবে বলে আমরা মনে করি না। দীর্ঘদিন পর এমন একটি নির্বাচন পরিচালনার সুযোগ পাওয়া নিজের জন্যও ‘ভাগ্যের ব্যাপার’।”
নির্বাচন সামনে রেখে সরকারি দল বিএনপির সংসদীয় দলের সভা গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় অনুষ্ঠিত সভায় সংসদ সদস্যদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সভায় নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহবান জানানো হয়েছে। সবাইকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।’
জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটের ভোটারদের একই নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ কালের কণ্ঠকে জানান। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ভোট শুরুর আগে আমাদের সংসদীয় দলের সভা হবে। সেখানে ১১ দলীয় ঐক্যের ভোটারদের অলি আহমদকে ভোট দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হবে।’
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘কার্গো সংকটে গ্যাসের ঘাটতি কাটছে না’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মহেশখালীর এক্সিলারেটের এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ৩০ দিনেও দেশের গ্যাস সংকট কাটেনি। সংকটের শুরুতে কারণ ছিল টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি। সেই সমস্যা অনেকটা কাটলেও নতুন করে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এলএনজি কার্গোর সংকট। টার্মিনাল প্রস্তুত থাকলেও সেখানে পর্যাপ্ত এলএনজি নেই। তাই একটি টার্মিনাল বন্ধ রাখতে হচ্ছে, অন্যটি দিয়ে কোনোমতে পরিস্থিতি সামলানো হচ্ছে।
সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্প, সার ও সিএনজি খাতে গ্যাসের ঘাটতি দূর হচ্ছে না। অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সীমিত গ্যাসের বড় অংশ বিদ্যুৎকেন্দ্রে দিতে হচ্ছে। তাই শিল্পের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
সংকট কাটাতে সরকার এখন জরুরি ভিত্তিতে এলএনজি কিনছে। এরই মধ্যে দরপত্রের নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আরও ১৪ কার্গো কেনার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে একটি কার্গো কেনার প্রস্তাবেও অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। এই কার্গোর প্রতি এমএমবিটিইউর দাম পড়ছে ২৩ দশমিক ৯৩ ডলার। অথচ বর্তমানে আন্তর্জাতিক স্পট বাজারে এলএনজির দাম প্রায় ২১ দশমিক ০৯ ডলার। অর্থাৎ জরুরি ভিত্তিতে কিনতে গিয়ে প্রতি ইউনিটে প্রায় ২ দশমিক ৮৪ ডলার বেশি দিতে হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১২টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২২৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ছিল ১৬২ কোটি ৮০ লাখ এবং এলএনজি থেকে ৬৬ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। সন্ধ্যা ৬টায় মোট সরবরাহ আরও কমে দাঁড়ায় ২১৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুটে। তখন দেশীয় গ্যাস ছিল ১৬২ কোটি ৭০ লাখ এবং এলএনজি থেকে পাওয়া যায় ৫৬ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট।
সরকারি হিসাবে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সে হিসাবে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় চাহিশর তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি ছিল প্রায় ১৬১ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। মেটি সরববাহের এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি এসেছে এলএনজি থেকে অথচ স্বাভাবিক সময়ে মহেশখালীর বৃটি ভাসমান টর্মিনাল থেকে এর ১৯০৯ অনেক বেশি গ্যাস সরবরাহের সখ্যতা রয়েছে। কার্গো সংকটে সেই সহমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
টার্মিনাল আছে, কার্গো নেই
১৩ ২১ জুলাই মহেশখালীতে মার্কিন বোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির্দা এলএনজি টার্মিনালে আগুন ও কর্মরিচার গতির পর দেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বদ হয়ে যায়। এতে দৈনিক প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। প্রায় ১৫ দিন পর টার্মিনালটি আংশিক সচল হলে সরববাহ বিছুটা বাড়তে শুরু করে। ১৩ আগস্ট সামিটের টার্মিনালেও কার্গো নিয়ে জটিলতা তৈরি হয় একপর্যায়ে সেখান থেকে গণস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ সোমে আসে ১৯২ কোটি ফনফুটের কাছাকছি। ১৪ আগষ্ট সবার থেকে সামিটের উমিনাস আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু করে।
একই সময়ে এক্সিলারেটের ফতিগস্ত বালার মেরামত কাজ শেষ হয়। নতুন কার্গো না থাকায় টার্মিনাসের মজুত এলএনজি দিয়ে সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ কদা হাজুল। ফিনে ৯ থেকে ১০ কোটি ঘনফুটের মতো সরবরাহ চললেও মজুত দ্রুত কমে যায়। শেষ পর্যন্ত গতকাল বি বিকেল পৌনে ৩টার দিকে এক্সিসারেটের টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়।
