হাসিনা ইস্যুতে সিদ্ধান্ত আদালতের

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট

হাসিনা ইস্যুতে সিদ্ধান্ত আদালতের

ফন্ট সাইজ:

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত দেয়ার মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের তীব্র কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। এ ইস্যুতে ঢাকা চাপ দিয়ে যাচ্ছে। তার মধ্যে ভারত বলেছে, সরকার নয়, তাকে ফেরত দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে আদালত। অনলাইন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক খবরে এসব তথ্য দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নতুন করে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে। এ বিষয়ে ভারতের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে জানিয়েছেন, প্রত্যর্পণের দাবিকে ভারতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বিবেচনা করতে হবে। তাদের মতে, অভিযোগ করা অপরাধগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত কি না, আদালতের প্রক্রিয়ায় সেটিও নির্ধারণ করতে হবে। একই সময়ে ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ নিয়ে ঢাকার সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চলছে।

এ ইস্যুতে বাংলাদেশ যে সর্বোচ্চ বা কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করছে, সেখান থেকে তাদেরকে সরিয়ে আনা যায় কিনা সেই চেষ্টা করছে ভারত। ভারতীয় এক শীর্ষ কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে আদালত। এটি রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত হবে না। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, আদালত যাচাই করে দেখবে- যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ভারতীয় দণ্ডবিধির অধীনে অপরাধ কিনা। অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন এ বছরের ডিসেম্বরে তিনি বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করেছেন। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে তার দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, নয়া দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে তা থেকে হাসিনাকে ফেরত দেয়ার দাবিকে আলাদা করে দেখা যাবে না।

এদিকে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ড পাওয়া আসামি হিসেবে ফেরত পেতে ভারত সরকারের প্রতি চাপ অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের আলোচনার কেন্দ্রেও এই ইস্যুটি প্রাধান্য পাচ্ছে। প্রত্যার্পণ চুক্তিমতে হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে ফেরত না দেয়া দুই দেশের সম্পর্কের জন্য প্রতিকূল বলে মনে করে ঢাকা।

গত ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা নয়া দিল্লিতে একটি ভার্চ্যুয়াল প্রেস কনফারেন্স করেন। আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুত বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যরা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ রাখছেন। মাঝে-মধ্যে তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকও করছেন এবং নিয়মিত টেবিল টেনিস খেলছেন।