গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবি ফিরে এসেছে দার্জিলিংয়ে

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে নয় বছর পর ফের গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবি ফিরে এসেছে। পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের দাবিতে রোববার দার্জিলিং রেলওয়ে স্টেশন থেকে গোর্খা দুঃখ নিবারক সম্মেলন হল পর্যন্ত একটি মিছিলে শত শত মানুষ অংশ নিয়েছেন। অংশগ্রহণকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে দাবি জানানো হয় যে, তারা গোর্খাল্যান্ডকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাজ্য হিসেবেই চাইছেন। বর্তমান ‘গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ বা ‘বোড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল রিজিয়ন’-এর ধাঁচে কোনো ব্যবস্থায় তারা সন্তুষ্ট নন।
নয়া পার্টি নির্মাণ সমিতি নামের একটি গোষ্ঠী গোর্খাল্যান্ড সংকল্প নামে-এই মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছে।

মিছিলের আয়োজক গোষ্ঠীর নেতারা জানিয়েছেন, তারা তাদের দাবির বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে তিন মাসের সময়সীমা দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে কোনো সাড়া না পাওয়া গেলে জোরদার আন্দোলন করার হুমকি দিয়েছেন।
নতুন এই গোষ্ঠীর মুখ্য সমন্বয়ক সঞ্জয় থুলুং জানিয়েছেন, আমরা আগামী তিন মাস অপেক্ষা করবো। যদি গোর্খাল্যান্ড রাজ্য গঠনের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়া না হয়, তবে আমরা আমাদের আন্দোলন আরও তীব্র করবো। সঞ্জয় থুলুং ‘গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’-এর সাবেক নির্বাচিত সদস্য এবং বর্তমানে নামহীন এই গোষ্ঠীটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
থুলুং অতীতে বিমল গুরুংয়ের ‘গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা’র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এর আগে ২০১৭ সালে দার্জিলিংয়ে গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবিতে গুরুংয়ের নেতৃত্বে ১০৪ দিনের সাধারণ ধর্মঘট বা বন্ধ পালিত হয়েছিল।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি তাদের ইশতেহারে এই অঞ্চলের জন্য একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সেই বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহেরও শিগগিরই দার্জিলিং পরিদর্শনের কথা রয়েছে।
গত ১৮ই জুন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধিবেশনে গোর্খাল্যান্ড ইস্যুটির মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করে রাজ্যপাল রবি বলেছিলেন যে, রাজ্য সরকার এর একটি “স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান” খুঁজে বের করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

রাজ্যপাল তার ভাষণে আরও
বলেছিলেন, “সমস্ত অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের গোর্খাল্যান্ড সমস্যার একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে বিজেপি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তবে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, আলাদা রাজ্যের দাবি সরকার মানবেন না। বোরোল্যান্ডের মতো স্বয়ং শাসিত অঞ্চলের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন