পাকিস্তানি আকাশসীমায় ভারতীয় বিমানের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ল

পাকিস্তানি আকাশসীমায় ভারতীয় বিমানের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ল

ফন্ট সাইজ:

আবারও ভারতীয় বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি (পিএএ) নতুন এক ‘নোটিস টু এয়ারমেন’ (নোটাম) জারি করে এই নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ। নতুন নোটাম অনুযায়ী, ১৮ই আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা ২৪শে সেপ্টেম্বর ভোর ৪টা ৫৯ মিনিট (পাকিস্তান স্ট্যান্ডার্ড টাইম) পর্যন্ত বহাল থাকবে। ভারতের নিবন্ধিত সব উড়োজাহাজ, ভারতীয় বিমান সংস্থার বিমান, ভারত লিজ নেয়া উড়োজাহাজ এবং ভারতীয় নাগরিকদের মালিকানাধীন বা পরিচালিত বেসামরিক ও সামরিক উড়োজাহাজের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে।

পাকিস্তানি আকাশসীমা ভারতীয় বিমানের জন্য প্রথম বন্ধ করা হয় ২০২৫ সালের ২৩শে এপ্রিল। সর্বশেষ নোটামটি হলো এই নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর জন্য জারি করা ১৬তম নোটাম। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলে ভারত। তবে ইসলামাবাদ দৃঢ়ভাবে সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এবং ঘটনার স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানায়। এরপর ২৩শে এপ্রিল ২০২৫ ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দিলে পাকিস্তান ভারতীয় বিমান চলাচলের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ৩০শে এপ্রিল ভারতও পাকিস্তানি বিমান সংস্থার জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় ২০২৫ সালের ৬ ও ৭ মে, যখন ভারত পাকিস্তানের কয়েকটি শহরে বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনিয়ানুম মারসুস’ নামে বড় ধরনের পাল্টা সামরিক অভিযান পরিচালনা করে এবং ভারতের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করে।

পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, ওই সংঘর্ষে তারা আটটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান, যার মধ্যে তিনটি রাফাল যুদ্ধবিমান ছিল এবং কয়েক ডজন ড্রোন ভূপাতিত করে। প্রায় ৮৭ ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘাতের পর দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। দুই দেশের আকাশসীমা বন্ধ রাখার ফলে ভারতের বিমান চলাচল খাতে তুলনামূলকভাবে বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। পাকিস্তানের বিমান চলাচল খাতে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। এর আগে ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধ এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা সংকটের সময়ও পাকিস্তান একই ধরনের আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওই ঘটনাগুলোতেও পাকিস্তানি বিমান সংস্থার তুলনায় ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোকে বেশি পরিচালনাগত সমস্যার মুখে পড়তে হয়।