অস্ট্রেলিয়ার ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ওয়ান নেশন ও দলটির নেত্রী পলিন হ্যানসনের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বৃহস্পতিবার স্কুল বর্জন করে দেশটির বিভিন্ন শহরের শিক্ষার্থীরা। সিডনি, মেলবোর্ন ও ব্রিসবেনে আয়োজিত এসব বিক্ষোভে শত শত শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টসের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশগুলোতে শিক্ষার্থীরা হাতে তৈরি প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও পোস্টার নিয়ে অংশ নেয়। কোথাও কোথাও পলিন হ্যানসনের আদলে তৈরি কুশপুত্তলিকাও দেখা যায়। সিডনি ও ব্রিসবেনে বিক্ষোভস্থল থেকে ওয়ান নেশন সমর্থকদের সরিয়ে দেয় পুলিশ।
সিডনি টাউন হলের বাইরের চত্বরে জড়ো হয় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী। তাদের হাতে ছিল বর্ণবাদ, লিঙ্গবৈষম্য ও সমকামভীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড। বিক্ষোভকারীদের হাতে কাগজের মণ্ড দিয়ে তৈরি পলিন হ্যানসনের মাথার আকৃতির একটি প্রতিকৃতিও দেখা যায়।
গ্রিনসের নিউটাউন আসনের এমপি জেনি লিওং বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি পলিন হ্যানসনসহ বর্ণবাদীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানান এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে বলেন।
বিক্ষোভে স্লোগান ওঠে—‘পলিন হ্যানসন, আমরা তোমার কাছে আসছি’ এবং ‘বর্ণবাদী, লিঙ্গবৈষম্যমূলক ও কুইয়ার-বিরোধী পলিন হ্যানসন এখানে স্বাগত নন। সিডনির সমাবেশে ওয়ান নেশনের সমর্থনে স্লোগান দেওয়া এক নারীকে পুলিশ ও আয়োজকেরা বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে দেন।
নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী এবিসিকে জানায়, বিক্ষোভে অংশ নিতে স্কুল থেকে বের হওয়ার সময় শিক্ষকদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে। পরে সে ও তার সহপাঠীরা সমাবেশে যোগ দেয়। তারা বর্ণবাদ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে পরিবর্তনের দাবি জানাতেই রাস্তায় নেমেছে।
মেলবোর্নে স্টেট লাইব্রেরির বাইরে শত শত শিক্ষার্থী জড়ো হয়। তাদের হাতে ছিল ওয়ান নেশনবিরোধী প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার। পলিন হ্যানসনের আদলে তৈরি একটি পিনিয়াটাও ছিল সেখানে। সেটি ভাঙার পর ভেতর থেকে ললিপপ বেরিয়ে আসে।
সমাবেশে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতারাও বক্তব্য দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ভিক্টোরিয়ান গ্রিনসের সাবেক নেত্রী সামান্থা রত্নম।
বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে মুগ্ধ হওয়ার কথা জানিয়ে রত্নম বলেন, ‘ওয়ান নেশনের উত্থান ঠেকানোর বিষয়ে এই উপস্থিতি তাকে আশাবাদী করেছে।’
দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী কোরি জালচেন্ডলার বলেন, ‘আসন্ন ভিক্টোরিয়া রাজ্য নির্বাচনেই তিনি প্রথমবার ভোট দিতে পারবেন।’ ১৮ বছরের কম বয়সীদের ভোট দেয়ার সুযোগ না থাকলেও নিজেদের বিশ্বাসের পক্ষে তরুণদের প্রতিবাদে অংশ নেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
১৫ বছর বয়সী জর্জিয়া নিউটনও ওয়ান নেশনের রাজনীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে। তার মতে, পলিন হ্যানসন ও দলটির নীতিতে যে অবিচারের আশঙ্কা রয়েছে, তা নিয়ে তিনি ক্লান্ত। জর্জিয়া জানান, বিক্ষোভে অংশ নেয়ায় তার বাবা-মায়ের সমর্থন রয়েছে। তরুণদের নিজেদের মতো করে শেখা ও কাজ করার স্বাধীনতা থাকা উচিত বলেও তারা মনে করেন।
ব্রিসবেনের কিং জর্জ স্কোয়ারে প্রায় ২০০ তরুণ-তরুণী বিক্ষোভে অংশ নেন। সেখানে পলিন হ্যানসন অস্ট্রেলিয়াকে রক্ষা করবেন বলে স্লোগান দেওয়া এক ওয়ান নেশন সমর্থককে পুলিশ সরিয়ে নিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে গ্রেপ্তার প্রত্যাহার করা হয় এবং তাকে ঘটনাস্থল ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিক্ষোভে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও স্টুডেন্টস ফর প্যালেস্টাইনের সংগঠক কনর নাইটও বক্তব্য দেন। উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, সমাজের পশ্চাৎপদতার বিরুদ্ধে মানুষের রুখে দাঁড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভের নিন্দা করেছেন পলিন হ্যানসন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা জানো বা না জানো ওয়ান নেশন এবং আমি তোমাদের জন্যই লড়ছি।’
