অভিমানই কাল হলো রিধিকার

অভিমানই কাল হলো রিধিকার

ফন্ট সাইজ:

অভিনেত্রী ও মডেল রিধিকা রিধির আত্মহত্যার ঘটনায় তার প্রেমিক ব্যবসায়ী হাসিবুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসছে নানা তথ্য। আদালত ইতিমধ্যে এক আদেশে হাসিবকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশের কাছে প্রেমিক হাসিব জানিয়েছেন, রিধি খুব জেদি ও একরোখা প্রকৃতির ছিলেন। যা বলতো তাই করতো। প্রায়ই ঝগড়া হতো তাদের মধ্যে। আগামী শুক্রবার রিধিকে বিয়ের কথাও বলেছিলেন প্রেমিক। কিন্তু ঘটনার রাতে ভিডিও কলে ফের ঝগড়াঝাঁটির একপর্যায়ে তাকে আত্মহত্যার হুমকি দেন রিধি। পরে ভিডিও কলে রেখেই আত্মহত্যা করেন। রিধি সত্যি সত্যি কিছু একটা করতে পারেন- এমন চিন্তা মাথায় রেখে রিধির বাসায় থাকা তার বান্ধবীকে ফোনও দিয়েছিলেন প্রেমিক। কিন্তু ওই বান্ধবী ভেবেছিলেন এ রকম ঝগড়াঝাঁটি হলে প্রায়ই ফোন করতেন হাসিব। তাই ওইদিন আর তার ফোনের গুরুত্ব দেননি। কিন্তু ওই রাতেই রিধি আত্মহত্যা করেন।

ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, আমরা হাসিবকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। ৬ মাস ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় মনোমালিন্য ও ঝগড়াঝঁটি হতো। ঘটনার দিনও তাই হয়েছে। একপর্যায়ে রিধি প্রেমিককে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা করেন। প্রেমিকের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি অনলাইন ব্যবসায়ী। শুক্রবার রিধিকে বিয়ে করার কথা ছিল। এছাড়া রিধি একরোখা ও জেদি প্রকৃতির মেয়ে ছিলেন বলেও জানিয়েছেন প্রেমিক হাসিব। ওসি বলেন, আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না খতিয়ে দেখছি।

রিধির মায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় প্রেমিক হাসিবুর রহমানকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। গতকাল পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত এই আদেশ দেন। ডিএমপি’র প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক কামাল হোসেন বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীর আবেদন অনুযায়ী ১৮ই আগস্ট জামিন শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। রিমান্ড আবেদন না থাকায় তাকে এজলাসে ওঠানো হয়নি। আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন গ্রহণ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই আব্দুল ওয়াদুত রোববার এ আবেদন করেন। হাসিবুরকে কারাগারে আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও মামলা তদন্তকালে গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে বাদীর আনা অভিযোগের যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত আছে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি অপরাধের কথা স্বীকার করেন এবং ঘটনার সাথে জড়িত বলেও জানিয়েছেন। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে চিরতরে পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার প্রার্থনা করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

শনিবার সকালে রিধিকে শয়নকক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রিধির মা সেদিন বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন। মামলায় তার প্রেমিক হাসিবুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার দিন হাসিবুর রিধিকে দেখতে তার বাসায় এসেছিলেন। সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, ঘটনার সময় রিধি তার প্রেমিকের সঙ্গে ভিডিও কলে ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও এর পেছনের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের বাড্ডা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, রিধির মা জানিয়েছেন- গত বছর তাকে রিহ্যাবে রাখা হয়েছিল। কারণ সে মাদকাসক্ত ছিল। ঘটনার সময় প্রেমিকের সঙ্গে তার ঝগড়া হচ্ছিলো। তখন রুমে তার আরো দুই বান্ধবী ছিল। তাদেরকে রুম থেকে বের করে দিয়ে তিনি ভেতরে ভিডিও কলে কথা বলা অবস্থায় আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার সময় ড্রয়িং রুমে ঘুমে ছিলেন ওই দুই বান্ধবী। ঘটনার পরপরই তার প্রেমিক বাসায় আসেন। কিন্তু আর কিছু করা যায়নি। তিনি বলেন, জি-ব্লকের একটি বাসায় সাবলেটে ভাড়া থাকতেন রিধি। এ ঘটনায় হাসিবের মানসিক অবস্থা ভালো না থাকায় তাকে ভালোভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারিনি। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করবো তাকে। তখন আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

মডেলিংয়ের পাশাপাশি বেশ ক’টি নাটকে অভিনয় করেছেন রিধি। এর মধ্যে রয়েছে- ‘এখানে মানুষ বিক্রি হয়’, ‘বহুরূপী’, ‘ডাবল হানিমুন’ ও ‘সুন্দরী’।