ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত কলম্বিয়ায় নিহত ১৬৪, নিখোঁজ ২৭০০

ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত কলম্বিয়ায় নিহত ১৬৪, নিখোঁজ ২৭০০

ফন্ট সাইজ:

৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত কলম্বিয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। দ্য মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে এখনো নিখোঁজ রয়েছে দুই হাজার ৭০০ জন। ইতিমধ্যে ভূমিকম্পের কারণে দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে কয়েক বছরের মধ্যে এটি অন্যতম বড় একটি ভূমিকম্প। এতে কয়েকশ’ ভবন ধসে পড়েছে। এসব ভবনের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে ১০৩ কিলোমিটার (৬৪ মাইল) গভীরে চকো প্রদেশে আঘাত হানে। পশ্চিম কলম্বিয়াজুড়ে শত শত মাইল বিস্তৃত এক বিশাল এলাকায় এই কম্পন অনুভূত হয়েছে।

নিহতদের অনেকেই কলম্বিয়ার কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলের শহর পেরেইরার বাসিন্দা। এছাড়া আশপাশের শহরগুলো এবং ভাইয়ে দেল কাউকা অঞ্চলও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্র ছিল চকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার গ্রামের কাছে। তবে স্থানীয় মেয়র লেওন ফাবিও মারিন মনকাদা জানান, অলৌকিকভাবে সেখানে কোনো প্রাণহানি বা আহতের ঘটনা ঘটেনি, যদিও গ্রামটির সঙ্গে যাতায়াতের সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সর্বশেষ দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পের আহতের সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়েছে। বিবিসি বলছে, ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার (৩৪ মাইল) দূরে অবস্থিত পেরেইরা শহরে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। দেশটির পাঁচটি শহরের হাসপাতালগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসামরিক নাগরিকরা খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রী এনে জীবিতদের সন্ধানে দমকলকর্মীদের সাহায্য করে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

দেশটির প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েইয়া জাতীয় দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছেন, যার মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ ক্ষমতা কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে বাজেট পুনর্বিন্যাসের ক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গত শুক্রবারই দায়িত্ব নেয়া নতুন এই প্রেসিডেন্ট এখনই এমন একটি ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন, যা তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নিহতদের সংখ্যা জানানোর পাশাপাশি তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, এক হাজার ৬০০ এর বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।