ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সবশেষ বিদায় নেয়া অর্থবছরে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি বেড়েছে সাড়ে ১৬ শতাংশের বেশি। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হলে মাত্র চার মাসের ব্যবধানেই পুরো অর্থবছরের জ্বালানি আমদানি খরচ বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।
জ্বালানি আমদানি সংক্রান্ত রোববার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জ্বালানি আমদানিতে ঋণপত্র খোলা হয় ১১.১১ বিলিয়ন ডলারের। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৯.৫২ বিলিয়ন ডলার। চাহিদা ও জ্বালানির দর উঠা-নামায় ঋণপত্রে খরচ বেড়েছে ১.৫৯ বিলিয়ন ডলার বা ১৬.৬৩ শতাংশ।
অন্যদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয় ১০.৬৮ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের তুলনায় যা ৬.৪৮ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরে ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয় ১০.০৩ বিলিয়ন ডলার। নিষ্পত্তির হারের তুলনায় নতুন আমদানির হার বেড়েছে। অর্থাৎ একদিকে পুরনো আমদানির মূল্য পরিশোধ করতে হয়েছে, অন্যদিকে সামনে জ্বালানি আনতে তার চেয়েও বেশি নতুন ঋণপত্র বেশি খোলা হয়।
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। যুদ্ধ শুরুর আগের দিন গত ২৭শে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দর ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭২.৪৮ ডলার।
২৮শে ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। মার্চের শুরুতেই ব্রেন্টের স্পট মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা গত এপ্রিলের শেষ নাগাদ ১২৪ ডলার ছাড়ায়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে সার্বিক আমদানিতে ঋণপত্র খোলার প্রবৃদ্ধির তুলনায় জ্বালানি খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল অনেক বেশি। গত অর্থবছরে সব ধরনের আমদানিতে প্রবৃদ্ধি দেখা দেয় ৭ শতাংশ, সেখানে পেট্রোলিয়ামের আমদানি চাহিদার প্রবৃদ্ধি হয় ১৬.৬৩ শতাংশ। মোট আমদানি নিষ্পত্তি আগের অর্থবছরের মতো থাকলেও জ্বালানি খাতে প্রবৃদ্ধি দেখা দেয় ৬.৪৮ শতাংশ।
