আয় বৈষম্যে অর্থনীতিতে সঙ্কট আরও বাড়ছে: দেবপ্রিয়

আয় বৈষম্যে অর্থনীতিতে সঙ্কট আরও বাড়ছে: দেবপ্রিয়

ফন্ট সাইজ:

বসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, প্রবৃদ্ধির হার কত হচ্ছে, শুধু তা দেখলে হবে না, কাঠামো ও গুণগত মান দেখতে হবে। সম্প্রতি দারিদ্র্য বিমোচনের গতি কমে গেছে, বেড়েছে বৈষম্য। ফলে অর্থনীতিতে সংকট বাড়াচ্ছে। বাস্তবতা হলো, প্রতি তিনজন শিক্ষিত ব্যক্তির মধ্যে একজন বেকার। তাই সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে নীতি প্রণয়ন কারার পরামর্শদেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের।

বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদী কৌশলগত কাঠামো বাস্তবায়ন: নীতি, অংশীদারিত্ব ও অগ্রাধিকার শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনের আলোচনার বিষয় ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদী কৌশলগত কাঠামো (জুলাই ২০২৬-জুন ২০৩১) এবং এসডিজি।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। মিরপুর মাজার রোড এলাকার বাসিন্দা ও ভ্যানচালক মো. ওয়াসিম বলেন, সেখানে অনেক ছিন্নমূল এনআইডি নেই। তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর এনআইডি করতে সমস্যা হয় বলে জানান এই জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি রামিসা চৌধুরী। একইভাবে তরুণ সমাজের প্রতিনিধি সোহানুর রহমানের অভিযোগ, বরিশালের মান্তা সম্প্রদায়ের মানুষেরা এনআইডি পাচ্ছেন না।

যারা এনআইডি পাননি, তারা সরকারের বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন। এই প্রসঙ্গে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এনআইডি হলো অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রথম পদক্ষেপ।
তবে মূলত জন্মনিবন্ধন না থাকায় এনআইডি নিয়ে এমন জটিলতা হয় বলে জানান সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান। এই সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি পরিবর্তিত রাষ্ট্র। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের যেকোনো মানুষ, যেকোনো পরিচয়ের ব্যক্তি কিংবা যেকোনো অবস্থানের মানুষের কণ্ঠস্বর চেপে ধরার আর কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের এই কণ্ঠস্বর প্রতিনিয়ত যারা দেশ পরিচালনা করছেন তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে এবং সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এই প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, দেশের নীতিনির্ধারকরা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে পাঁচ বছরের কাজ চার বছরেই সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন। সরকার প্রকৃতপক্ষে এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে কিনা এবং তারা প্রতিদিন কী কাজ করছে বা করছে না, তার ওপর নিয়মিত কড়া নজর রাখা হবে। এই নজরদারির জন্য একটি বিশেষ 'সংস্কার ট্র্যাকার' (রিফর্ম ট্র্যাকার) এবং তার অধীনে একটি 'ইশতেহার পর্যবেক্ষণ' (ম্যানিফেস্টো ওয়াচ) ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমেও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং এই প্রক্রিয়ায় সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান তিনি।
ড. দেবপ্রিয় দেশের নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের দৃষ্টি এখন আপনাদের ওপর নিবদ্ধ রয়েছে। জনগণ অনেক প্রত্যাশা এবং গভীর আস্থা নিয়ে আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে। কোনো অবস্থাতেই জনগণের এই আস্থা ও প্রত্যাশাকে হতাশায় রূপ দেয়া যাবে না। জনগণের এই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষার তাগিদ দেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১১০তম। হাতে সময় আছে পাঁচ বছরের কম। ফলে এখন দ্রুতগতিতে এগোতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার সবার জন্য বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, আর্থিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বাস্তবায়িত হচ্ছে। সরকার সবার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে চায়।