চিরতরে বদলে যেতে পারে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক

চিরতরে বদলে যেতে পারে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রে মেটার বিরুদ্ধে দায়ের করা এক ঐতিহাসিক মামলার বিচার শুরু হতে যাচ্ছে মঙ্গলবার। শিশুদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও তরুণ ব্যবহারকারীদের মানসিক ক্ষতির মুখে ফেলার অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কসহ ৩০টি অঙ্গরাজ্যে এই মামলা দায়ের করা হয়। এতে মেটার কাছে এক লাখ কোটি ডলারের বেশি জরিমানা দাবি করা হয়েছে। একই সাথে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের পরিচালন পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে এই মামলায়। এতে হেরে গেলে সামাজিক মাধ্যমের বর্তমান রূপ চিরতরে বদলাতে হতে পারে মেটার। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

মামলায় বাদীপক্ষ প্ল্যাটফর্মগুলোতে লাইক গণনা এবং ‘ইনফিনিট স্ক্রল’ সুবিধা পুরোপুরি বন্ধের নির্দেশ চেয়েছে। এছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষায় কিশোর ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে অভিভাবক যাচাইকরণ বাধ্যতামূলক করা, ডোপামিন নিঃসরণ বা আসক্তি সৃষ্টিকারী অ্যালগরিদম বদলানো, মুখমণ্ডলের রূপ পরিবর্তনকারী ফিল্টার ও ভিডিওর অটোপ্লে নিষিদ্ধ করা এবং ইনস্টাগ্রাম স্টোরিজের মতো ২৪ ঘণ্টার অস্থায়ী পোস্ট বন্ধ করার দাবি তোলা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, মুনাফা বাড়াতে মেটা জেনেশুনে তরুণদের প্ল্যাটফর্মে আসক্ত করে রেখেছে। তবে মেটা সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, তারা সবসময় তরুণদের সুরক্ষাকে প্রাধান্য দেয়। সম্প্রতি নিউ মেক্সিকোর এক আদালত মেটাকে ৯৪ কোটি ২০ লাখ ডলার জরিমানা করে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি দূষণকারী কারখানার মতো ‘জনদুর্ভোগ’ হিসেবে আখ্যা দেয়।

এবার ৩০টি অঙ্গরাজ্যের সমন্বিত এই মামলায় ক্যালিফোর্নিয়ার কেন্দ্রীয় আদালত একই ধরণের রায় দিলে পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মেটাকে তাদের ফিচার পরিবর্তন করতে হবে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লাইক পাওয়ার প্রতিযোগিতা ও অবাস্তব তুলনা তরুণদের মধ্যে তীব্র বিষণ্নতা, একাকীত্ব ও মানসিক সংকট তৈরি করছে। ফলে এই মামলার রায় বিশ্বজুড়ে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।