গোপনে এক নারীর ছবি তুলেছেন ভারতের আধা সামরিক বাহিনীর এক সদস্য। এমন অভিযোগে দিল্লির মেট্রোতে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেছে। এ খবর দিয়ে অনলাইন এনডিটিভি বলছে, দিল্লি মেট্রোর একটি কোচে এক নারীর ছবি গোপনে তোলার অভিযোগ ওঠে আধাসামরিক বাহিনীর ওই সদস্যের বিরুদ্ধে। এরপর যাত্রীরা তাকে ঘিরে ধরেন এবং ছবি মুছে ফেলতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। শনিবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটে।
রোববার এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে মন্তব্য করেন, অভিযোগটি সত্য প্রমাণিত হলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, দিল্লি মেট্রোর ইয়েলো লাইনের এইমস মেট্রো স্টেশনে ঘটনাটি ঘটে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, দিল্লি মেট্রোর যাত্রীরা সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ)-এর ওই সদস্যকে ঘিরে ধরেছেন। তিনি প্রথমে নারীর ছবি তোলার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে ওই নারী ও মেট্রোর অন্য যাত্রীরা তার স্মার্টফোনের ছবি গ্যালারি দেখতে চাইলে দেখা যায়, তিনি সত্যিই ওই নারীর ছবি তুলেছেন। ছবি তোলার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। ভিডিওতে ওই নারীকে বলতে শোনা যায়, ‘এটা কী? আমার ছবিগুলো মুছে দিন।’
যাত্রীরা সিআইএসএফ সদস্যের ফোনটি কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। তবে তিনি ফোনটি দিতে অস্বীকার করে প্রতিরোধ করেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই অভিযুক্ত সিআইএসএফ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনী। এক্সে দেয়া এক পোস্টে সিআইএসএফ জানায়, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দিল্লি মেট্রো ইউনিটের সিআইএসএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মেট্রো ট্রেনে এক নারী যাত্রীর সঙ্গে সিআইএসএফের এক সদস্যের কথিত অসদাচরণের বিষয়ে একটি ঘটনা জানানো হয়েছে। সর্বোচ্চ পর্যায়ে সিআইএসএফ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে। সংশ্লিষ্ট সদস্যকে অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় এ সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে মেট্রো পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, রোববার রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ঘটনাটি নিয়ে একটি পিসিআর কল পাওয়া যায়। যাত্রীদের মধ্যে ওই নারীও পুলিশকে জানান, সিআইএসএফের ওই কর্মকর্তা তার অনুমতি ছাড়া তার ছবি তুলছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ওই নারী কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। পরে বিষয়টি সিআইএসএফ কর্মকর্তাদের জানানো হয়। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি এখন তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
