পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সামরিক অভিযান অপারেশন সিঁদুর নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে কথা বলেছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। তিনি বলেছেন, ভারতের সহনশীলতা ও সংযমকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। জাতীয় স্বার্থ ও নাগরিকরা হুমকির মুখে পড়লে ভারত ঝুঁকি নিতে এবং ‘কঠোর আঘাত’ হানতে প্রস্তুত।
ডিসকভারির আসন্ন দুই পর্বের প্রামাণ্যচিত্র ‘ডিক্লাসিফায়েড: অপারেশন সিঁদুর’-এ এসব কথা বলেন দোভাল। প্রামাণ্যচিত্রটিতে ৮৮ ঘণ্টার ওই সামরিক অভিযান পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ভারতের জ্যেষ্ঠ সামরিক ও জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
‘ভারত কঠোর আঘাত হানতে পারে’
পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দোভাল বলেছেন, অপারেশন সিঁদুরের প্রধান লক্ষ্য ছিল শত্রুপক্ষের ঘাঁটি ধ্বংস করা, বিশেষ করে ২০২৫ সালের এপ্রিলের পাহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত ঘাঁটিগুলো।
তিনি বলেন, ‘আমরা অভিযানের লক্ষ্য হিসেবে শত্রুপক্ষের ঘাঁটি ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, বিশেষ করে যারা পাহেলগাম হামলার জন্য দায়ী ছিল।’
দোভাল বলেন, বিশ্বের প্রতি ভারতের বার্তাও ছিল স্পষ্ট- ভারতের উদারতা ও সহনশীলতাকে দুর্বলতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়।
তার ভাষায়, ‘ভারত ঝুঁকি নিতে পারে, ভারত কঠোর আঘাত হানতে পারে, পরিণতি যা-ই হোক না কেন।’
কেন অপারেশন সিঁদুর চালায় ভারত?
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায় ভারত।
এরপর ৭ মে ভোরে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (পিওকে) সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায় ভারত। ভারতীয় কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, পাহেলগাম হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করাই ছিল এসব হামলার মূল উদ্দেশ্য।
প্রামাণ্যচিত্রটিতে অপারেশন সিঁদুরের পেছনে ভারতের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, কৌশলগত হিসাব-নিকাশ এবং অভিযান পরিচালনার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জও তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে।
দোভাল বলেন, ভারতের দীর্ঘদিনের সহনশীলতার ঐতিহ্য এবং ‘সর্বধর্ম সমভাব’ ও ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর মতো নীতিকে অনেক সময় দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়েছে।
প্রামাণ্যচিত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, পাহেলগাম হামলার পর ভারত এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করতে চেয়েছিল। বার্তাটি ছিল- ভারত সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতিতে অটল থাকলেও তার নাগরিক ও জাতীয় স্বার্থের ওপর হামলার পরিণতি ভোগ করতে হবে।
পাকিস্তানের সঙ্গে ৮৮ ঘণ্টার সংঘাত
ভারতের হামলার পর পাকিস্তানও ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়। এর জেরে অপারেশন সিঁদুরের আওতায় ভারত একের পর এক পাল্টা অভিযান চালায়।
দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে সংঘাত প্রায় ৮৮ ঘণ্টা ধরে চলে। শেষ পর্যন্ত ১০ মে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার পর সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটে।
ডিসকভারির ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ডিক্লাসিফায়েড: অপারেশন সিঁদুর’-এ ভারতের সামরিক ও জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অভিযানের বিভিন্ন ঘটনা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বর্ণনা দেবেন।
দুই পর্বের এই প্রামাণ্যচিত্রে কেন অপারেশন সিঁদুর অনুমোদন করা হয়েছিল, কীভাবে সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছিল এবং ভারত এর মাধ্যমে কী অর্জন করতে চেয়েছিল- এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উঠে আসার কথা।
অপারেশন সিঁদুর নিয়ে দোভালের বক্তব্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযানের পেছনে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার চিন্তাভাবনা সম্পর্কে একটি বিরল ধারণা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