এর প্রভার গ্যাস সরবরাহের হিসাবেও স্পষ্ট গতকাল দুপুর ১২টায় দুই টার্মিনাল থেকে মোট ৬৬ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট এলএনজি পরা গেলেও সদয়া ৬টায় ৩/ কমে ৫৬ কোটি ২০ লাখ ঘনফুটে নেমে আসে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী ২৩ আগস্ট একটি কার্গে সংশ্লররা বলছেন, এলে সেটি এক্সলরেটের টার্মিনালে যুক্ত হওয়ার কথা। এর আগে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস পাওয়ার সুযোগ নেই। এতে ওই সময় পর্যন্ত গ্যাসের ঘাটতি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে
সময়মতো আসেনি কেনা কার্গো
কার্গো সংকটের পেছনে সরাসরি ক্রয় পদ্মতিতে আগের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চলতি মাসের শুরতে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত বলতে কয়েকটি কার্গো সরাসরি কেনার সিদ্ধান্ত নেয় সদকার। পরিকল্পনা ছিল, একের পর এক কার্গো এসে একিলরেটের টার্মিনালের মজুত পূরণ করবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সব কার্গো না জানা সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের অভিযোগ, নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক প্রানলার বাইরে গিয়ে কার্গো কেনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক তদবির, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর চাপ ও প্রশাসনিক জাঁবং কাজ করেয়ে। এতে সরবরাহকারীর সঙ্গমতা, কার্গো পরিবহনের সময়সূচি এবং নির্ধারিত সময়ে দেশে পৌঁচানোর নিশ্চ্যাতা যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।
এখন সেই সিদ্ধান্তের ধাক্কা সামলাতেই সরকারকে নতুন করে উপবি ভিত্তিতে কার্গো সংগ্রাহ করতে হচ্ছে। কুংলার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সাতটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১০সির জন্য পদ্ধ ৩১০ ১৪ কার্গে ৩এলএনজি আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। সরকারের বক্তব্য, রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজন ও জনস্বার্থে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক
‘এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ, সংকট আরো বাড়ছে’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা ২৫ দিনের তীব্র গ্যাস-সংকটের পর গত শনিবার সামিটের টার্মিনাল পুরোদমে এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালু হলে সরবরাহ বাড়ে। তবে নতুন কার্গো না থাকায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে তিন দিন ধরে সরবরাহ কমছে। গতকাল বুধবার বেলা ৩টায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে গ্যাস-সংকট আরো বাড়ছে। জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা। আমদানির দায়িত্বে রয়েছে পেট্রোবাংলার কোম্পানি রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এলএনজির মজুত না থাকায় সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র বলছে, নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কম দামে এলএনজি কিনতে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে বেশ কিছু কার্গোর ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়। চলতি মাসেই তার চারটি আসার কথা, একটিও আসেনি। সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনা কার্গোগুলো না আসায় সংকট আরো বেড়েছে। এখন টার্মিনাল তৈরি থাকলেও এলএনজি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। কক্সবাজারের মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির, অন্যটি দেশি কোম্পানি সামিটের। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। গত শনিবার তারা পুরোদমে এলএনজি সরবরাহের জন্য তৈরি হয়। কিন্তু নতুন এলএনজি কার্গো না আসায় পুরোনো মজুত থেকে আংশিক সরবরাহ শুরু করে। গত সোমবার থেকে তাদের সরবরাহ কমতে থাকে। আজ বৃহস্পতিবার একটি কার্গো আসার কথা রয়েছে, যা সামিটের টার্মিনালে যুক্ত হতে পারে।
