ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়া বিএনপি’র সরকারের ছয় মাস পূর্তি হয়েছে আজ। বহুমুখী চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে দায়িত্ব নেয়া সরকার এই অনেক জনবান্ধব উদ্যোগ নিয়েছে। আবার প্রতিশ্রুতি থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে। এই অবস্থায় বিগত ছয় মাসের মূল্যায়ন থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা সাজাতে চায় সরকার। বিএনপি ও সরকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সময়ে শতভাগ প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না পারলেও সরকার শতভাগ চেষ্টা চালিয়েছে। ঘাটতির বিষয়ে মূল্যায়ন হচ্ছে। ছয় মাসে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীর মূল্যায়ন হবে। এর ওপর ভিত্তি করে নেয়া হবে পরবর্তী পদক্ষেপ।
অন্যদিকে প্রশাসনে গতি ফেরানো, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে আরও গতি আনতে চাইছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী মানবজমিনকে বলেন, আগামী ছয় মাস যে কর্মসূচিগুলো চলছে, সেগুলো চলতে থাকবে। এর সঙ্গে আরও নতুন কর্মসূচি সম্পৃক্ত হবে।
বিএনপি’র একজন সিনিয়র নেতা মানবজমিনকে বলেন, আগামী ৬ মাসে প্রথম কাজ হবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও ভালো করা। দ্বিতীয় কাজ হবে বেকার সমস্যার জন্য বাস্তব উদ্যোগ নেয়া এবং প্রতিযোগিতামূলক, মেধাভিক্তিক কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেয়া, বাজারব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা, নিত্যপণ্যের দাম জনগণের ক্রয় ক্ষমতায় মধ্যে নিয়ে আসা এবং সর্বক্ষেত্রে নির্বাচিত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন মানবজমিনকে বলেন, এই সময়ের ভেতরে আমরা দেখেছি, দেশে অভূতপূর্ব বাক-স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি মানুষ স্বাধীন বাংলাদেশের এবং সার্বভৌম বাংলাদেশের নাগরিকের যে মর্যাদা এবং সম্মাননা, সেটা পেয়েছে। যে উন্নয়ন হচ্ছে, সেটা হচ্ছে অন্তর্ভুক্তিমূলক। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তারপরও জ্বালানিসহ বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেগুলো গত ছয় মাসের নয়, বরং গত ১৮ বছরের পুঞ্জীভূত রাষ্ট্রব্যবস্থার কারণে হয়েছে। সরকার চেষ্টা করছে, এর ভেতর থেকে যতটা সম্ভব জনগণের কষ্ট লাঘব করার জন্য। গ্রাহক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রেই গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা হলেও সরকার চেষ্টা করছে, মধ্য মেয়াদে যত দ্রুত সম্ভব বিকল্প ব্যবস্থার জন্য। প্রধানমন্ত্রী নিজে মালয়েশিয়া ও চীন সফরে, সেখানকার যারা জ্বালানি খাতে কাজ করছেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। আর ১৮ বছরের সমস্যা এত দ্রুত সমাধান করা সম্ভব না, তারপরও দীর্ঘমেয়াদে যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করার প্রয়োজন, সেগুলো নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার মানবজমিনকে বলেন, এই ছয় মাসের মধ্যে একটা বড় অংশেই চলে গেছে সরকারের সেটআপ করতে। তারপরেও আমাদের বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতেহারে যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তার মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খালখননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চলছে। যেগুলো কাজ চলমান সেগুলোসহ আগামী ৬ মাসে আমাদের যে অন্যান্য প্রতিশ্রুতি আছে, সেগুলো বেগবান করা হবে।
বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ছয় মাসের সব থেকে বড় সফল হচ্ছে, মানুষ একটি গণতান্ত্রিক অবস্থার নিশ্চয়তা, একটা সংসদ আমরা পেয়েছি। যে সংসদ মানুষের কথা বলছে। এই সংসদে সরকারি দল এবং বিরোধী দলের মধ্যে যে ঘটনাগুলো আমরা দেখেছি, সেগুলো আশা জাগানিয়া। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের সরকারের সময় মব সংস্কৃতির মধ্যদিয়ে যেভাবে ভেঙে পড়েছিল, তা অনেকটাই কাটিয়ে উঠছে বর্তমান সরকার।
তিনি বলেন, আমাদের সব থেকে বড় যে সংকটটা, সেটাও মানুষ বিশ্বাস করে বর্তমান সরকারের মাধ্যমে তা সুরাহা হবে। আমাদের একটা বড় সেকশন বেকার। যারা একটা কাজ চায়, চাকরি চায়। যে কারণেই ’২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান। সেই তরুণদের চাকরির ব্যাপারটা এখনো পর্যন্ত উল্লেখ করার মতো না হলেও একটা সম্ভাবনার মধ্যে আমরা বসবাস করছি। সেই সম্ভাবনাটা যদি সাফল্যের দিকে যায়। তাহলে নিঃসন্দেহে আরেকটা বড় সাফল্য আসবে। আমার কাছে মনে হয়, আইনশৃঙ্খলা, বাজার ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক সমস্যার মধ্যেও এই সরকার এখনো পর্যন্ত মানুষের যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্নের মধ্যেই আছে। ওদিকে সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমের বিষয়ে আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্রিফ করা হতে পারে।
