সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত ১৫ বছর পর্যায়ক্রমে ফ্যাসিবাদ কায়েম করে দেশ জুড়ে হত্যার রাজত্ব গড়ে তোলা হয়েছিল। বর্তমান সরকারকেও সে একই ভুল ও ফ্যাসিবাদের পথে পা বাড়াতে দেখা যাচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগের মতো আবার ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা করলে তাদের মতো পালিয়ে যেতে হবে। গণমানুষের রায়কে উপেক্ষা করে অতীতে কেউ টিকে থাকতে পারেনি, তাই জনতার রায়কে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল সকাল ১০টায় গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নিহত ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের হত্যার বিচারের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। শফিকুর রহমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান সরকার গঠন হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামীর পাঁচজন নেতাকর্মীকে খুন করা হয়েছে। আমরা কি আবারো দেশে খুনের রাজত্ব কায়েম হতে দেখতে চাই? কখনোই না। তাই সরকারের প্রতি অনুরোধ, এই খুনের রাজনীতিতে ফুলস্টপ দিন। আর সামনের দিকে খুনের পথে পা বাড়াবেন না। দেশের মানুষ বিশেষ করে তরুণরা আর কোনো চোখ রাঙানিকে ভয় পায় না। হাজার চেষ্টা করলেও দেশে আর নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে দেয়া হবে না। রংপুর অঞ্চলের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক বৈষম্যের প্রেক্ষাপট টেনে জামায়াত আমীর বলেন, বৃহত্তর রংপুরবাসীকে বঞ্চিত করার অধিকার কারও নেই। যারা এ অঞ্চলকে বঞ্চিত করবে, তারা মূলত ‘গণদুশমন’।
বিরোধীদলীয় অবস্থান থেকে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন, মিডিয়াতে দেখেছি সম্প্রতি রংপুরে সরকারের বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন যে, জামায়াত ও জাতীয় পার্টিকে ভোট দেয়ার কারণে নাকি রংপুরবাসী পিছিয়ে থাকবে। এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে জনগণের ভোটের অধিকারের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। রাষ্ট্রের উন্নয়ন কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় তহবিল থেকে হয় না, তা হয় জনগণের করের টাকায়। তাই অবিলম্বে ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করে রংপুরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশের দাবি জানান তিনি। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি দেশে সাম্প্রতিক চাঁদাবাজি, দখলদারি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বলেন, গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে আসবেন না। জামায়াতকে নরম মনে করে ঘাড়ে পা দিলে শেষ পর্যন্ত তা সহ্য করা হবে না। ’২৪-এর বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল সমাজ থেকে সব ধরনের ময়লা ও আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য। বর্তমানে যারা চাঁদাবাজি ও দখলদারির নেশায় মত্ত হয়ে মানুষ হত্যা করছে, তারা সমাজের আবর্জনা। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসন কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের অনুগত বাহিনী নয়। প্রশাসন হলো দেশের ও জনগণের সম্পদ। তাদের দায়িত্ব সঠিক ও নিরপেক্ষভাবে পালন করতে হবে। ঝাপটা দিয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনুন। আপনারা দায়িত্ব পালন না করলে জনগণ বাধ্য হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তার দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে। আমরা এক ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়ে আরেক ফ্যাসিবাদকে স্বাগত জানাতে রাজপথে নামিনি। প্রয়োজনে দেশের প্রতিটি নাগরিক ও যুবসমাজকে সঙ্গে নিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আরেকটি বিপ্লব সংঘটিত করা হবে। সমাবেশের আগে তিনি সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ায় নিহত ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিনের কবর জিয়ারত করেন এবং শোকার্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গভীর সমবেদনা জানান।
গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ওয়ারেছের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিন, বগুড়া জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার, গাইবান্ধা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আমীর আব্দুল করিম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, সাঘাটা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা ইব্রাহিম হোসাইন ও সেক্রেটারি আব্দুল গফুরসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
