গণিত অলিম্পিয়াডের বিজয়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

গণিত অলিম্পিয়াডের বিজয়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

ফন্ট সাইজ:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড (আইএমও) এবং ইউরোপীয় বালিকা গণিত অলিম্পিয়াডের (ইজিএমও) বিজয়ী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ হয় বলে জানিয়েছে প্রেস উইং।
সাক্ষাতে পদকজয়ী শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং গণিত অলিম্পিয়াডে তাদের অংশগ্রহণ, অভিজ্ঞতা ও অর্জনের কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে আরও সাফল্য অর্জনের জন্য শুভকামনা জানান।

এসময় বাংলাদেশ বালিকা গণিত ফাউন্ডেশন (বিজিএমএফ) পক্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ উদ্যোগে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
স্কুল পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম পরিচালনা ও সম্প্রসারণের জন্য একটি তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে অর্থায়নে তাৎক্ষণিক সম্মতি জানান প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া বাংলাদেশ ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াড কমিটির (বিডিএমও) পক্ষ থেকে স্কুল পর্যায়ে Activity-Oriented Mathematics চালুর প্রস্তাব করা হলে তাতেও সম্মতি জানান প্রধানমন্ত্রী।
স্কুল শিক্ষকদের গণিত দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ে আইইএলটিএস পরীক্ষার আদলে একটি পৃথক গণিত দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা চালুর প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে গণিতচর্চা ও গণিত অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে ভবিষ্যতে সরকারের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তা প্রদান করা হবে।

সাক্ষাতে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. এ. এন. এম. এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ইন্টারন্যাশনাল ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াডের জাতীয় কোচ মাহবুবুল আলম মজুমদার, বাংলাদেশ বালিকা গণিত ফাউন্ডেশনের প্রফেসর সাদিয়া হামিদ কাজী এবং বাংলাদেশ ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াড কমিটির সদস্য মো. আব্দুল হাকিম খান প্রমুখ। এছাড়াও ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও আইএমও ব্রোঞ্জ পদক এবং ইজিএমও ব্রোঞ্জ পদকজয়ী মনামী জামান, চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী ও আইএমও রৌপ্য পদকজয়ী মো. রায়হান সিদ্দিকী, ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী ও আইএমও ব্রোঞ্জ পদকজয়ী জাওয়াদ হামীম চৌধুরী, ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও আইএমও ব্রোঞ্জ পদকজয়ী মোহাম্মদ মারজুক রহমান, আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী ও আইএমও ব্রোঞ্জ পদকজয়ী তাহসিন খান, রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও আইএমও ব্রোঞ্জ পদকজয়ী এম. জামিউল হোসেন, রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও ইজিএমও ব্রোঞ্জ পদকজয়ী সাজি সেহনাই উপস্থিত ছিলেন।

উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে মেধাবী তরুণ নাজমুলের পাশে প্রধানমন্ত্রী
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যখন একজন মেধাবী তরুণ আর্থিক অনিশ্চয়তার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন তখন তার পাশে দাঁড়িয়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মো. নাজমুল হাসান। তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রদান করা হয় অনুদান। এই সহায়তা শুধু আর্থিক সহযোগিতা নয়-এটি একজন তরুণের স্বপ্ন ও মেধার প্রতি আস্থার প্রতিফলন।
নাজমুল হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান (Biochemistry and Molecular Biology) বিভাগের মাস্টার্স (থিসিস) পর্যায়ের শিক্ষার্থী এবং ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। পাশাপাশি তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক।
সম্প্রতি তিনি সুইডেনের University of Skövde থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য পূর্ণ বৃত্তি (Full Scholarship) অর্জন করেন। কিন্তু বিদেশযাত্রা, প্রাথমিক আবাসনসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করা তার পরিবারের জন্য ছিল কঠিন। সেই সংকটের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সহযোগিতা তার স্বপ্নযাত্রায় নতুন আশার সঞ্চার করেছে।