এক্সিলারেটের জন্য কার্গো ২৩-২৪ আগস্ট আসতে পারে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। তার মানে আগামী কয়েক দিন এক্সিলারেট বন্ধ থাকবে এবং গ্যাসের সংকট বাড়বে। দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি দেওয়া হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট। ঐ এলএনজি এক্সিলারেট এনার্জি ও সামিটের টার্মিনাল থেকে পাইপলাইনে যুক্ত হয়। মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের দৈনিক সক্ষমতা ৬০ কোটি এবং দেশি কোম্পানি সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। গত শুক্রবার বিকালে দুটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকলে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে দৈনিক ১৬৪ কোটি ঘনফুটে। ঐদিন সন্ধ্যায় ৯ কোটি ঘনফুট সরবরাহ শুরু করে সামিট। সামিটের সরবরাহ বাড়ায় শনিবার ভোরে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ২৪২ কোটি ঘনফুট হয়। রবিবার সরবরাহ কমে ২৪০ কোটি এবং সোমবার ২২৮ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। গতকাল এক্সিলারেট বন্ধের পর গ্যাস সরবরাহ ২১৮ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। গতকাল এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয় ৬৬ কোটি ঘনফুট। এক্সিলারেট টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধের পর এটি ৫৫ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। এতে সারা দেশে গ্যাসের সংকট তীব্র হয়েছে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘এস আলমের বিদ্যুৎকেন্দ্রে ছাড়ে ৩২ লাখ ডলার ঋণ’। খবরে বলা হয়, আর্থিক খাতে নজিরবিহীন লুটপাটের অভিযোগে অভিযুক্ত এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেড’-এর অনুকূলে বিশেষ ছাড় দিয়ে ৩২ লাখ মার্কিন ডলার ঋণ ছাড়ের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে অনুমোদিত একটি বৈদেশিক মুদ্রার সিন্ডিকেটেড ঋণের আওতায় রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের অংশে থাকা অবশিষ্ট ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ মার্কিন ডলার (প্রায় ৩৮ কোটি টাকা) ছাড়ের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও সরঞ্জাম আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রেও আইনি শর্ত শিথিল করা হয়েছে।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বিতর্কিত ও তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো- অর্থ ছাড়ের নির্দেশ দিলেও এর কোনো আর্থিক বা আইনি দায় নেবে না বাংলাদেশ ব্যাংক। এমনকি ভবিষ্যতে এই ঋণের টাকা আদায় না হলে বা খেলাপি হয়ে পড়লে রূপালী ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে কোনো প্রকার আর্থিক সহায়তা বা ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবে না; অর্থাৎ বিতর্কিত গ্রুপের প্রকল্পে অর্থ ছাড়ের রাস্তা সহজ করে দেয়া হলেও সম্পূর্ণ ঝুঁকির বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের কাঁধে।
আইনের ধারায় নজিরবিহীন ছাড়
গতকাল ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ (বিআরপিডি) থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এসএস পাওয়ার-১-এর অনুকূলে ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে একই আইনের ২৭কক (৩) ধারার বিধিনিষেধ থেকে বিশেষ অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সাধারণ নিয়মে কোনো একক গ্রাহক বা গ্রুপের সার্বিক খেলাপি স্থিতি ও ঋণসীমা (সিঙ্গেল বোরোয়ার এক্সপোজার লিমিট) অতিরিক্ত হলে নতুন করে এলসি বা ঋণ সুবিধা দেয়া নিষিদ্ধ। তবে বিশেষ ক্ষমতার বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই আইনি বাধ্যবাধকতা শিথিল করেছে।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বিতর্কিত ও তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো- অর্থ ছাড়ের নির্দেশ দিলেও এর কোনো আর্থিক বা আইনি দায় নেবে না বাংলাদেশ ব্যাংক। এমনকি ভবিষ্যতে এই ঋণের টাকা আদায় না হলে বা খেলাপি হয়ে পড়লে রূপালী ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে কোনো প্রকার আর্থিক সহায়তা বা ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবে না; অর্থাৎ বিতর্কিত গ্রুপের প্রকল্পে অর্থ ছাড়ের রাস্তা সহজ করে দেয়া হলেও সম্পূর্ণ ঝুঁকির বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের কাঁধে।
ব্যাংক খাতে তীব্র বিতর্ক ও বড় প্রশ্ন
এস আলম গ্রুপ এককভাবে দেশের অন্তত ১১টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ভুয়া কাগজপত্র ও বেনামি নামে প্রায় সাকুল্যে সোয়া দুই লাখ কোটি টাকা বের করে নিয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে। লুটে নেয়া এসব অর্থের বড় অংশই পাচার করা হয়েছে বিদেশে। লুটপাটের ধাক্কায় ইতোমধ্যে পাঁচটি ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন ও তারল্য সঙ্কটে পড়ে একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় যেতে হয়েছে।
বণিক বার্তা
‘স্থানীয় গ্যাস সরবরাহে বড় উদ্বেগ বিবিয়ানার উৎপাদন হ্রাস’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে স্বাভাবিক সময়ে গ্যাসের সরবরাহ থাকে ২ হাজার ৬৬০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ভাসমান টার্মিনালে সংকট-ত্রুটিতে গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ অন্তত ১৮ শতাংশ কমে গেছে।
