খুলনার রূপসা উপজেলার শ্রীরামপুরে ফখরুল শেখ (৩২) নামে এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে রূপসা ব্রিকস নামক ইট ভাটায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত ফখরুল উপজেলার নৈহাটি গ্রামের মমিন উদ্দিনের ছেলে ও উপজেলা যুবদল নেতা ফরহাদ হোসেনের ছোট ভাই।
স্থানীয়রা জানায়, নিহতের ভাই ফরহাদ ও শরিফুল রূপসা ব্রিকস ইটভাটা পরিচালনা করে আসছে। ফখরুল প্রতিদিনের মতো ইটভাটা ও মাছের ঘের দেখাশোনার জন্য মঙ্গলবার রাতে ওই ভাটায় যান। এর আগে ওইদিন বিকেলে ভাটার নাইট গার্ড তৈয়বের সাথে ফখরুলের বাগবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে তৈয়ব রাতে ডিউটিতে অনুপস্থিত ছিলেন। এমতাবস্থায় ভাটায় অবস্থানকালে রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ভাটার অফিস রুমের পাশে একদল অস্ত্রধারী ফখরুলের ওপর গুলি চালায়। একটি গুলি লাগে ঘাড়ে। আরেকটি ডান চোয়ালের নিচ দিয়ে মাথায় প্রবেশ করে। তবে কারা এবং কী কারণে ফখরুলকে হত্যা করেছে, তা পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি।
এদিকে ঘটনার পর পর খবর পেয়ে তার ভাই ফরহাদসহ আরও তিনভাই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুলিবিদ্ধ ফখরুলকে উদ্ধার করে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার সকালে মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ফরহাদ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
ফরহাদ জানান, আমার ভাই ফখরুল রূপসা কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা এবং বর্তমানে যুবদলের নেতা হিসেবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আমার ভাটার ক্যানেলে ও মাছ চাষ করতো। রাতে ওর মেয়ের ওষুধ কেনার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। রাস্তায় ওর সাথে দেখা হলে আমাকে জানায় ওষুধ নিয়ে ভাটা থেকে ঘুরে বাড়ি ফিরবে।
তিনি বলেন, রাত ১২টা ১১ মিনিটে ওর বন্ধু আমাকে ফোন করে বলে ভাই ফখরুলকে কারা যেন মারছে আপনি দ্রুত আসেন। খবর পেয়ে ছুটে গিয়ে দেখি অফিসের পাশে নিথর হয়ে পড়ে আছে।
রূপসা থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক মীর বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে থানা পুলিশ। লাশের সুরতহালে দেখা যায় তার শরীরে দুইটা গুলি লেগেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের ময়না তদন্ত শেষে দুপুরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গভীর রাতে তার ভাই ফরহাদ বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
