রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা জুলাইয়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির ৫০ দশমিক ৮৩ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ২৪ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল এসেছে রাশিয়া থেকে।
ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা। তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় এ বছর জুলাইয়ে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি বেড়েছে ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে জুনের রেকর্ড ২৬ লাখ ব্যারেল প্রতিদিনের তুলনায় জুলাইয়ে আমদানি কমেছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।
এর আগে জানুয়ারিতে ভারতীয় শোধনাগারগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য উচ্চ শুল্ক এড়াতে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমাতে শুরু করেছিল। সে সময় নয়াদিল্লি ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছিল।
তবে ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দেয়ায় ভারতীয় শোধনাগারগুলোকে আবার রাশিয়ার তেলের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হয়েছে।
রুশ তেলে ১০০ শতাংশ শুল্কের হুমকি
তবে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল কেনা এখন নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে এমন একটি আইন পাস হয়েছে, যাতে রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।
ইউক্রেনে ২০২২ সালে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে আইনটি এখনো মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের অনুমোদন পায়নি।
বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশ বেড়ে রেকর্ড ৪৩ দশমিক ২৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এই সময়ে রাশিয়া থেকে ভারত প্রতিদিন গড়ে ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল আমদানি করেছে। এক বছর আগে একই সময়ে রাশিয়ার অংশ ছিল প্রায় ৩৭ শতাংশ।
মধ্যপ্রাচ্যের তেলের জায়গা নিচ্ছে রাশিয়া ও লাতিন আমেরিকা
ভারতের রুশ তেল আমদানি বাড়ার প্রধান প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহকারীদের ওপর। এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানিতে মধ্যপ্রাচ্যের অংশ কমে প্রায় ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। এক বছর আগে এই অংশ ছিল ৪৩ শতাংশ।
অন্যদিকে লাতিন আমেরিকার তেলের অংশ বেড়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৭ শতাংশে। বিশেষ করে ব্রাজিল ও ভেনেজুয়েলা থেকে আমদানি বৃদ্ধির কারণে এই পরিবর্তন হয়েছে।
ভারত তার অপরিশোধিত তেলের প্রয়োজনের ৯০ শতাংশেরও বেশি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। ফলে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যে কোনো ধরনের বড় ধরনের সরবরাহ সংকট হলে দেশটি সহজেই এর প্রভাবে পড়তে পারে।
এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত রাশিয়াই ভারতের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী ছিল। এ সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরাককে টপকে দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারীতে পরিণত হয়েছে।
গত এপ্রিলেই ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়া ইউএই বিপুল পরিমাণ তেল স্পট টেন্ডারের মাধ্যমে বাজারে ছাড়ছে। এর ফলে ভারতীয় শোধনাগারগুলো ইউএই থেকে আমদানি বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে। গত বছর ভারতের তেল সরবরাহকারীদের তালিকায় ইউএই ছিল চতুর্থ স্থানে।