এলএনজি নিয়ে গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলমান সংকটে বিদ্যুৎ, শিল্প-কারখানা থেকে শুরু করে আবাসিক খাত ভোগান্তিতে পড়েছে। পাশাপাশি ভাবিয়ে তুলেছে স্থানীয় গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস। বিশেষ করে দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাস ফিল্ড বিবিয়ানার উৎপাদন কমে যাওয়াকে উদ্বেগের বলে মনে করেন পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, দেশে উৎপাদনে থাকা সবচেয়ে বড় গ্যাস ফিল্ড বিবিয়ানা। এ ফিল্ড স্থানীয় গ্যাসের ৪৫ শতাংশ জোগান দিচ্ছে। তবে ধারাবাহিকভাবে ফিল্ডটি থেকে গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। দেশের অন্য কোনো গ্যাস ফিল্ড থেকে বড় আকারে জোগান বাড়ছে না। তাই বিবিয়ানার উৎপাদন হ্রাস দেশের সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলছে।
বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড পরিচালনা করছে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন। তাদের আওতায় মৌলভীবাজার ও জালালাবাদসহ মোট তিনটি গ্যাস ফিল্ড রয়েছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য-উপাত্ত থেকে জানা গেছে, বিবিয়ানা ফিল্ডের বর্তমান উৎপাদন দৈনিক ৭৪০ মিলিয়ন ঘনফুট (১৮ আগস্ট হিসাব অনুসারে), যা চলতি বছরের মার্চেও ছিল কম-বেশি ৮২০ মিলিয়ন ঘনফুটের কিছু বেশি। এপ্রিলের অর্ধেক সময়জুড়ে উৎপাদন কম-বেশি ৮০৫-৮১০ মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে নেমে যায়। গত সাড়ে পাঁচ মাসের ব্যবধানে ফিল্ডটির উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে ৮০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো।
দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর আওতায় মোট ১৭টি গ্যাস ফিল্ড রয়েছে। এসব গ্যাস ফিল্ডের মধ্যে তিতাস, হবিগঞ্জ, রশিদপুর, শাহবাজপুর বড় আকারে গ্যাস সরবরাহ দিচ্ছে। বাকি ফিল্ডগুলোর উৎপাদন নামমাত্র। কোনোটির উৎপাদন শূন্যতেও নেমে এসেছে।
জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার দুজন কর্মকর্তা নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড স্থানীয় গ্যাসের বড় সরবরাহকারী। প্রতি মাসে এ ফিল্ড থেকে গড়ে ১২ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম পাওয়া যাচ্ছে। যেহেতু স্থানীয় তিন-চারটি গ্যাস ফিল্ড ছাড়া বাকিগুলোর উৎপাদন সীমিত, তাই বিবিয়ানার গ্যাস হ্রাস পাওয়া কিছুটা উদ্বেগের।
দেশের গ্যাস খাতে দৈনিক চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে স্বাভাবিক সময়ে গ্যাসের সরবরাহ থাকে ২ হাজার ৬৬০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো। যদিও এখন তা কমে ২ হাজার ১৭৫ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে (গতকালের হিসাবে)। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শিল্প খাত, সার কারখানা, সিএনজি ও আবাসিক খাত বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।
দেশে এলএনজি সরবরাহে দুটি টার্মিনাল রয়েছে। টানা ২৫ দিনের গ্যাস-সংকটের পর গত শনিবার সামিটের টার্মিনাল পুরোদমে এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালু হলে সরবরাহ বাড়ে। তবে নতুন কার্গো না থাকায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে তিনদিন ধরে সরবরাহ কমছে। গতকাল বেলা ৩টায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। জানা গেছে, এলএনজি সরবরাহের জন্য কার্গো না থাকায় টার্মিনাল বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন কার্গো টার্মিনালে পৌঁছালে পুনরায় এলএনজি সরবরাহ শুরু হবে।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট ৬৬.৩ শতাংশ মানুষ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজে সন্তুষ্ট বলে এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে। স্বাধীন জনমত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডপলার রিসার্চ বাংলাদেশ লিমিটেড পরিচালিত ওই জরিপে অংশ নেওয়া ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কাজের প্রতি সন্তোষ জানিয়েছে। এ ছাড়া সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের কর্মকা-কে ভালো বলেছেন ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাজকে ভালো বলেছেন ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইনোভিশন কনসালটিংয়ের অর্থায়ন ও সহায়তায় পরিচালিত এই জরিপের ফলাফল গতকাল বুধবার প্রকাশিত হয়েছে। জরিপে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জোরালো সমর্থন পাওয়া গেলেও সরকারের কাজ এবং দেশ কোন পথে চলছে এই দুই প্রশ্নে সন্তুষ্টির হার তুলনামূলক কম বলে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে মানুষ আশাবাদী, কিন্তু একই সঙ্গে তারা বলছেন, অর্থনৈতিক অবস্থা আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। খাদ্য ও জ্বালানির দাম এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতিকে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন উত্তরদাতারা।
