৩১ আগস্ট আবুল কালাম আযাদের আপিলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুনানি

৩১ আগস্ট আবুল কালাম আযাদের আপিলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুনানি

ফন্ট সাইজ:

১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আযাদের খালাস চেয়ে করা আপিল গ্রহণযোগ্য হবে কি না, সে বিষয়ে আগামী ৩১শে আগস্ট শুনানি হবে আপিল বিভাগে। সোমবার শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ। এদিন মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো আদেশ দেয়া হয়নি। আপিলটি আইনগতভাবে রক্ষণীয় কি না, সে বিষয়ে শুনানির জন্য ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।
এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, আবুল কালাম আযাদের সাজা স্থগিতের বিরুদ্ধে তারা আবেদন করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। ৫ আগস্টের পর দেশে ফিরে তিনি তৎকালীন সরকারের কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। এরপর ওই স্থগিতাদেশের ভিত্তিতে তিনি আপিল বিভাগে তাঁর দণ্ড ও সাজা চ্যালেঞ্জ করে আপিল করেন। ৩০ দিনের পর এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কোনো মামলায় আপিল গ্রহণযোগ্য হওয়ার নজির নেই।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস আইন, ১৯৭৩-এর ২১(৩) ধারা অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। নির্ধারিত সময়ের পর দায়ের করা আপিল আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করলেও সেই আদেশের ভিত্তিতে দীর্ঘ সময় পর আপিল করার সুযোগ তৈরি হয় না।
রাষ্ট্রপক্ষ আরও যুক্তি দেয়, আজাদের পক্ষ থেকে সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদের ‘কমপ্লিট জাস্টিস’ নীতির ভিত্তিতে আপিল দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু কোনো বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইনি বিধান থাকলে সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদ প্রয়োগের সুযোগ নেই। এ কারণে আপিলটি খারিজের আবেদন জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের পর কোনো আপিল দায়েরের আইনগত সুযোগ নেই। নির্বাহী আদেশ আইনের ঊর্ধ্বে হতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রে সরাসরি আপিল করা হয়েছে। আপিলের জন্য আদালতের লিভ নেয়া হয়নি বা লিভ টু আপিলের কোনো আবেদনও করা হয়নি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস আইন ও এর নির্ধারিত প্রক্রিয়াই এ ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ভাষ্য, এটি কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে করা আইনি পদক্ষেপ নয়। আইন অনুযায়ী কোনো আপিল ৩০ দিনের পরে রক্ষণীয় নয়। এখন পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দায়ের করা কোনো আপিল গ্রহণযোগ্য হয়নি। আমরা মনে করি, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিলটিও রক্ষণীয় নয় এবং তা খারিজ হওয়া উচিত।
এদিকে, এই আপিলের বিষয়টি ভবিষ্যতে শেখ হাসিনার আপিলের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। তাঁদের মতে, আপিল করার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের সময়সীমা এবং আপিলের আইনগত গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, তাঁকে প্রত্যর্পণের জন্য ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এটি একটি আইনি প্রক্রিয়া এবং ওই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুর সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ভারতে অবস্থানের ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমেদের বিষয়ে তিনি বলেন, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ তাঁকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন সদস্য প্লেন ড্রেসে তাঁর বাসা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ৬১ দিন নিখোঁজ থাকার পর ১০ মে তাঁকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে পাওয়া যায়। পরে ট্রমাটাইজড অবস্থায় ঘোরাফেরা করার সময় ভারতীয় পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয় এবং ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর মতে, সালাহউদ্দিন আহমেদের ঘটনা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটের। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো আইনগত সম্পর্ক নেই। অন্যদিকে আবুল কালাম আযাদের আইনজীবী নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে তার মক্কেলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে অবিচার করা হয়েছে। এ কারণে সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।
এর আগে ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আত্মসমর্পণের শর্তে নির্বাহী বিভাগ আবুল কালাম আযাদের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করে। পরে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রথম আসামি মাওলানা আবুল কালাম আযাদ।