জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে স্থাপিত ভাস্কর্য অপসারণের দাবি তুলেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সোমবার বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো সংগঠনটির আমীর শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজিদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়। তাদের দাবি, জুলাই জাদুঘরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের অবয়বে ভাস্কর্য স্থাপন শরিয়তের বিধানের চরম লঙ্ঘন এবং আলেমদের আত্মত্যাগের সঙ্গে এক ধরনের বৈপরীত্য ও উপহাস। ইসলামের স্পষ্ট বিধান বা শরিয়তের দৃষ্টিতে যেকোনো মানুষের ভাস্কর্য নির্মাণ সম্পূর্ণ হারাম ও অবৈধ। ব্যক্তি, রাজনৈতিক পরিচয় বা অবদান যত বড়ই হোক না কেন, শরিয়তের বিধানকে তোয়াক্কা না করে মনগড়া কিছু করার সুযোগ কারও নেই।
উদ্বেগ প্রকাশ করে হেফাজত নেতারা বলেন, যারা জীবনভর ইসলামের আকিদা, ঈমান ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষার লড়াইতে প্রাতঃস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের স্মৃতি রক্ষার অজুহাতে ভাস্কর্য বানিয়ে ইসলামী বিধানের চরম বরখেলাপ করা কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না। যে আলেম সমাজ অতীতে এই ভাস্কর্য ও মূর্তি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন ও কারা নির্যাতন ভোগ করেছেন, আজ স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে তাদেরই অবয়বে ভাস্কর্য বানিয়ে অপমান করা হচ্ছেÑ এটি একটি চরম মর্মান্তিক ও নজিরবিহীন বৈপরীত্য! তাদের মতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক বিপ্লব, বীর শহীদ ও আন্দোলনকারীদের মহান ত্যাগকে জাতি অবশ্যই আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণে রাখবে। কিন্তু সেই স্মৃতি রক্ষাকে কোনোভাবেই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও ইসলামী মূল্যবোধের মুখোমুখি দাঁড় করানো যাবে না। বিবৃতিতে ভাস্কর্যকে ‘অশুভ সংস্কৃতি’ আখ্যা দিয়ে সরকারের কাছে দু’টি প্রস্তাব তুলে ধরেছে হেফাজত। এগুলো হলোÑ আন্দোলনের ‘সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস’ ছড়িয়ে দিতে জাদুঘরে লিখিত ইতিহাস, প্রামাণ্য দলিলপত্র ও বিপ্লবী নথিগুলো সংরক্ষণ করে তা প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা। ২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ও ২০২১ সালে ‘মোদিবিরোধী আন্দোলনে হত্যাসহ’ ইসলামের জন্য আলেম ও তৌহিদী জনতার ত্যাগ এবং ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের সত্য ইতিহাস জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা। বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কোনো গড়িমসি না করে জুলাই জাদুঘর থেকে ভাস্কর্যগুলো অনতিবিলম্বে অপসারণের জোর দাবি জানানো হচ্ছে। অন্যথায় আলেম সমাজ তাদের নীতি ও আকিদা রক্ষায় নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না।
