ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসভঙ্গের’ অভিযোগ

উয়েফা, এএফসি ও কনকাক্যাফের তোপ

ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসভঙ্গের’ অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং এর সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আরেকবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইউরোপিয়ান (উয়েফা), এশিয়ান (এএফসি) এবং উত্তর, মধ্য ও ক্যারিবিয়ান (কনকাক্যাফ) ফুটবল কনফেডারেশন। ফিফার এমন একতরফা পদক্ষেপকে ‘বিশ্বাসভঙ্গ’ ও ‘চাতুরী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ফুটবলের শীর্ষ নেতৃত্বের সততা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে এই তিন শক্তিশালী কনফেডারেশন।

সোমবার প্রকাশিত ফুটবলের বৃহত্তর পরিবারের উদ্দেশে লেখা এক যৌথ খোলা চিঠিতে ফিফা সভাপতির কড়া সমালোচনা করে বলা হয়, পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল বিচারবুদ্ধির চরম ব্যর্থতা। ইনফান্তিনো এমন আচরণ করছেন যেন মনে হয় পুরো ফুটবল খেলাটি তারই ব্যক্তিগত সম্পত্তি।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারী কনফেডারেশনগুলোর প্রধানরা উল্লেখ করেন, ‘ফুটবলে নেতৃত্ব কোনো ব্যক্তিগত ক্ষমতা বা অধিকার নয়, এটি সেবার একটি দায়িত্ব। কিন্তু যখন প্রতারণার মাধ্যমে সেই বিশ্বাস ভাঙা হয় এবং কোনো ব্যক্তি নিজের স্বার্থকে সমষ্টির চেয়ে ওপরে স্থান দেন, তখন সেই দায়িত্ববোধ বিপন্ন হয়।’
জানা গেছে, ইনফান্তিনোর এই একরোখা আচরণের বিরুদ্ধে নিজেদের সুরক্ষার অংশ হিসেবে বিকল্প প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রাথমিক আলোচনাও শুরু করেছে এই তিন সংস্থা। আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ইনফান্তিনোকে আর না চেয়ে তাকে সম্মানজনকভাবে পদত্যাগের সুযোগ দিতে চায় তারা। তবে ফিফা সভাপতি ইতিমধ্যেই তার ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) প্রস্তাব নিয়ে ক্ষমা চাইলেও, তা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছে কনফেডারেশনগুলো।

চিঠিতে আরও বলা হয়, যথাযথ পর্যালোচনার সুযোগ না রেখে তাড়াহুড়ো করে এই প্রস্তাব চাপিয়ে দেয়া হয় কেবল কড়া নজরদারি এড়ানোর অসৎ উদ্দেশ্যে। ফিফা বিশ্বকাপ ‘বিক্রির’ এই অপচেষ্টা কেবল পদ্ধতিগত ভুল নয়, বরং এটি ফুটবল পরিবারের সঙ্গে মৌলিক বিশ্বাসভঙ্গ। তাই ফিফার নিজস্ব প্রশাসনের পরিবর্তে ‘একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের’ মাধ্যমে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে তারা।

চিঠির শেষাংশে বলা হয়, ‘যেখানে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা থাকার কথা, সেখানে কেবল নীরবতা বিরাজ করছে। ফুটবলের শক্তি সর্বদা তার ঐক্যে নিহিত। আমরা এমন নেতৃত্বের আহ্বান জানাই যা ফুটবলকে শাসন করবে না, বরং সেবা করবে।’ বিশ্ব ফুটবলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন