তেলাপোকারা নতুন করে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তেলাপোকা জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এই নতুন আন্দোলন শুরুর কথা জানিয়ে একে ‘যন্তর মন্তর সিজন টু’ বলে অভিহিত করেছেন। দিল্লির নারাইনায় সিজেপি স্বেচ্ছাসেবকদের একটি বৈঠক শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে যাওয়ার পরই এই ঘোষণাটি দেয়া হয়েছে। দীপকের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন বিজেপির ‘চাপ’-এর কারণে ব্যাঙ্কোয়েট হলের মালিক বুকিং বাতিল করে দিয়েছিলেন। তার আরও অভিযোগ, এলাকার অন্যান্য স্থান থেকেও একই ধরনের বাধার সম্মুখীন হয়েছে সিজেপি। দলীয় সভার জন্য জায়গা না দিতে লোকজনকে ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
পরে এক সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে দীপকে বলেছেন, দলের যন্তর মন্তর প্রতিবাদের সিজন টু (দ্বিতীয় পর্ব) কবে শুরু হবে, তা জানতে চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা আসছিল। তিনি বলেছেন, ইনস্টাগ্রামে অনেকেই মন্তব্য করছিলেন যে ‘যন্তর-মন্তর’-এর সিজন ২ কবে শুরু হবে। আমি তাদের বলতে চাই যে ‘যন্তর-মন্তর’-এর সিজন ২ খুব শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে।
দীপকে কথিত চাপের জন্য বিজেপিকে দায়ী করেছেন এবং বলেছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ দলকে তার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারবে না। দীপকের মতে, বিজেপির কাজকর্ম ও কথায় পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে যে তারা দেশের যুবকদের ভয় পায়। তারা যদি মনে করে যে, এই ধরনের তুচ্ছ কর্মকাণ্ড আমাদের ভয় পাইয়ে দেবে, তবে তারা মারাত্মক ভুল করছে। বিজেপি ও সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, আপনারা যতই হুমকি দিন না কেন, আমরা ভয় পাব না। বিজেপি তাৎক্ষণিকভাবে এই অভিযোগের কোনো জবাব দেয়নি।
সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেছেন, দলের পরবর্তী পর্যায়ের আন্দোলন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে এবং এর মধ্যে জনগণের মতামত সংগ্রহের জন্য একটি দেশব্যাপী প্রচার অভিযানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দাস বলেন, সিজেপির পক্ষ থেকে জনগণের কী বলার আছে তা শোনার জন্য আমরা এখন দেশব্যাপী একটি ‘শ্রবণ (লিসেনিং) সফর’ শুরু করছি। আমরা স্বাধীনতা দিবস থেকে শিক্ষার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রচার অভিযান চালাব।
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের অযোগ্য সরকার ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদ হচ্ছে।
উল্লেখ্য, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সিজেপি দিল্লির যন্তর মন্তরে ৩৬ দিনব্যাপী এক বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছিল। এই আন্দোলনে সারা দেশ থেকে ছাত্রছাত্রী, তরুণ স্বেচ্ছাসেবক এবং বিরোধী দলের নেতারা যোগ দিয়েছিলেন। লাদাখের বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক ২৮শে জুন এই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেছিলেন। পরে স্বাস্থ্যের অবনতি হলে তাকে সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।
২০শে জুলাই বিক্ষোভকারীরা সংসদের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশি পদক্ষেপও নেয়া হয়েছিল। সরকারের সঙ্গে আলোচনা এবং বিক্ষোভকারীদের মূল দাবিগুলো পূরণের আশ্বাসের পর ২৫শে জুলাই আন্দোলনটি প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এরপর সিজেপি তাদের জাতীয় দল ঘোষণা করেছে এবং দীপকে এর জাতীয় আহ্বায়ক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন, যা দলটিকে একটি বৃহত্তর সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির দিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে।