জরিপের মাঠপর্যায়ের কাজ পরিচালিত হয়েছে এই আগস্টেই। সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের একটি প্যানেলের ওপর জরিপকালে ১০ হাজার ৪১৩টি কল করা হয়। এ সংক্রান্ত ‘অ্যাপ্রুভাল রেটিং সার্ভে ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ডপলার রিসার্চ বলছে, সরকারের ১৮০ দিনের কাজ নিয়ে জনমত যাচাইয়ের জরিপে যে চিত্র উঠে এসেছে, তাকে বলা যায় ‘সতর্ক আশাবাদ’। মানুষ প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের কাজে সন্তুষ্ট, কিন্তু দেশ কোন পথে চলছে তা নিয়ে তারা বিভক্ত। আর দৈনন্দিন জীবনে উন্নতি হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নে তারা এখনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।
প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্টির হার সরকারের চেয়ে বেশি: জরিপে অংশ নেওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তার দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করছেন। ২১ দশমিক ৬ শতাংশ বলেছেন, তিনি ভালো করছেন না। বাকি ১২ দশমিক ১ শতাংশের কোনো মতামত নেই কিংবা তারা উত্তর দিতে চাননি। এই মূল্যায়ন প্রায় সব ক্ষেত্রেই অভিন্ন। বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষা ও আয় সব শ্রেণিতেই এই হার ৬১ দশমিক ৭ থেকে ৭০ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে এবং আটটি বিভাগের প্রতিটিতে ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ বা তার বেশি।
সরকারের কাজে সন্তুষ্টির তুলনায় প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্টির হার বেশি। এমনকি অন্য দলের সমর্থকদের মধ্যেও তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ, জাতীয় নাগরিক পার্টির সমর্থকদের মধ্যে ৬৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সন্তুষ্ট।
সরকারের কাজকে ভালো বলেছেন ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ, খারাপ বলেছেন ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ। প্রতিটি দলীয় সমর্থকগোষ্ঠীতেই একই ক্রম দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান সরকারের ওপরে, আর সরকারের অবস্থান দেশের গতিপথ নিয়ে মূল্যায়নের ওপরে।
দেশ সঠিক পথে চলছে, বলছেন অর্ধেকের কিছু কম : জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ মনে করেন, দেশ সঠিক পথে চলছে, আর ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ মনে করেন, ভুল পথে। ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ কোনো উত্তর দেননি যা জাতীয় পরিস্থিতি সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্নের মধ্যে সর্বোচ্চ।
জরিপের অন্য যেকোনো প্রশ্নের তুলনায় এই প্রশ্নেই মতভেদ সবচেয়ে বেশি। বিএনপির সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ বলেছেন, দেশ সঠিক পথে আছে। আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ক্ষেত্রে এই হার সর্বনিম্ন; ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
খাদ্য ও জ্বালানির মূল্য এবং বিদ্যুৎ নিয়ে নাগরিকরা উদ্বিগ্ন : দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা কী কোনো তালিকা না দিয়ে এই প্রশ্ন করা হলে ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ বলেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কথা এবং ৫৯ দশমিক ১ শতাংশ বলেছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের কথা। তৃতীয় স্থানে আইনশৃঙ্খলা (৩২ দশমিক ৬ শতাংশ) এবং চতুর্থ স্থানে কর্মসংস্থান (৩০ দশমিক ৮ শতাংশ)।
যে দুটি বিষয়কে সবচেয়ে বড় সমস্যা বলা হয়েছে, সেই দুটির ক্ষেত্রেই সরকারের কাজের মূল্যায়ন সবচেয়ে খারাপ। ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ বলেছেন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা খারাপ হচ্ছে, ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশ বলেছেন জ্বালানি ও গ্যাসের ক্ষেত্রে এবং ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ বলেছেন নিত্যপণ্যের মূল্যের ক্ষেত্রে।
সহযোগীদের খবর
গ্যাস ও কাঁচামালের সংকট: ৭ সার কারখানার ছয়টিই বন্ধ
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন
১ ঘন্টা আগে
২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার), ২০২৬, ৯ঃ২০ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
