মধ্যপ্রাচ্যে ২০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এখনো মোতায়েন রয়েছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর করতে সেগুলো কাজ করছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলোচনা এখনো ‘আংশিক’ পর্যায়ে রয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে মার্কিন বাহিনী অন্তত ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে, দুটি জাহাজ অচল করে দিয়েছে এবং আরও দুটি জাহাজে উঠে তল্লাশি চালিয়েছে।
সেন্টকমের পোস্টে বলা হয়, ‘ইউএসএস রস (ডিডিজি-৭১)-এর নাবিকেরা জাহাজের ব্রিজে দায়িত্ব পালন করছেন। রস হলো মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন ২০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের একটি। এসব জাহাজ ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অবরোধ কঠোরভাবে কার্যকর করাসহ বিভিন্ন সামরিক মিশনে নিয়োজিত রয়েছে।’
সেন্টকম জানিয়েছে, ৯ আগস্ট পর্যন্ত ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন, দুটি অচল এবং দুটি জাহাজে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খুলে দেয়ার আগে তেহরান বেশ কিছু শর্ত পূরণের দাবি জানিয়ে আসছে।
পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা সরু এই জলপথ দিয়ে শান্তিকালে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এটি ডনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে চলমান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উত্তেজনাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা কোথায় দাঁড়িয়ে
ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নতুন জাহাজ চলাচলের পথ নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে তারা। তবে প্রণালিটি পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বরাত দিয়ে দেশটির মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এসব শর্ত পূরণ করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিলে নতুন জাহাজ চলাচলের পথগুলো কার্যকর হবে।
আরাঘচি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনা চলছে না। ওয়াশিংটন জুনে স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি লঙ্ঘন করছে বলে তেহরানের অভিযোগ। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসবে না ইরান।
তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে।
অন্যদিকে, অ্যাক্সিওসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে বলেন, ওয়াশিংটন বিষয়টি ‘লো-কিইং’ করছে। তার ভাষায়, ‘আমরা তাদের সঙ্গে শুধু সেমি-নেগোশিয়েট করছি। আমরা শুধু ইরানকে দেখছি- তাদের ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি এবং তাদের হাতে কোনো অর্থ নেই।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়টিও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার শর্তগুলোর একটি।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার সচিব মোহাম্মাদ বাঘের জোলঘাদরও তেহরানের কয়েকটি শর্ত তুলে ধরেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে,
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের নতুন হুমকি বন্ধ করা; ইরান এবং লেবানন, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন ও ইরাকে থাকা তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধ করা; উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা; ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া; বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করে দেয়া।
ইরানের এসব শর্ত এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও উদ্বেগ বাড়ছে।
