ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান খুব বেশি সুবিধাজনক নয়। উভয়পক্ষ আক্রমণ স্থগিত রাখলেও হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের কঠোর অবরোধের অবস্থান ধরে রেখেছে। এতে সহসাই অচলাবস্থা কাটার কোনো সম্ভাবনা নেই। বিশেষত হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার জন্য ইরানকে চাপে ফেলার উপায় খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
ওয়াশিংটনভিত্তিক স্টিমসন সেন্টারের বিশিষ্ট ফেলো বারবারা স্লাভিন আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, তেহরানের ওপর বাড়তি চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হাতে বিকল্প বা কৌশল খুব বেশি অবশিষ্ট নেই। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারসেপ্টর (প্রতিরোধী) ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসছে, কৌশলগত তেল রিজার্ভ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমেছে এবং বিমানবাহী রণতরীসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম নির্ধারিত সময়ের চেয়েও কয়েক মাস বেশি সময় ধরে সমুদ্রে মোতায়েন রয়েছে। এর ফলে ওয়াশিংটনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ অনেকটাই সংকুচিত। স্লাভিনের মতে, জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ট্রাম্প প্রশাসন বাস্তবায়ন না করায় তেহরান চরম ক্ষুব্ধ এবং তারা শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছে। তেহরানের এমন পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিসহ ডনাল্ড ট্রাম্প নিজেও বেশ চাপে পড়েছেন। তিনি ধারণা প্রকাশ করেন, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায়ে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর শক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় শেষ পর্যন্ত ইরান লাভবান হতে পারে। তবে এই সংকট হয়তো কোনো চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমেই কাটবে। সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর, যাতে দেশটির অভ্যন্তরীণ ভোটে এর প্রভাব কম পড়ে
এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ শনিবার তেহরানে সাংবাদিকদের বলেন, সমঝোতা চুক্তিতে ইরান যে ছাড়গুলো আদায় করতে পেরেছে, তা তাদের জন্য গৌরব ও বিজয়ের প্রতীক। তিনি পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন, সামরিক ও রাজনৈতিক উভয় দিক থেকেই এই যুদ্ধে ইরানই বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
